Tue, 11 Dec, 2018
 
logo
 

কাস্তে মার্কায় ভোট চাইছেন কমরেড হাফিজুল ইসলাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে কাস্তে মার্কায় ভোট চাইছেন বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড হাফিজুল ইসলাম।

সোমবার (১৯ নভেম্বর) গণমাধ্যমের কাছে প্রেরিত এক বার্তায় এ কথা লেখা ছিলো। বার্তাটি লাইভ নারায়ণগঞ্জের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

প্রিয় এলাকাবাসী,
জননেতা হাফিজুল ইসলাম ধুপতারা ইউনিয়নের নতুন বাটি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান। যিনি অত্র অঞ্চলে সর্বজন শ্রদ্বেয় ব্যাক্তি হিসাবে খ্যতিমান। এই পরিবার শিক্ষা বিস্তারে অগ্রগামী ভূমিকার জন্য আলোচিত। তার বড় ভাই জনাব মঞ্জরুল ইসলাম একসময় ঢাকা বিশ্ববিধ্যালয় ছাত্র-ছাত্রী সংসদেও নির্বাচিত সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে ২ বার সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন।
প্রিয় আড়াইহাজারবাসী,
জননেতা হাফিজুল ইসলাম কিশোর বয়স থেকেই একজন সচেতন নাগরীক। ১৯৮০-৮১ সাল থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কর্মকান্ডে যুক্ত হন। আশির দশকে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এ আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশী নির্যাতনসহ দীর্ঘদিন কারা ভোগ করেন।
১৯৮৪-৮৬ সালে ছাত্র ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় তিনি ব্যাপক ত্রান ত্রৎপরতায় অংশনেন। এই সময় যুব ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা খাবার স্যালাইন প্রকল্প পরিচালনায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জোটের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
৯০ এর দশকে তিনি বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন তিনি যুব আন্দোলন যুক্ত থাকেন। ছাত্র যুব আন্দোলনের সাথে সাথে শ্রমিক আন্দোলনে জড়িয়ে পরেন।
২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে ১১ দলিয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৩ সালে গার্মেন্টস শ্রমিক অভ্যূত্থানে তিনি সক্রীয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ৪ বার গ্রেপ্তার হন এবং শ্রমিকরা আন্দোলন করে মুক্ত করেন।
২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নারায়ণগঞ্জ শহরে গরীব মানুষের বসতি বস্তি, হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন গড়ে তোলেন। এছাড়া নির্মাণ, ডেকরেটার, পরিবহন, হোসিয়ারী, গামের্ন্টস, রিক্সা-ভ্যানসহ সকল শ্রমিকদের আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

কমরেড হাফিজুল ইসলাম ২০০৯-১৮ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা টিইউসি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তেল-গ্যাস বন্দর বিদ্যুৎ জাতীয় সম্পদ রক্ষা, হত্যা, গুম, চাদাবাজী বিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘদিন যাবৎ যুক্ত আছেন। ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আন্দোলনে সাড়াদেশে এখনো সক্রীয়। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন আসছেন। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি নারায়ণগঞ্জ ডেকোরেটর শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা, রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।
পরিবেশ আন্দোলনে ভূমিকায় অত্র এলাকার সোনাখালি খাল ও ব্রক্ষপুত্র নদ রক্ষা আন্দোলন গড়ে তোলেন। এছাড়া বর্তমানে জেলা শ্রমিক কর্মচারি সংগ্রাম পরিষদ ও বামগণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রিয় ভাই বোনেরা দেশে সত্যিকার গণতন্ত্র কায়েম করতে হলে মুক্তি যুদ্ধেও চারনীতির কথা আমাদের মনে রাখতে হবে। আজ দেশে এই চেতনারই বিনাশ ঘটেছে। আসুন আমরা সকলে মিলে আবার একটি ‘৭১ গড়ে তোলার পূর্ব মুহুর্তে জননেতা হাফিজুল ইসলামকে কাস্তে (কাচি) মার্কায় ভোট দিয়ে জয়জুক্ত ও জাতীয় সংসদে গরীব মেহনতী মানুষের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব প্রেরণের উদ্যোগ নেই, জয় সমাজতন্ত্র।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম