Sat, 15 Dec, 2018
 
logo
 

শীতের পোশাকে গরম না.গঞ্জের বাজার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ডায়াবেটিসের চিকিৎসা নিতে গজারিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন রাহেলা বেগম। পথে হাজারও পোশাকের মধ্যে থেকে প্রিয় নাতি নূর নাফিজের জন্য পছন্দ করছিলেন শীতের কাপড়। শেষ পর্যন্ত পেয়েও যান। এরপর চলে দর কষাকষির পর্ব।

অন্যদিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছোট ছেলে আরাফাতের জন্য শীতের কাপড় খোঁজ করছিলেন হোসিয়ারী কর্মী সেলিনা আক্তার। পোশাকের ত্রুটি জহুরীর মতোই দেখে একটার পর একটা পাল্টা ছিলেন। কিছু ক্ষণপর বাড়ির পথে হাটতে লাগেন ওই নারী।

 শীতের পোশাকে গরম না.গঞ্জের বাজার

শুধু রাহেলা বেগম কিংবা সেলিনা আক্তারই নয়, তাদের মতো হাজারও রাহেলা এখন প্রতিদিনই নিজের স্বজনদের জন্য খোঁজে যাচ্ছেন।

রাহেলা বেগম বলেন, চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফির ছিলাম। বিক্রেতার হাক ডাকে মনে পড়ে গেল বাসায় রেখে আসা নাতির কথা। দামও কম। তাই দুই পিছ শীতের পোশাক নিয়ে নিলাম।

সেলিনা আক্তার বলেন, যে টাকা কাজ করি, সে টাকায় তো খাবারই হয় না। পোশাক কিনমু কই থেকে। তাই ফুটপাতের পোশাক পড়ে কোন মতে দিন পার করি।
 শীতের পোশাকে গরম না.গঞ্জের বাজার
দিনের শুরুটা কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকলেও শীত কি? এ প্রশ্নের উত্তর হয়তো এখনো দিতে পারবে না নারায়ণগঞ্জবাসী। কিন্তু এরই মধ্যে ফুটপাতে শীতের পোশাক বিক্রি শুরু হয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর ২নং রেল গেইট সংলগ্ন ফজর আলী ট্রেন সেন্টারের সামনের সড়কের ৫ স্থানে স্তপ করে রাখা হয়েছে শীতের পোশাক। পাশে বসে নানা ভাবেই হাক-ডাক দিচ্ছিলেন বিক্রেতা। আর ক্রেতারা নিখুদ ভাবেই দেখছিলেন পোশাক গুলোকে। অনেকেই পছেন্দের পোশাক দাম দরও করছিলেন। কেউ আর কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন স্বজনদের জন্য।

 শীতের পোশাকে গরম না.গঞ্জের বাজার

এ সময় পোশাক বিক্রেতা জামাল উদ্দিন বলেন, পোশাক গুলো বিদেশী। জাহাজের মাধ্যমে চট্টগ্রামের আমিন মার্কেটে আসে। এরপর গাইড হিসেবে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা দরে কিনতে হয় তাদের। গাইডে ৪ ‘শ থেকে ৫‘শ পোশাক থাকে। ভালো পোশাক থাকলে ১‘শ টাকাও বিক্রি করা যায়। তবে ১০ থেকে ৫০ টাকা মূল্যের পোশাকই বেশি থাকে।

অন্যদিকে দেলোয়ার হোসেন নামের এক বিক্রেতা বলেন, ৩০ বছর ধরে শীতের মৌসুমে এই পোশাক বিক্রি করি। বছরের অন্য সময় শার্টের দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।

পাশেই বসা রিপন নামের আরো এক বিক্রেতা বলেন, আজই প্রথম শীতের পোশাক নিয়ে বসেছি। এখন বলতে পারি না কেমন বিক্রি হবে। অন্যান্য জেলায় যে ভাবে শীত নেমেছে, এখনও নারায়ণগঞ্জে তেমন শীত নামেনি। শীত নামার সাথে সাথে বিক্রিও বাড়বে বলে আশা করছি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম