Sat, 21 Oct, 2017
 
logo
 

‘পুলিশরা আমার পরিবার, তাদের ব্যাতীত ঈদ ভাবতে পারিনা’

রফিকরনি, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ জেলার আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে রাখার প্রধান কর্তা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। কর্মক্ষেত্রে যোগদানের পর থেকেই ব্যাস্ততার কারণে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোন উৎসবই উদ্যাপন করতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

তাহলে পুলিশ সুপার কিভাবে উদ্যাপন করেন তার ঈদ উৎসব? কিভাবে কাটে ঈদের দিনগুলো? অত্যন্ত ঈদের দিন সন্তানরা পায় কি তার বাবা কে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে? নাকি এদিনও ব্যাস্ত থাকেন পুলিশ প্রশাসনের এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা? মনে পড়ে কি ঈদে কাটানো শৈশবের কোন স্মৃতি? নাকি পরিবারের সদস্যদের ঈদের নতুন পোশাকও কিনে দেয়ার সময় পান না? তাহলে কিভাবে ঈদ উদ্যাপন করেন এই কর্মকর্তা?

‘পুলিশরা আমার পরিবার, তাদের ব্যাতীত ঈদ ভাবতে পারিনা’

লাইভ নারায়ণগঞ্জকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে পাঠকদের কৌতুহলী এমনই অনেক প্রশ্নের উত্তর জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। তিনি জানান, পনেরো মাস যাবৎ নারায়ণগঞ্জ জেলায় কর্মরত আছেন কিন্তু মাত্র ৫ দিন ছুটি কাটিয়েছেন। গত দশ বছরের মত এবার ঈদের দিনেও থাকছে কর্মব্যস্ততা।

আমি মনে করি সকল পুলিশ সদস্য আমার পরিবার। তাই তাদের কে ছেড়ে ঈদ করাটা আমি ভাবতে পারিনা। এ বছর স্ত্রী সন্তানদের ঈদের কেনা-কাটা করতে আমি যেতে পারিনি। মেয়েরা তার মায়ের সাথে শপিং করেছে।

ঈদের দিনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার বলেন, ঈদের দিন সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সকলের সাথে ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করবো। পুলিশ সদস্যদের নিয়ে একসাথে সেমাই খাবো। তারপর পরিবারের সাথে সময় কাটাব এবং বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়ন করবো।

শৈশবের ঈদগুলোর স্মৃতিচারণ করে ড. খন্দকার মহিদ বলেন, আজকের পুলিশ সুপারের ঈদের দিনের সাথে শৈশবের ঈদ একটুও তুলনা হয়না। শৈশবের ঈদে অসাধারণ আনন্দ করতাম।
ঈদে গ্রামের বাড়ি বরিশাল যাওয়া হয়না অনেকদিন। গ্রামের বাড়ির ঈদের আনন্দ আর কোথাও নেই। আমার মনে পরে বিশেষ করে শীতে ঈদ হত যখন। তখন ঈদগাহ মাঠে পাটি (গ্রামের হোগলা) এবং তার উপরে সাদা কাপড় বিছানো হতো। আর সকালে ঘাসের ডগায় থাকা শিশির বিন্দুতে পাটি এবং সাদা কাপড়ের কিছু অংশ ভিজে যেত।

আমাদের ঈদ গাহ্ মাঠের ঠিক মাঝখানে একটি শিমুল গাছ ছিল। সবকিছু মিলিয়ে ঈদের সকালের্ এমন অপরুপ দৃশ্য তৈরি হত, যা আমি পৃথিবীর কোথাও এমন দৃশ্য দেখতে পাইনি। এমন একটা দৃশ্য হয়তো বর্ণনা করা সম্ভব নায়।

আমার বাবা চাকুরি করতেন। ঈদের আগে বাবার কিনে আনা জামা কাপড়ের জন্য অপেক্ষায় থাকতাম। সকালে উঠে পুকুরে দল বেঁধে গোসল করতাম। নতুন জামা পড়ে নামাজে যেতাম।

ব্যাক্তি জীবরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন দুই কন্যার পিতা। বড় মেয়ে তোর্রসা সাফাত মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে ৪র্থ শ্রেণীতে আর ছোট মেয়ে পার্রিসা সাফাত ২য় শ্রেনীতে অধ্যয়নরত। স্ত্রী ডাঃ ফাতেমা জিয়াসমিন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। বাবা-মা সাথে থাকেন । বাবা- মা ,দুই কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার।

পরিবারে ছয় ভাই-বোনের মধ্যে আমি সেজো। বড় ভাই ইনজিনিয়ার| বড় বোন বিদেশে থাকেন। আর ছোট ভাই বার্মিংহাম সিটি ইউনির্ভাসিটিতে প্রফেসার হিসেবে দ্বায়িত পালন করছে। ছোট দু-বোনের মধ্যে একজন শিক্ষক এবং অপরগন গৃহীনি।

জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন ঈদ-উল-ফিতরের ঈদ শুভেচ্ছ জানিয়ে লাইভ নারায়ণগঞ্জ ডট কমের পাঠকদের উদেশ্যে বলেন, লাইভ নারায়ণগঞ্জ ডট কম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে আসছে এবং আগামীতেও এ ধারাবাহীকতা বজায় রাখবে। আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন লাইভ নারায়ণগঞ্জ পরিবারকে। আমি লাইভ নারায়ণগঞ্জ ডট কমের উত্তরউত্তর সফলতা কামন করছি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম