Tue, 17 Jan, 2017
 
logo
 

একপায়ে জীবন সংগ্রাম : প্রবল মনোবল ও আত্মবিশ্বাসে রবিন এগিয়ে যেতে চায়

গোলাম রাব্বি, স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ ডট কমঃ মর্মান্তিক এক সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘোর অন্ধকারে ঢেকে গেছে হুসিয়ারী কর্মী রবিন হোসেনের পুরো পরিবার। ট্রেন দূর্ঘটনায় রবিনের এক পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে সারা জীবনের জন্য।

৬ সদস্যের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি রবিন পঙ্গু হওয়ায় পর থেকে তার অন্ধ বাবা, পিঠাবিক্রেতা মার চোখে শুধুই কান্না। তারপরও ভেঙ্গে পরেননি রবিন হোসেন। হোসিয়ারীর মেশিনে আর কোন দিন পা রাখতে না পারলেও প্রবল মনোবল আর আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে রবিন হোসেন এক পায়ে চালিয়ে যাচ্ছে তার জীবন সংগ্রাম।
গত ২০০৫ সালের চাষাড়া রেলস্টেশনের ঘটনা। রবিন হোসেন (৩০) কর্মস্থল থেকে ফতুল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। কাজের শেষে আয়রোজগার করে পিতার-মাতার সঙ্গ মিলিত হবে। ট্রেনটি চাষারার প্লেটর্ফমে পৌঁছার পর ঐদিন নারায়ণগঞ্জে সমাবেশে যোগদান কারি নেতা কর্মীরা ট্রেনটিতে উঠায় রবিন হোসেন নিয়ন্তন হারিয়ে ফেলে এবং ট্রেন থেকে নিচে পড়ে যান। কিন্তু ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যায় রবিন হোসেন। প্রাণে বাঁচলেও তার ডান পা’টি ভেঙ্গ যায়। পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার ডান পা’টি কেটে ফেলতে বাধ্য হয়। ওই দুর্ঘটনায় রবিন হোসেনের পিঠাওলি মা ও অন্ধ বাবার যা গচ্ছিত টাকা ছিল তা শেষ হয় এবং ধারকর্জ করে চিকিৎসা করানো হয়।

মুন্সগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরের বিশাল পদ্মানদীর কারনে বিচ্ছিন্ন দামলা গ্রামে রবিন হোসেনের বাড়ি। বার বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে এমনিতেই ভূমিহীন পরিবার হয়েছেন তারা। রবিন হোসেনের বর্তমান মা, অন্ধবাবা, স্ত্রী ও তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বড় ছেলের বয়স সাড়ে চার বছর সে আগামি বার স্কুলে ভর্তি হবে। তার ছোট একমেয়ে ১ বছর বয়স। রবিনের মা বলেন, ‘একসিডেন্ট হওয়ার রবিন পঙ্গু হয়া গেছে। তারপরও এখন পরিবারের দুঃখ দেখে এক পা দিয়া রিক্সা চালায় রবিন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষ আনানেয়ার কাজ করেন ছেলেটা।’ তিনি আরো জানান, ‘ছেলেটায় তো কয় হাজারো কষ্ট হলেও বাচ্চাগ লেখাপড়া করাইবো। কিন্তু খরচ তো দিবার পারবো না।’

সম্প্রতি রবিন হোসেনের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার খরচ মেটাতে আমাদের সব শেষ হয়ে যায়। ঋৃনে জর্জারিত হয়ে পড়ি। এ অবস্থায় অনেকেই আমাকে ভিক্ষা করতে পরামর্শ দেয়। কিন্তু ভিক্ষা করতে আমার লজ্জা হয়। তাই ওই কাজটিতে যাইতে চাই নাই।’ তিনি আরো বলেন, ফতুল্লায় আইসা পরিচয় হয় লিছান ভাইয়ের সাথে তিনি আমারে পঙ্গু হওয়ার পর কিছু দিন আগে একটি বেটারি চালিত রিক্সা কিনেদেন। ফতুল্লার সোনালি ব্যাংক থেকে তিন মাস পরপর ১ হাজার ৫শ’ টাকা পাই ও লিছান ভাই রিক্সার জমা কম নেয়। এভাবে চলি আর ঋৃন শোধ করি। এক পায়ে কিভাবে রিক্সা চালান এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথমে একটু সমস্যা হয়েছিল। এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। কোনো সমস্যা হয় না। আমার ইচ্ছা সন্তানদের লেখাপড়া করিয়ে বড় করব।’

এ বিষয়ে ফতুল্লা রেলস্টশন এলাকার লিছান জানান, দুর্ঘটনার পর খুবই অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারটি। এ অবস্থায় পরিষদ থেকে তিন মাস পর পর মাত্র ১ হাজার ৫শ টাকা পায় রবিন। তার এই আল্প অর্থে সংসার চলেনা বলে তাকে একটি রিক্সা কিনে দেই ।  ও’ যে ভাবে এক পায়ে রিক্সা চালিয়ে সন্তানদের লেখা পড়া করাবে বলে ভাবছে আবার সংসারও চালাচ্ছে তা এখন এলাকায় দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।

রবিন হোসেনের সমস্যার কথা জানতে চাইলে রবিন হোসেন বলেন, সরকার থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকা পাই তিন মাস পর পর কিন্তু এই টাকাতে কি করে ৬ জন চলি। তাই আমি পরিশ্রম করে খাই তবে অটরিক্সা নিষিদ্ধ থাকার পরও চালাই বলে আমার পরিস্থিতি দেখেও চার বার আমার রিক্সার মিটার পুলিশ ভেঙ্গে ফেলেন। আমাদের পঙ্গুদের জন্য কি কাজের কোন ব্যবস্থা নাই।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪