Mon, 26 Jun, 2017
 
logo
 

যাদের আত্নত্যাগ আর সাহসিকতায় পেলাম স্বাধীন দেশ ॥ সেই বীরমুক্তি যোদ্ধা বিশ্বনাথ সাহা’র স্থায়ী বাসস্থান চাই

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ ডট কমঃ শুরু হলো বাঙালির বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি নিজস্ব মানচিত্রের একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ পায়।


১৯৭১ সালের ১লা ডিসেম্বর  মুক্তিবাহিনী সিলেটের শমসেরনগরে আক্রমণ চালিয়ে টেংরাটিলা ও দুয়ারাবাজার শত্রুমুক্ত করে। একাত্তরের ডিসেম্বর মাস থেকেই মুক্তিপাগল বাঙালিরা বুঝতে পারে তাদের বিজয় সুনিশ্চিত। যাদের কারণে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও আমরা পারিনি তাদেরকে একটি সুন্দর বাসস্থানের ব্যাবস্থা করে দিতে। যাদের কারণে আমরা জাতি হিবেবে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পেরেছি এবং নির্ধিদ্বিধায় বলতে আমরা স্বাধীন। তাদের এখনও বাংলাদেশের আন৭াচে কানাঁচে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তেমনি একজন মুক্তিযোদ্ধা বিশ্বনাথ সাহা। লাইভ নারায়ণগঞ্জ ডটকম এর সাথে কথা হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন ও বর্তমান বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে। এই বীর বর্তমানে ১৮/১ ডিএন রোড, নন্দীপাড়া এলাকায় অস্থায়ীভাবে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ৫৫ কে.বি.সাহা রোড, নারায়ণগঞ্জ। তিনি এখন ভূমিহীন অবস্থায় আছেন, তাঁর নিজস্ব কোন ভূমি নেই। অথচ তাঁর কারণেই আমরা একটি স্বাধীন ভূমি পেয়েছি। সংসার জীবনে তিনি ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। বর্তমানে বিশ্বনাথ সাহা কাচাঁ সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে বিশ্বনাথ সাহা চট্টগ্রামে কাপড়ের দোকানে চাকরি করতেন। কাপড়ের দোকানে চাকরিরত অবস্থায় পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনী দ্বারা তিনি শারিরীকভাবে নির্যাতিত হন। উর্দূ ভাষা জানার কারণে পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনীর কাছ থেকে ছাড়া পান। তারপর তারা ৭-৮ জন মিলে বান্দরবন পাহারের উপর দিয়ে ভারত চলে যান। বর্ডার পার হওয়ার সময় ডাকাতের হাতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। কপাল ভাল থাকায় গুলি মাথা ঘেঁষে ভিতরে ঢুকেনি। রক্ত মাখা কাপড় নিয়ে ভারতীয় ক্যাম্পে আশ্রয় নেন বিশ্বনাথ । আসাম লোহারবন এলাকায় ভারতীয় ক্যাম্পের সৈন্যরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং সেখানেই প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণে ভাল করায় তাকে সেকশন কমান্ডার করা হয়। আসাম থেকে আগরতলা ট্রাকে করে একটি রাইফেল ৫০ টি গুলিসহ ২ নং সেক্টর মেজর হায়দায়দারের নেতৃত্বে বাংলাদেশে আসেন।
বাংলাদেশে আসার পর ফতুল্লা থানার মীরগঞ্জ এলাকার গ্রুপ কামান্ডার মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেন। বিশ্বনাথ সাহার প্রথম অপারেশন ছিল ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের ১ম সপ্তাহে একজন রাজাকারকে বেনেটের সাহায্য মারা।
যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং  অপারেশনগুলোতে সাহসিকতার পরিচয়ও দেন।
বিশ্বনাথ সাহা নবম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি ২২ বছরের যুবক। তাঁর বাংলাদেশী গ্রেজেট নং ১৯৮ এবং ভারতীয় গ্রেজেট ১২৪০। দেশ স্বাধীন করার পর মুহুর্তের অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন করার পর আমার কাছে মনে হয়েছে আমি পেশায় যাই হই না কেন আমরা এখন স্বাধীন। আমরা স্বাধীন জাতি। আমরা এখন পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত।
বর্তমানে তার চাওয়া পাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি চাই আমার একটি স্থায়ী বাসস্থান হোক। যাতে করে আমি ও আমার পরিবার সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারি। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। আমার এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে একটাই চাওয়া তারা যেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে সুযোগ সুবিধা আসে তা সঠিক ভাবে পাই। আমার বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে সঠিকভাবে যাচাই বাছাই করে যেন আমাকে সরকারি সুযোগ সুবিধাগুলো প্রদান করে। এবং বাকি জীবনটা সুন্দরভাবে পার করে যেতে পারি।  
বিশ্বনাথা সাহা আরো বলেন, আমি চাই একটি সুন্দর দেশ যেখানে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে। আমার দেশের প্রত্যেক মানুষ ভাল হয়ে যাবে, যাদেরকে দেখলে মনে হবে আমরা এমন একটি দেশই চেয়েছিলাম।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪