Tue, 12 Dec, 2017
 
logo
 

আন্দোলনে গনমানুষের সম্পৃক্ততা নেই ॥ নাশকতা করাই তাদের আসল উদ্দেশ্য

স্টাফ করেসপন্ডেন্টঃ
একজন আইনজীবি হিসেব তার পরিচিতি ব্যাপক। নারায়নগঞ্জ আদালত অঙ্গনের প্রিয় মুখ তিনি। মেধা, প্রজ্ঞা আর বিচক্ষনতার দৃষ্টিকোন থেকে তিনি নারায়নগঞ্জের সর্বত্র সমাদৃত।

আইনজীবী ছাড়াও তার বড় পরিচয় তিনি একজন রাজনীতিবিদ। ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করে দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠিনক সম্পাদকের।  তার রয়েছে সততা আর একনিষ্টতা। শুধু আপনজনই নয়, নারায়নগঞ্জের সাধারণ মানুষের দুর্দিনেও তিনি এগিয়ে এসেছেন অতীতে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন আপনকন্ঠে। প্রতিকার করেছেন তিনি সাধ্যমতো। তিনি এড. আনিসুর রহমান দিপু।
চলমান সহিংসতা কেন ? আর তা রোধে কি করণীয় এব্যাপারে খোলামেলা কথা বললেন লাইভ নারায়নগঞ্জ ডটকমের সাথে-
এড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, তথাকথিত বিরোধী দল ভাড়াটে খুনি দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের আন্দোলন জনগণের কোন উপকারের জন্য নয়। নাশকতার করাই তাদের আসল উদ্দেশ্য। সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েই তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ করে ক্ষমতায় আসতে চায়।  অশুভ শক্তি আর অশুভ পাঁয়তারা করে বেশি দিন টিকে থাকা যায় না।
তিনি বলেন, বিরোধী দল(বিএনপি-জামায়াত জোট) একটি সন্ত্রাসী দলে পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কখনোই জনগণের কল্যাণে আসে না।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কিছু দিনের মধ্যেই বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে। আশাবাদের পেছনে তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি সারা দেশে ৩’শ স্কুল পড়িয়ে দিয়েও কিছু করতে পারেনি। গণআন্দোলন জনগণের সম্পৃক্ততা লাগে, তাদের গণআন্দোলনে এক পার্সেন্ট সাধারণ মানুষেরও কোন সম্পৃক্ততা নেই।
ওয়ান ইলেভেনের সময় রাজনৈতিকবিদদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষকে সরানোর পাঁয়তারা করে ছিল। সেই একই চক্র আবার রাজনীতিবিদদের কাছে রাজনীতি দূরহ করে তুলেছে। তৃতী য় পক্ষটি সুযোগ খুঁজছে রাজনীতিবিদদেরকে জনগণের কাছে হেয় করার জন্য। এবং খালেদা জিয়ারও ইচ্ছা তৃতীয় পক্ষ ক্ষমতায় নিয়ে যাক। বাস, স্কুল ও পণ্যবাহী যানবাহন পুড়িয়ে কখনোই রাজনীতি হয় না। রাজনীতিটা রাজনীতিবিদদের হাতে থাকাই ভাল।
বর্তমান দেশের এই প্রেক্ষাপটে আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করে নারায়ণগঞ্জ বার কাউন্সিলে পর পর দুইবার নির্বাচিত বিজ্ঞ এই আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার অনেক উন্নত দেশের তুলনায় অনেক বেশি ভাল দক্ষতাসম্পন্ন। তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে অত্যন্ত চমৎকারভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বর্তমান অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিজ্ঞ এ রাজনীতিবিদ বলেন, নারায়ণগঞ্জে আসলে সাংগঠনিক কাঠামো নেই। ১৯৯৭ সালে জেলা কমিটি হয়েছিল অধ্যাপিকা নাজমা সভানেত্রী শামীম ওসমানকে সাধারণ সম্পাদক এবং আমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে কমিটি করা হয়। ২০০১ সালে যোক্তিক কারণে শামীম ওসমানকে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ২০০৩ সালে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর পরে বেশ কয়েকবার সম্মেলনের উদ্যোগ নিলেও শামীম ওসমান বিরোধীদের কারণে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। কারণ জেলা আওয়ামীলীগের রাজপথের সক্রিয় কর্মীরা শামীম ওসমানের সমর্থক। সম্মেলন হলে শামীম ওসমান মনোনীত হবেন এই আশঙ্কায় সম্মেলন যেন না হয় শামীম ওসমান বিরোধীরা এই চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্মেলন হইলে নতুন নেতৃত্ব আসবে, নেতাকর্মীরা নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠবে এবং দল চাঙ্গা হবে। এ জন্য সম্মেলন হওয়া জরুরি। সম্মেলন না হওয়ায় পদ পদবী ছাড়া নেতাদের দায়িত্ব বন্টন করা যাচ্ছে না। এ জন্য নেতাদের মনে চাপা ক্ষোভ ও কষ্ট রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের উথান-পতন শামীম ওসমানের মাধ্যমেই হয়েছে। জননেতা শামীম ওসমানের কাধে বিশাল দায়িত্ব, অনেক কাজের চাপ। ভালো হলেও শামীম ওসমানের মন্দ হলেও শামীম ওসমানের কাঁধে। তিনি চাচ্ছেন সবার মাঝে সঠিকভাবে দায়িত্ব বন্টন করে দিতে যাতে করে দলকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করা যায়।
১৯৮৩ সালে বন্দর ধামগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে পদ গ্রহণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা প্রবীণ এই আইনজীবী বর্ণাঢ্যময় রাজনৈতিক জীবনে ৯৭ সালে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা হয় আনিসুর রহমান দিপুকে ব্যতিত করে ২০০৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এক যুগ ধরে জেলা আওয়ামীলীগের কোন সাংগঠনিক কাঠামো না থাকায় আক্ষেপ তার। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, সাংগঠনিক কাঠামো থাকলে নির্দিষ্ট করে দায়িত্ব থাকে তখন আরো সুন্দর করে কাজ সম্পন্ন করা যায়। আমরা রাজনৈতিক কর্মী, আমরা কাঠামোগত ভাবে কাজ করে যেতে চাই। বর্তমানে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও মূলদলে নেতৃত্বের ব্যাপারে প্রচন্ড আশাবাদী সম্পর্কে তিনি বলেন, এরা অনেক ডাইনামিক নেতা, আরা দলকে অনেক কিছু দিতে পারবে।
স্থানীয় নেতাদের কেন্দ্রিয় কমিটিতে কোন ভূমিকা না থাকায় আক্ষেপ করে আনিসুর রহমান দিপু বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাদের মধ্যে নোংরামী একটু অন্য জেলার চেয়ে বেশি। নিজেদের মধ্যে টানা হেঁচড়ার কারণে কেন্দ্রিয় কমিটিতে নারায়ণগঞ্জ শক্ত অবস্থানে নেই।
যারা রাজনীতি করতে চাই তাদের উদ্দেশ্য খ্যাতিমান এই রাজনীতিবিদ বলেন, যারা মেধাবী ও ত্যাগী তাদেরই রাজনীতি করা উচিত। দেশকে যা কিছু দিয়েছে রাজনীতিবিদরাই দিয়েছে। যদিও বর্তমানের রাজনৈতিক দৃশ্য সেটা রাজনীতির আসল রূপ নয়। আমি আশা করবো এই তথ্য প্রযুক্তি যুগে যারা দেশকে কিছু দিতে পারবে তাদেরকেই দেশ ও জাতির কল্যাণে রাজনীতিতে আসা উচিত।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম