Thu, 14 Dec, 2017
 
logo
 

এই সেন্টু সেই সেন্টু

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ২০০০ সালের পূর্বে হত্যা, ধর্ষন, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ ছিল কুতুবপুর ইউনিয়নের দৈনন্দিন ঘটনা। সেই সময় ওই এলাকাটিতে মানা হতো না গ্রাম্য আদালত আইন, সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছিল প্রশাসন। ঠিক তখনই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদি তরুন রুখে দাড়িয়েছিল। সেই তরুন আজ জনপ্রিয় চেয়ারম্যান। ফতুল্লা থানা বিএনপি সহ-সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টু। অনেকে চেয়ারম্যান সেন্টু নামেই ডাকেন।

সন্ত্রাসীদের অভয় অরণ্য সেই কুতুবপুর ইউনিয়নে পর পর ৩ বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান হয়ে উঠার গল্প নিয়ে লাইভ নারায়ণগঞ্জের আজকের প্রতিবেদন ‘এই সেন্টু সেই সেন্টু’। লিখেছেন গোলাম রাব্বি।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার দেলপাড়া এলাকায় হাজী আমির আলী ও রোকেয়া বেগম দম্পতির ঘরে ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন মনিরুল আলম সেন্টু। তাদের ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ের মাঝে মনিরুল আলম সেন্টু ছিলেন ৪র্থ সন্তান।
নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল থেকে ১৯৮৪ সালে এসএসসি, ১৯৮৯ সালে ঢাকার শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। এর আগে সরকারি তোলারাম কলেজেও দুই বছর পড়া লেখা করেছেন বর্তমানের এই সফল জনপ্রতিনিধি।
১৯৮৪ সালে সরকারি তোলারাম কলেজে ভর্তি হওয়ার পরপরই বাসদের রাজনীতি দিয়ে শুরু হয় মনিরুল আলম সেন্টুর ছাত্র রাজনীতি। বর্তমানে বিকেএমইএ’র পরিচালক জিএম ফারুক ছিলেন সেই সময়কার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে সোহ্রাওয়ার্দী কলেজে ভর্তির হয়ে জাতীয়তাবাদি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরেন। ওই সময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনও করেছেন এই নেতা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৯৯১ সালে সিরাজুল ইসলাম সাংসদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর বাবা হাজী আমির আলী‘কে মনোনয়নের প্রস্তাবক করা হয়। তারপর থেকেই ছাত্রদল, কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদল, ফতুল্লা থানা যুবদল ও পরবর্তীতে মূলদলে অংশ নেন।
ছাত্রনেতা থেকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার গল্প জানতে চাইলে মনিরুল আলম সেন্টু লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ২০০২ সালে কুতুবপুর ছিল সন্ত্রাসীদের অভয় আরণ্য। তখন হত্যা, ধর্ষন, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা ছিল কুতুবপুর ইউনিয়নের দৈনন্দিন ঘটনা।
তখন আমি ওই এলাকার প্রভাবশালী নেতা ছিলাম। তখন আমার টার্গেট ছিল চেয়ারম্যান নির্বাচন করা। সেই সময় ধর্ষন, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরোধী অবস্থান নেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। ২০০০ সাল থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনা করার পরে ২০০৩ সালে প্রথম বারের মতো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আমি বিপুল ভোটে জয়ই হয়েছিলাম। চেয়ারম্যান হওয়ার পরবর্তীতে কোন রকম হয়রানি বা অর্থের বিনিময় ছাড়াই নাগরীক বিভিন্ন সনদ প্রদান ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করেছিলাম।
তারই ধারাবাহীকতায় ২০১১ সালে পুনরায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে ৪৩ হাজার ভোট পেয়ে জয় লাভ করি। তখন জয় লাভের জন্য আমার তেমন কোন কষ্ট করতে হয়নি। তারই ধারাবাহীকতায় ২০১৬ সালের নির্বাচনেও আমি ৪৫ হাজার ভোট পেয়েছি। আমার নিকটতম প্রার্থী নৌকা মার্কা নিয়েও মাত্র ১০ হাজার ভোট পেয়েছে। আর হাতপাখা পেয়েছে ৬ হাজার ভোট।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যানদের মূল দায়িত্ব হলো নাগরীক সনদ প্রদান। তাই কোন ইউনিয়নের উন্নয়নে চেয়ারম্যান তার নির্বাচনি এলাকায় তেমন কিছু করার থাকে না। ফলে আমিও এই ইউনিয়নের উন্নয়নে গুরুত্বপূন ভূমিকা রাখতে পারি নি। তারপরেও মানুষ ভালোবেসে আমাকে যে ভোট দিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
অনেকেই বলে আপনি নাকি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে সন্ত্রাসী ছিলেন? লাইভ নারায়ণগঞ্জের এমন প্রশ্নের উত্তরে সেন্টু বলেন, সন্ত্রাস মানে কাউকে জিম্ম করে অর্থ আত্মসার্থ করা। কারো সাথে অন্যায় অবিচার করা। কিন্তু আমি যারা অন্যায় করতো তাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছি। তাই কেউ যদি আমাকে সন্ত্রাস বলে, তাহলে আমি বলবো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী করেছি।
প্রসঙ্গত, কুতুবপুর ইউনিয়নের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মনিরুল আলম সেন্টুর চাচা আ. কাদির। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর হাজী আব্দুল বারী, রফিকুল ইসলাম আশরাফী, মো. গোলাম রসুল অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ছিলো।
কিন্তু ২০০২ সালে বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মনিরুল আলম সেন্টু চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ২০১১ ও ২০১৬ সালে নির্বাচন করে ৩য় বার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এক যুগেরও বেশি সময় যাবদ চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিরল নজির স্থাপন করেছেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম