Fri, 28 Apr, 2017
 
logo
 

মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে রাজনীতি করিনা ॥ জীবন বাঁচাতেই নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল হাতে নিয়েছি- শাহ নিজাম

৫ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আনন্দর‌্যালীসহ সরকারের বর্ষপূর্তীর বিভিন্ন কর্মসূচীর অংশ পরিদর্শনে সেদিন জেলা যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক শাহ নিজাম খানপুর থেকে চাষাঢ়া ফিরতে ছিল। সে দিন নিজামকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় বিএনপি জামায়াত ক্যাডাররা।

শিবিরের লক্ষ্য ছিল শাহনিজাম। তিনি সে দিন আত্মরক্ষার্থে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল রেখেছিলেন। সেদিন কি ঘটেছিল শুনুন শাহ নিজামের জবানবন্দিতে । সেদিনের আসল ঘটনা জানতে লাইভ নারায়নগঞ্জ ডট কম মূখমুখী হয়েছিল যুবলীগের এ নেতার।

লাইভ নারায়ণগঞ্জ ডট কম-
প্রশ্ন:আপনিতো পিস্তল হাতে না নিলেও পারতেন?
উত্তরঃ আমি প্রথম অবস্থায় পিস্তল হাতে নেইনি। আমি যখন আহত হই এবং ওরা যথন মারমুখী হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে তখনই আমি পিস্তল হাতে নেই,
প্রশ্ন: পুলিশতো পরে এসেছিলো?
উত্তরঃ ডাক্তার আসার পূর্বে রোগী মারা গেলো, এমন না ব্যপারটা?
প্রশ্ন: ওরাতো শান্তিপূর্ণ ভাবে মিছিলটি করতে চেয়েছিলো?
উত্তরঃ আগের দিন ঐ এলাকা থেকে ৩ শত বাঁশ, পেট্রোল ও কেরোসিন উদ্ধার করেছিলো। এটাতো আপনাদের মিডিয়াতেই প্রকাশ হয়েছিলো এবং আমার জানামতে জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিব যে বাসায় ছিলো সেই বাসাতেই। তাহলে কিভাবে বলবেন যে শান্তিপূর্ণ মিছিল করতে চেয়েছিলো। শুধু কষ্ট হয় যখন রাজিব ও জামায়াত শিবিরের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ইতিপূর্বে বহু ঘটনা প্রতিয়মান যে, এই মিশন পাড়া মোড়ে গাড়িতে আগুন ভাংচুর সহ অনেক অপত্তিকর ঘটনা ঘটেছে।
প্রশ্ন: আপনি কি আপনার নেতার সাথে কথা বলেছেন কিংবা তাকে জানিয়েছেন?
উত্তরঃ না এখন পর্যন্ত নেতার সাথে কথা হয়নি। এমনিতেই উনি জাতীয় ব্যপারগুলো নিয়ে ব্যস্ত। আমি চাইনি উনাকে এই ব্যপার নিয়ে বিরক্ত করতে।
প্রশ্ন: ৩১ তারিখের অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছিলেন, উনার সাথে কোন ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী কিংবিা অস্ত্রবাজ থাকবে না। এ ব্যপারে আপনার বক্তব্য কি?
উত্তরঃ আমি ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী কিংবা চাঁদাবাজ না।
প্রশ্ন: আপনারতো ছবি এসেছে অস্ত্র সহ?
উত্তরঃ এটা আমার নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র আমার আত্মরক্ষার্থে। ওদের যে আক্রমনাত্নক ভূমিকা ছিলো এবং আমার উপড়ে যে হামলা করেছে তাতে আমি আহত হয়েছি। তাতে করে অস্ত্র ব্যবহার করা আমার জরুরী ছিলো জীবন বাঁচানোর জন্য। জীবন বাঁচানো যদি অন্যায় হয় তবে আমার আর কিছু বলার নেই। শুধু এটুকু বলবো আপনি হলে কি করতেন?

প্রশ্ন:আপনার জীবনেতো একটি দাগ লেগে গেলো?
উত্তরঃ জীবন বাঁচানোটা কি বেশি জরুরী না? জীবন যদি বেঁচে না থাকে তবে দাগ দিয়ে কি করবো।
প্রশ্ন :আপনি ঘটনার সাথে সাথে জিডি করেননি কেন?
উত্তরঃ আমি তখন আহত ছিলাম এবং সার্বিক ব্যপার নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।
প্রশ্ন: আপনাকেতো র‌্যালীতে দেখা যায়নি?
উত্তরঃ আমি তখন আহত, পাঁয়ে প্রচন্ড ব্যথা ছিলো, হাঁটতে পারিনি।
প্রশ্নঃ আপনি কি একা ছিলেন, কেন একা ছিলেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ একা ছিলাম। সবাইকে পাঠিয়েছিলাম র‌্যালীতে সহযোগীতা করার জন্য।
প্রশ্ন: আপনার বর্তমান শারিরিক অবস্থা কি?
উত্তরঃ এখনো পাঁয়ের হাটুতে ব্যথা হচ্ছে, হাটতে পারছি না।
প্রশ্নঃ প্রশাসন ব্যপারটা কি চোখে দেখবে বলে আপনি মনে করেন?
উত্তরঃ আমি জিডিতে সবকিছু উল্লেখ করেছি।
প্রশ্নঃ নারায়ণগঞ্জবাসী, সাংবাদিক ও প্রশাসনের প্রতি আপনার বক্তব্য বা আহবান?
উত্তরঃ আমি দীর্ঘ দিন যাবত নারায়ণগঞ্জের মানুষের সাথে সম্পৃক্ত। এখনে কেউ রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ক্রিড়া ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী। সবার সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘ জীবনে আমার কোন কলংক নাই, জীবন বাঁচাতে গিয়ে আজ আমার এই অবস্থা। কিন্তু কেউ কেউ এটাকে অন্য ভাবে প্রকাশ করতে চেয়েছে যা অত্যান্ত দুঃখ জনক। যারা হামলা করলো আমার উপড়, পরে আবার পুলিশের উপড়, তাদের এখানে প্রকাশ না করে শুধু আমার ব্যপারটা নিয়ে মাতামাতি করলো। আমি জিডি করে সব ঘটনা সকলকে জানিয়ে দিয়েছি। সবার কাছে আমার একটাই অনুরোধ, যদি কারো কষ্টে সহানুভুতি সমবেদনা না জানাতে পারি অন্তত তাকে নিয়ে যেন নোংরা রাজনিতি না করি। আমি বিশ্বাস করি নারায়ণগঞ্জবাসী বিএনপি ও জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের ব্যপারে অবগত। নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন অত্যান্ত দক্ষ। তারা সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে তাদের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আমি মনে করি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪