Thu, 14 Dec, 2017
 
logo
 

শামসুজ্জোহা ভাই কর্মীবান্ধব নেতা ছিলেন : শাহাবুদ্দিন মন্ডল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মদ মন্ডল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সম্পকৃক্ত রাজনীতির সাধে। পারিবারিকভাবেই তারা আওয়ামী পরিবার।

৭৫‘র পরবর্তী সময় যখন নারায়ণগঞ্জে হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে কথা বলার মতো সেসব পরিবারের মধ্যে তাদের পরিবার ছিল অন্যতম।

তিনি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর ও ভাষা সৈনিক এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, একেএম শামসুজ্জোহার একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তিনি বর্তমানেও নিজেকে একজন কর্মী হিসেবেই বিবেচনা করে থাকেন।

তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও একেএম শামসুজ্জোহার একজন কর্মী হিসেবেই নিজেকে আজীবন রাজনীতিতি জড়িয়ে রাখতে চান। লাইভ নারায়ণগঞ্জের সাথে একান্ত আলাপচারিতাই তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা ও অভিযোগ থাকলেও তার রাজনৈতিক জীবনে আজ অবদি একটি মামলাও হয়নি। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে কেউ কোন চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি অথবা হুমকি-ধমকির অভিযোগ আনতে পারেনি। যার ফলে তিনি ২০০৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, আগেকার রাজনীতি আর বর্তমান রাজনীতির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। আগেকার রাজনীতিতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ণ ছিল এবং নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার আশায় মানুষ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতো। আর এখনকার রাজনীতিকে নেতারা ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে। যার ফলে বর্তমান সমাজ এসব রাজনীতিবিদদের দ্বারা কোন উপকার পায় না।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেষ্টা করে যাচ্ছেন ত্যাগীদের মূল্যায়ণ করার জন্য। এবং তিনি বিনাস্বার্থে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আমি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ ও একেএম শামসুজ্জোহার সুযোগ্য পুত্র একেএম শামীম ওসমানকেই মূল্যায়ণ করে থাকি। কারণ শামীম ওসমান তার পিতার মতো ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ণ করে থাকেন। শামীম ওসমানের মধ্যে তার পিতার গুণাগুণ পাওয়া যায়।

তরুণ রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, বার্তমানে আমাদের রাজনীতির জন্য একটি সোভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে তরুণরা রাজনীতিতে প্রবেশ করছে। এটা দেশের জন্য কল্যাণজনক একটি বিষয়। তবে তাদেরকে ত্যাগের মন-মানসিকতা নিয়েই রাজনীতিতে প্রবেশ করতে হবে। কোন ক্রমেই নীতিকে বিসর্জন দেয়া যাবে না। তাদেরকে চারিত্রিকভাবে সুন্দর ও সাবলীল হতে হবে। কাঁদা ছুড়াছুড়ি করা যাবে না, দলের প্রতি আনুগত্য থাকতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অগাদ বিশ্বাস থাকতে হবে।

তিনি ভাষা সৈনিক এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য একেএম শামসুজ্জোহা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, একেএম শামসুজ্জোহা ভাই একজন কর্মীবান্ধব নেতা ছিলেন। আমি তাকে সবসময় রাজনৈতিক গুরু হিসেবেই মানি। তিনি সবসময় চেষ্টা করতেন কর্মীদের খুশী করার জন্য। তার কাছে আবদার করে কেউ খালি হাতে ফিরে যেতে হয়নি। আমি যখন তার সাথে রাজনীতি  করেছি তখন সবসময় তার সম্মান বজায় রেখে চলার চেষ্টা করেছি। একসময় তিনি ব্যবসা করার জন্য আমাকে ইনপুট লাইসেন্স দিয়েছিলেন কিন্তু তার সম্মান হানি হওয়ার কথা চিন্তা করে আমি সেই ইনপুট লাইসেন্সটা ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।

তিনি আরো বলেন, আমি কাজে বিশ্বাসী, প্রচার-প্রচারণায় আমি বিশ্বাসী নয়। আমি নিজেও চাাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজীর সাথে জড়িত না এবং আমার থানার কোন নেতাকে জড়িত হতেও দিবে না। পেশী শক্তি দিয়ে রাজনীতি হয় না। পেশী শক্তির দিন শেষ হয়ে গেছে। দলকে গতিশীল করতে হলে অনুপ্রবেশকারী ঠোকাতে হবে। কারণ অনুপ্রবেশকারীরা কখনো দলের কল্যাণ চায় না বরং তারা সবসময় দলের ক্ষতি করে। অনুপ্রবেশকারী রোধ করে চলা সকল রাজনৈতিক দলের জন্যই কল্যাণকর।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম