Mon, 18 Dec, 2017
 
logo
 

বাবা আমাকে বলে ছিলেন আমি শহীদ হলে তার কষ্ট হবে না- বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী

স্টাফ করেসপন্ডেন্টঃ সেদিন ছিল ১৯৭১ সালের মে মাস। বাবার চোখে মুখে ছিল এক ধরণের প্রতিশোধের আগুন। রাগ আর ক্ষোভে যেন তিনি কথাই বলতে পারছিলেন না। বাবা আমাকে অনেক আদর করতেন। আজ তিনি বেঁচে নেয়।

আমার মনে পরে বাবা আমাকে ডেকে বলে ছিলেন যুদ্ধে গিয়ে শহীদ হয়ে গেলেও তার কানো কষ্ট হবে না। সে সময় আমি গায়ের একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলাম। কয়েক দিন বাদেই (এসএসসি)পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। আশাছিল পড়ালেখা করে সংসারের হাল ধরব। সেটা আর হয়ে ওঠেনি। নিহীর বাঙ্গালীর ওপর পাকসেনাদের বর্বরতা দেখে সেদিন বাবা আমাকে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন। এ কথা শোনে আমার মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাবা ছিলেন সামান্য কৃষক। আয়-রোজগার তেমন একটা ছিল না। আমাদের পরিবারটা ছিল সাদামাঠা একটি কৃষি পরিবার। ভারতে ট্রেনিং নিতে যাওয়ার  ঠিক আগ মূহুর্তে মা তাহেরা বেগম আমার হাতে ৩শ’ টাকা দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। আর আমাকে দোয়া করেন দেন; আমি যেন পাকবাহিনীকে শেষ করে দেশ ও দেশের মানুষকে মুক্ত করে বাড়িতে ফিরি। ১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল ১৬ কিংবা ১৭ বছর। ভিতরে খানিকাটা ভয়। বাবার কথায় বেশ সাহসও হচ্ছিল মনে মনে। মনের ভিতরে যুদ্ধে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা। আমার মনে পরে (মে) মাসের শেষে দিকে নিস্কোশকালো অন্ধকার এক রাতের আমি ভারতের মতিনগরের উদ্দেশে হয়ে যাই। সেখান থেকে প্রায় ২ মাস ট্রেনিং নেয়ার পর চলে আসি আড়াইহাজারে । আমাদের কমান্ডার ছিলেন এমএ সামাদ ভাই। তিনি আমাদের গায়েরই ছেলে। তিনিই প্রথম আমাদের এলাকা থেকে যুদ্ধের ট্রেনিং নিয়ে ছিলেন। যুদ্ধের সময় তিনি আমাকে অনেক সাহস জোগিয়ে ছিলেন। আড়াইহাজার ছিল ২নং সেক্টর।  আমার মনে পড়ে সেদিন গোপানে একটি সংবাদ পাওয়া যায় গোপালদী এলাকা থেকে পাকসেনাদের একটি গাড়ী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বগাদি এলাকায় আসছে। সেদিন বাগাদি এলাকায় আমরা (এক্সক্লোসিভ) ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেই। এক পর্যায়ে হামলা চালানো হয়। ওই অপরেশনের সেদিন বেশ কিছু পাকসেনা আহত হয়েছিলেন। শহীদ হয়ে ছিলেন আমাদের এলাকার ছেলে মো. মঞ্জুর হোসেন। যুদ্ধের সময় বেশিরভাগ সময় আমি (এসএমজি) ব্যবহার করেছি। রুপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় আমাদের ইউনিট একটি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিল। সেদিন আমার মনে হয়ে ছিল আমি হয়তো আর বাড়ি ফিরতে পারব না। তবে সামাদ ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় আমি যুদ্ধের মাঠে অনেক সাহস পেয়ে ছিলাম। স্বৃতিচারণ করেন- আড়াইহাজার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিনপাড়া এলাকার মৃত. রহমানের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দল বারী (৫৮)।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম