Tue, 17 Oct, 2017
 
logo
 

সুনীলের ২৫০টাকা ফেরত দিতে পারিনি- বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান মিয়া

আড়াইহাজার করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়নগঞ্জ ডট কম: ঃ সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই। নিজের গায়ে যা পড়া ছিল তা নিয়ে বের হয়ে পরি। তবে যাওয়ার সময় এলাকার সুনীলের কাছ থেকে ২ শ’ পঞ্চাশ টাকা ধার নিয়েছিলাম।

ফিরে এসে তাকে আমি আর পায়নি। তাকে আর টাকাটা ফেরত দিতে পারিনি। পড়ালেখা বেশিদূর করতে পারেনি। গায়ের স্কুলে মাত্র সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করার সুযোগ পেয়েছি। আমার চোখের সামনে আমাদের এলাকার বিমলসহ আরো বেশ কিছু লোককে নিমর্মভাবে হত্যা করে পাক আর্মিরা। সেদিন রাতেই সিদ্ধান্ত নেই আমি যুদ্ধে যাব। দু’দিন অনাহারে থেকে তিন দিনের দিন পৌঁছে যাই মেলাঘরে। যুদ্ধে অংশ নেয়ার সময় আমার বয়স ছিল ১৬ অথবা ১৭ বছর। ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে আমি ভারতের মেলাঘরের ২ নং সেক্টরে যাই। সেখানে ২৮ দিনের ট্রেনিং শেষ করে সরাসির আড়াইহাজার থানায় এসে মুক্তিযোদ্ধ শুরু করি। আমার যতদূর মনে পরে প্রথম অপরেশনটি পরিচালিত হয় আড়াইহাজার থানায়। দিনক্ষন আমার মনে নেই। তবে ১০ থেকে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা সেই অপরশনে অংশ নিয়ে ছিল। থানার ওসিসহ মোট ১১ জন পাকসেনা আমাদের অপরেশনে নিহত হয়। সেদিন আমার কাছে অনেক আনন্দ হয়েছিল। যুদ্ধের সময় ব্যবহার করতাম এসএমজি ও স্ট্যান্ডগান। তবে আমার কাছে অনেক আনন্দ হয়েছে যেদিন উপজেলার বগাদিতে একপাক সেনাকে গুলি করে আহত করার পর বগাকাঁচি দিয়ে কেটে কেটে হত্যা করে ছিলাম। পাকসেনাদের হত্যা করাটা ছিল আমাদের মধ্যে এক ধরণের প্রতিযোগিতা।  আমার মনে পরে সে সময় ছিল বর্ষাকাল আড়াইহাজার ডাকবাংলায় ছিল পাক সেনাদের ক্যাম্প। রাত তখন ১২টা হবে, আমাদের কমান্ডার এমএ সামাদ বলে ছিলেন কে পারবেন ডাকবাংলায় (এক্সক্লোসিভ) বোমা ও থাট্রি ছিক্স গ্রেনেট বিস্ফোরণ ঘটাতে। সেদিন আমি রাজি হয়েছিলাম। আমার সাথে উপজেলার দলদী এলাকার একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার নাম আমার মনে নেই। সেই অপরেশনে সেদিন বেশ কিছু সেনা সদস্য আহত হয়ে ছিল। পরের দিন আমি উপজেলার পাঁচরুখী ও দুপ্তারা ইউনিয়নের বাজভী এলাকায় একটি ব্রীজ ধ্বংস করে ছিলাম বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে। আমার সাথে ছিলেন- উপজেলার দাসপাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ফজলু, পুরিন্দার মান্নান, উপজেলার দক্ষিনপাড়া এলাকার লাল মিয়া। লাইভ নারায়ণগঞ্জ ডট কমের সাথে স্মৃতিচারণ করেন- আড়াইহাজার পৌরসভাধীন মৃত. মফিজউদ্দিনের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান মিয়া (৬৩)। তিনি ৫সন্তানের জনক। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা ছাড়া আর কিছুই তিনি পাননি বলে জানান।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম