Thu, 24 Aug, 2017
 
logo
 

সেদিন ১ হাজার লাশ গুনে ছিলাম- বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ্জাহান

আড়াইহাজার  করেসপন্ডেন্টঃ সেই সময় আমি নারাযণগঞ্জের তোলারাম কলেজে (এসএইচসি) তে পড়ালেখা করি। আমি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম । ২৭ মার্চ সকালে বাড়িতে ফিরতে ছিলাম ।

বের হতে দেখি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে লাশের স্তুপ।  তখন আমি কৌতুহল বসত ১ হাজার ১০ টি লাশ গুনি। এর আগে এতো লাশ আমি দেখেনি। তখন আমার বয়স ছিল ২২ কি ২৩ । বর্তমানে বয়স-৬৫। সেদিনই আমি মুক্তিযুদ্ধে যাব বলে মনে মনে স্থীর করি। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল প্রথম আমি ট্রেনিং নেয়ার জন্য ভাতের বাগমারার উদ্দেশে রওনা হই। কিন্তু ব্যক্তিগত একটি সমস্যার কারণে আমি আবার ফিরে আসি। পরে একই বছরের জুলাই মাসে আমি আবার ট্রেনিং নিতে ভারতের বাগমারায় যাই। সেখানে ট্রেনিং শেষে আমাকে ঢাকা পূর্বাঞ্চল জাকের ক্যাম্পের ইনর্চাজ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেখানে আমাদের কমান্ডার ছিলেন- ব্রিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশারফ। পরে অমাদেরকে ২২ জুলাই কসবা পাঠানো হয়। দিনক্ষন ঠিক মনে নেই। সকাল থেকে শুরু হয় পাকসেনাদের সাথে যুদ্ধ। সেখানে পাক সেনা ক্যাম্পের কাছে পাথরঘাটা এলাকায় ৭ ঘন্টা ধরে সম্মুখ যুদ্ধ চলে। গুলির শব্দে হাজার হাজার মানুষ এদিক-সেদিক ছুটে বেড়াতে থাকে। সেদিন ৪-৫ জন মুক্তিযোদ্ধা মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে আগরতলা পুলিশ আমাদেরকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে রাখে। মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণিত হওয়ার পর আমাদের ছেড়ে দেয়। আমি যুদ্ধে সময় অস্ত্র ব্যবহার করতাম এলএমজি। অস্ত্র চালাতে আমাকে সে সময় সহযোগিতা করেছেন দিলীপ কুমার নামে এক মুক্তিযোদ্ধা। তার কথা আমার অনেক মনে পড়ে। তাদের বাড়ি ছিল কসবায়। স্মৃতিচারণ করেছেন- আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা উইনিয়নের পশ্চিম আতাদী গ্রামের মোল্লা বাড়ির মৃত. মতিউর রহমানের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. শাহ্জাহান মোল্লা। তিনি দুই সন্তানের জনক। তিনি এলাকায় একটি ঔষধের দোকান দিয়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪