Tue, 17 Jan, 2017
 
logo
 

সন্ত্রাসের কালীমামুক্ত হবে নারায়নগঞ্জ- কমরেড হাফিজ

শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন, নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসমুক্ত করার আন্দোলনসহ নানান আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভুমিকা পালনকারী কমিউনিষ্ট পাটির জেলা সভাপতি কমরেড হাফিজুল ইসলাম স্বাক্ষাতকারের ২য় অংশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, শ্রমিক আন্দোলন সংগ্রামের স্মরণীয় ঘটনাবলী বর্ননা করেছেন।

বলেছেন নিজের চিন্তা চেতনা ও স্বপ্নের কথা। পাঠকদের জন্য স্বাক্ষাতকারের ১ম অংশের পরে বাকি অংশ তুলে ধরা হলো-

প্রশ্নঃ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পের্ক বলুন?
হাফিজুল ইসলামঃ প্রকৃত পক্ষে নারায়ণগঞ্জের মানুষ অত্যন্ত রাজনৈতিক সচেতন। একারনেই ৫২ ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ৬৯ এর গণঅভ্যূথান, ৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জবাসীর ব্যাপক ভূমিকা ছিলো। নারায়ণগঞ্জকে সকল আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার বলা হয়। সকল প্রকার আন্দোলন সংগ্রামের দিক দিয়ে রাজধানী ঢাকার পরই নারায়ণগঞ্জের স্থান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কমর্কান্ডে নারায়নগঞ্জ সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তাই বলে নারায়ণগঞ্জের মানুষ বসে নেই, রাজনৈতিক সচেতন নারায়নগঞ্জবাসী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন সংগ্রাম করছে এবং করবে। সেই দিন বেশী দূরে নয়, যখন নারায়নগঞ্জ ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ নামক কলংক থেকে মুক্ত হবে। আবারো শান্তি ফিরে আসবে। সেই আন্দোলন সংগ্রামে নারায়নগঞ্জবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী গডফাদারদের বিনাশ করে শান্তি ফিরিয়ে আনবে।
প্রশ্নঃ আপনি কি মনে করেন ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ তকমা অচীরেই মুছে যাবে?
হাফিজুল ইসলামঃ মানুষ সন্ত্রাস পছন্দ করেনা। এটা বার বার প্রমাণীত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাড়ালে অবশ্যই সম্ভব। এবং সেই পথ তৈরী হয়ে গেছে। সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলন সফল হবেই।
প্রশ্নঃ শ্রমিক আন্দোলনের স্মরণীয় কোন ঘটনা বলুন?
সন্ত্রাসের কালীমামুক্ত হবে নারায়নগঞ্জ- কমরেড হাফিজহাফিজুল ইসলামঃ শ্রমিক আন্দোলনের অনেক স্মরণীয় ঘটনাই রয়েছে। ২০০৬ সালে কাঁচপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সময় র‍্যাব আমাকে আটক করে ব্যাপক নির্যাতন চালায়। এসময় কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ জানালে র‍্যাব আমাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এঘটনায় দায়ী র‍্যাব সদস্যদের পরে ক্লোজ করা হয়।

২০০৭ সালে জরুরী অবস্থার সময় সস্তাপুরের কাঠের পুল এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে সেনাবাহিনী আমাকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে রাখে। সেনাবাহিনীর গাড়ীতে করে আমাকে নিয়ে প্রায় ২ ঘন্টা বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর আবারো সস্তাপুরে নিয়ে আসে। সেখানে আমাকে নামিয়ে দিয়ে সেনা অফিসার শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, আপনাদের নেতাকে আমরা এরেষ্ট করিনি, উনার সাথে একটু কাজ ছিলো, এখন আবার আপনাদের মাঝে দিয়ে গেলাম। আন্দোলনরত শ্রমিকরা তখন আমাকে মাথায় তুলে নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে।

২০০৩ সালের ৩ নভেম্বর গার্মেন্টস শ্রমিক আমজাদ হোসেন কামাল শহীদ হওয়ার পর আমরা ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলি। সেই দিনটি ছিলো গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের মাইল ফলক।

একবার কাঁচপুরের জয়া ও নাসা গার্মেন্টস এ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করার সময় মালিকের ক্যাডার বাহিনী আমাকে অপহরন করার চেষ্টা করলে, হাজার হাজার শ্রমিক আমাকে ক্যাডার বাহিনীর হাত থেকে উদ্ধার করে আনে। পরে শ্রমিক আন্দোলনের মুখে মালিকপক্ষ দাবি-দাওয়া মেনে নিতে বাধ্য হয়। শ্রমিক আন্দোলন করতে গিয়ে এরকম অনেক ঘটনা ঘেটেছে।২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে ফুজি গার্মেন্টস শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করার সময় চাষাড়া শহীদ মিনারের ভেতর থেকে পুলিশ আমাকে ধরে এনে ব্যাপক হামলা ও নির্যাতন করে। আমার উপর নির্যাতনের পর আন্দোলন-সংগ্রাম আরো বেগবান হলে বিকেএমই এর হস্তক্ষেপে মালিকপক্ষ দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
প্রশ্নঃ সবশেষে পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?
হাফিজুল ইসলামঃ প্রথমেই আমি লাইভ নারায়ণগঞ্জ কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। সেইসাথে লাইভ নারায়ণগঞ্জের পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- আমরা একটি সূখী, সুন্দর, সমৃদ্ধশালী নারায়ণগঞ্জ গড়ার প্রত্যয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। যেখানে থাকবেনা কোন ভয়, থাকবেনা কোন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, লুটতরাজ। পুঁজিপতি বর্জুয়া শ্রেণীর হাতে বন্দী থাকবেনা সাধারন শ্রমজীবী মানুষ। সূখ সমৃদ্ধি বিরাজ করবে সর্বত্র। সেই সুন্দর দেশ গড়ার আঙ্গীকার নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলকে ধন্যবাদ।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪