Mon, 18 Dec, 2017
 
logo
 

জেলা জজ, জুডিসিয়াল কোর্ট এবং আইনজীবী সমিতি ভবন একত্রে রাখা’ই হবে প্রধান কাজ- এ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নির্বাচনী আমেজে ভরে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে নিজ প্যানেলকে জয়ী হিসেবে দেখতে অনেকেই মাঠে থেকে বিলি করছেন লিফলেট। এদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল প্রার্থীরা এবার নির্বাচনে এসেছেন একটু ভিন্নভাবে।

আগামী দিনে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সদস্যদের একটু ভিন্নভাবে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করাতে এগিয়ে এলেন বারের সাবেক সভাপতি এ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু। এছাড়াও এ বছরের মধ্যেই বারের একটি প্রধান সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান। তবে চলতি বছরের কমিটিতে যারা ছিলো তারাও বারের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। এর সবটাই সম্ভব হয়েছে আইনজীবীদের ঐক্যের কারণে। এবছর আরো বেশি উন্নয়ন করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানালেন এ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু।

লাইভ নারায়ণগঞ্জের সাথে এক সাক্ষাৎকারে জেলা আইনজীবী সমিতির ৫ বার নির্বাচিত (সাবেক) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, বিগত বছরের নির্বাচনে ৫বার নির্বাচিত হয়েছি। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছুই হতে পারেনা। আমার সময় কোন দূর্নীতি ছিলোনা এবং সবসময় ন্যায়ের সাথে কাজ করার ফলেই আবারো সকলে আমাকে সমর্থন করছে। বিগত বছরে আমি ক্ষমতায় থাকতে আমার একজন ঘনিষ্ট সহকর্মীর বিরুদ্ধে এক বিএনপি নেতা দূর্নীতির অভিযোগ করেছিলো। দূর্নীতি রোধে সেই অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রমানিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করেছিলাম। এর পর থেকে তিনি ভাল হয়ে আওয়ামী লীগের প্যানেলে কাজ করছে। তবে জেলা আইনজীবীদের সুবিধার্থে কিছু ভাইটাল কাজ সম্পন্ন, সকল আইনজীবী এবং দলের সমর্থনে এবছরের নির্বাচনে অংশগ্রহন করছি। এবছরের নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের সকলেই অতি দক্ষতা সম্পন্ন এবং প্রতি বছরের চেয়ে সর্বশ্রেষ্ট প্যানেল। ফলে এ প্যানেল দ্বারা সকলেই আগের চেয়ে আরো বেশি কাজ এবং সুবিধা পাবে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহনের মূল কারণ হচ্ছে “জেলা জজ, জুডিসিয়াল কোর্ট এবং আইনজীবী সমিতি ভবন একত্রে রাখা”। এ বছরের মধ্যে এর সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে না পারলে তা আর কখনোই সম্ভব হবেনা। জজ ও জুডিসিয়াল কোর্ট শহরের কালিরবাজার (বঙ্গবন্ধু সড়ক) এলাকায় নেয়া হলে সকল আইনজীবী এবং জনসাধারণ ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাবে। তখন ৫ কিলোমিটার দূরত্বে যাতায়াত করে আইনজীবী ও সাধারণ জনগণ কারো পক্ষে কাজ করা সম্ভব হবেনা। এর জন্য আমাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি সমাধানে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শিখ হাসিনা আইনজীবীদের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা ‘ঢাকা বার’ এ দেয়া হয়েছে। বাকী ৩০ লাখ টাকা নারায়ণগঞ্জের জন্য আনার চেষ্টা করবো। এছাড়া সরকারি মানচিত্রে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গনে আইনজীবীদের জন্য কোন ভবনের জায়গা ছিলোনা। বিগত আমলে আমি নির্বাচিত হওয়ার পরে সংসদ সদস্যের মাধ্যমে আইনজীবীদের জন্য ভবনের জায়গা করে দিয়েছি এবং সেখানে ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ভবনে যেন নবীন আইনজীবীরা সঠিকভাবে প্রশিক্ষন নিতে পারে তার জন্য একটি বড় লাইব্রেরী করা হবে। যেখানে আইন বিষয়ের পর্যাপ্ত বই থাকবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে কোর্ট প্রাঙ্গনকে ওয়াইফাই জোনে পরিণত করা হয়েছে এবং এ সুবিধা আরো বেশি করে করার জন্য লাইব্রেরীতে কম্পিউটারের সু-ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া অন্যান্য দেশের আইনজীবী ভবনে যেমন সকল সুবিধা রয়েছে তেমনি সুবিধা নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদেরও ভোগ করার ব্যবস্থা হবে।

২০১৪-১৫ ইং বছরের কমিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে প্রবীন এ আইনজীবী বলেন, সারা দেশের বারকে নিয়ন্ত্রন করে থাকে ঢাকা বার। আর বিগত ২ বছরে নারায়ণগঞ্জ বারের ফলাফল ছিল অনেকটাই খারাপের দিকে। তবে ২০১৪-১৫ ইং বছরের কমিটি তাদের কাজের দক্ষতায় সকলে একত্রে কাজ করে সারা দেশের বারের চেয়ে আমরাই অনেকট এগিয়ে আছি। তারা বারের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছে। তাই আগামী দিনে নারায়ণগঞ্জ বারে জাতীয় ভাবে কোন রাজনীতি করা হবেনা এবং হলেও সকলে একত্রিতভাবে কাজ করে যাবো। বারের সকল দূর্নীতি বন্ধ করা হবে। সেইসাথে জনস্বার্থেও বিভিন্ন কাজ করা হবে।
কোন ব্যক্তি যদি ন্যায় বিচারের জন্য মামলায় জড়িয়ে থাকে এবং মামলা চালানোর জন্য যদি তার কাছে পর্যাপ্ত পরিমানে টাকা না থাকে তবে আইন সহায়তাকারীদের অবগত করলে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগীতা করা হয়। আর তার কাজই আমরা বিনামূল্যে করে থাকি। এসকল ব্যাক্তিদের সনাক্ত করতে আমাদের কমিটি (আইন ও মানবাধিকার সংস্থা) আছে, যার সভাপতি এ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু এবং সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. খোকন সাহা।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম