Fri, 14 Dec, 2018
 
logo
 

রণক্ষেত্রে পরিণত বিসিক: দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ফকির অ্যাপারেলসের মতো গার্মেন্টেসও শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরী পাচ্ছেন না। সম্প্রতি আন্দোলনের মুখে পরে কর্তৃপক্ষ মুজুরী কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তাকে যথেষ্ট মানছেন না শ্রমিকরা। আর এ জন্যই গার্মেন্টসটির শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল হয়েছে বিসিক শিল্পনগরী।

সোমবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে ফকির অ্যাপারেলস শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেন। এক পর্যায়ে ওই আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়। ফকির অ্যাপারেলসের ভিতরের আন্দোলন ছড়িয়ে পরে পুরো বিসিকে। ভাঙ্গচুর করা হয় বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস ও গাড়ি। আহত হয় পুলিশ-সাংবাদিকসহ অনেকেই।

রণক্ষেত্রে পরিণত বিসিক: দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা

এর আগে চুক্তি ভিত্তিক শ্রমের মুজুরী বৃদ্ধি, কিছু স্টাফকে চাকুরীচুক্তসহ শ্রম আইন প্রতিষ্ঠার দাবিতে গত ২৮ নভেম্বর আন্দোলন করে ফকির অ্যাপারেলসের শ্রমিকরা। পরে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নিলেও ২৯ নভেম্বর গার্মেন্টসটির সামনে পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যদের অবস্থান থাকায় গার্মেন্টসটিতে ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালায়। ওই দিনও এঘটনায় আহত হয় কয়েকজন স্টাফ ও পুলিশ সদস্য। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রণক্ষেত্রে পরিণত বিসিক: দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা

বিসিক থেকে আমাদের লাইভ নারায়ণগঞ্জের প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার বিভিন্ন কারাখানার মালিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের উৎপাদন মজুরি সমন্বয় করার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা মেনে না নিয়ে বিসিকের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় তারা ফকির, এমভি গার্মেন্টসসহ আশপাশের ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। শিল্প মালিকদের কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়িও তারা ভাংচুর করে। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও ফতুল্লা থানা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা সহ বিপুল পরিমান পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে। এতে শ্রমিকরা পুলিশের উপর ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে শুরু হয় শ্রমিক-পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ঘন্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘষের সময় শিল্প পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার, ফতুল্লা থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ও ৭/৮জন পুলিশ সদস্য সহ প্রায় অর্ধশত সাধারণ শ্রমিক আহত হয়। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এসময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সংঘর্ষের ঘটনার কারনে বিসিক সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে প্রায় দুই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ ঘটনার পর বিসিক শিল্প নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

রণক্ষেত্রে পরিণত বিসিক: দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা

বিকেএমইএর’র সাবেক সভাপতি ও এম.ভি নীট ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা মো: হাতেম জানান, উৎপাদান মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে ফকির নীটওয়্যার কারখানার শ্রকিদের মধ্যে গত তিনদিন ধরে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। মালিকপক্ষ মজুরি বৃদ্ধি করলেও দাবী অনুযায়ী বৃদ্ধি না হওয়ায় শ্রমিকরা রোববার কারখানাটির অভ্যন্তরে বিক্ষোভ করে। এ অসন্তোষ নিরসনে কারখানাটির মালিকপক্ষ আজ সোমবার সকালে বিসিক কর্তৃপক্ষ, বিকেএমইএ কর্তৃপক্ষ ও শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনায় বসেন।

রণক্ষেত্রে পরিণত বিসিক: দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা

তারা মঙ্গলবার বিভিন্ন কারাখানার মালিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের সাথে উৎপাদন মজুরি সমন্বয় করার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা মেনে না নিয়ে বিসিকের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে এ বিক্ষোভ পুরো বিসিকে ছড়িয়ে পড়লে বিশেষ পোশাকধারী বহিরাগত শতাধিক যুবক এসে শ্রমিকদের সাথে যোদ দেয়। এসময় তারা বিসিকসহ আশপাশের ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। বিসিকের এম.ভি নীটওয়্যার, নরসিংপুর এলাকার সাহিল গ্রুপ, হাজী হাসেম স্পিনিং মিল ও তারা স্পিনিংমিলে ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে অসংখ্য জানালার কাঁচ ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

রণক্ষেত্রে পরিণত বিসিক: দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা

নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাবুব উন নবী জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য শ্রমিকদের বোঝাতে চেষ্টা করে। তবে শ্রমিকদের মধ্যে বহিরাগত শতাধিক যুবক মিলে গিয়ে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা করে। তারা বেশ কয়েকটি শিল্প কারখানা ও যানবাহন ভাংচুর করে। এতে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে বহিরাগতদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। শ্রমিকদের হামলায় শিল্প পুলিশ ও ফতুল্লা থানার আহত পুলিশ কর্মকর্তা বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। তবে এর সংখ্যা এখন নিশ্চিত করে বলা যাবে না। পরে খোঁজখবর নিয়ে বলা যাবে। এ ঘটনার পর বিসিক শিল্প নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হয়েছে।

এবিষয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) শাহ্ মোহাম্মদ মঞ্জুরুল কাদের জানান, আমরা এখন (দুপুর ২টা) বিসিকেই অবস্থান করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এঘটনায় পুলিশের ৭ থেকে ৮জন সদস্য আহত হয়েছে। তবে এখনো কোন মামলা হয়নি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম