Tue, 11 Dec, 2018
 
logo
 

‘১৯ সালে না.গঞ্জে দারিদ্রতার হার শূণ্যে নেমে আসবে : সেলিম ওসমান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বর্তমানে সরকারী হিসেবে নারায়ণগঞ্জে দারিদ্রতার হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ উল্লেখ করে ২০১৯ সালের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে দারিদ্রতার হার শূণ্যে কোটায় নেমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি ও নারাযণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

সোমবার ১২ নভেম্বর সকাল ১১টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটে আমন্ত্রন কমিউনিটি সেন্টারে কর অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ এর উদ্যোগে ২০১৭-২০১৮ করবর্ষের করদাতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

এ বছর নারী করদাতাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলায় শ্রেষ্ঠ করদাতার সম্মাননা অর্জন করেছেন এমপি সেলিম ওসমানের সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান। এ নিয়ে টানা তৃতীয় বারের মত জেলার শ্রেষ্ঠ নারী করদাতার সম্মাননা অর্জন করলেন মিসেস নাসরিন ওসমান।

সেলিম ওসমান আরো বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে নিজের এবং আমার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর পরিমান ট্যাক্স দিয়ে থাকি। নারায়ণগঞ্জের কর কমিশনের উচিত যেসকল ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে বেশি পরিমান কর আদায় হয়ে থাকে। সেই সকল ব্যবসায়ী সংগঠন গুলোকেও পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেওয়া।

কর কমিশনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের উচিত ব্যবসায়ীদের সাথে আরো বেশি আলোচনায় বসা। প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহযোগীতা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে আলোচনার ব্যবস্থা করা। এতে করে ব্যবসায়ীদের মাঝে কর কমিশনের যে ভীতি রয়েছে সেটি একদিকে যেমন দূর হয়ে উভয়ের মাঝে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হবে অপর দিকে কর আদায়ের পরিমানও অনেক বেশি পরিমান বৃদ্ধি পাবে। বছর শেষে আমরা বাদানুবাদ করতে চাই না। আমরা চাই প্রতি মাসেই করের টাকা পরিশোধ করে দিতে।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, উনারা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এখন আমি যদি উনাদের কাছে প্রশ্ন রাখি আপনার কয়টা গরু আছে? আমি নিশ্চিত উনারা বলবেন একটিও না। কিন্তু উনাদেরও উচিত প্রধানমন্ত্রীর একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেদের ভূমিকা রাখা। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় ভবনে যে ছাদ রয়েছে সেখানে ছাদ কৃষির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতি সরকারী দপ্তরের ভবনের ছাদেও এটা করা যেতে পারে।

রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ গাছ লাগানো যেতে পারে। এগুলো করা উচিত বলে আমি মনে করি। আমরা যারা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করি সেখানে দিনের বেলায় সোলারের মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে করে বিদ্যুৎ বিল অনেক কমে যাবে। তখন দেখা যাবে আমাদেরকে ট্যাক্স দিতে আর বাড়তি চাপ নিতে হবে না।

নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি শিল্প কর্মময় ব্যস্ত জেলা। আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে টেলিভিশনে দেখানোর সুযোগ হয়না। দেখালেও তা মাত্র কয়েক সেকেন্ড দেখায়। তাই আমাদের নারায়ণগঞ্জের জন্য একটি টিভি চ্যানেল এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক ভাইয়ের যদি কেউ আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করবেন। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক, বিকেএমইএ এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স আপনাদের সহযোগীতা করবে। যেমন করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেডিও নারায়ণগঞ্জ নামে একটি রেডিও স্টেশন চালু করা হয়েছে।

কর কমিশন নারায়ণগঞ্জ এর কমিশনার রনজীত কুমার সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া বলেন, যারা নিয়মিত কর দিয়ে থাকেন উনারা রাষ্ট্রের সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। উনাদের দেওয়া কর গুলো একত্রিত করে সেখান থেকে ক্ষুদ্র একটি অংশ থেকে আমাদের সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়া হয়। তাই আমি নিজের অবস্থান থেকে সব সময় মানুষের জন্য একটু বাড়তি সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। করদাতা আরো বেশি সুযোগ সুবিধা দিয়ে সম্মানিত করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, যারা করদাতা তারাই বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়নের মহাসড়কের অংশীদার। আগামী ১০০ বছরে বাংলাদেশের কি কি উন্নয়ন হবে তার একটি রূপরেখা প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে সামনে এনেছেন। তাই করদাতাদের সম্মান দিতে হবে। কারন উনাদের দেওয়া করের টাকাতেই সেই উন্নয়ন বাস্তবায়িত হবে। কর কমিশনের কর্মকর্তাদের আমি আরো বিনয়ী হওয়ার অনুরোধ রাখবো। সেই সাথে করদাতাতের আরো সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে উনাদের সম্মানিত করার অনুরোধ রাখবো।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল বলেন, পূর্বে কর নিয়ে ব্যবসায়ীদের মাঝে একটা ভীতি ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর উনি উদ্যোগ নিয়ে জনগন, ব্যবসায়ী এবং কর কর্মকর্তাদের মাঝে একটি সেতু বন্ধনের সৃষ্টি করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে এক সময়কার তলি বিহীন ঝুড়ি বাংলাদেশ আজকে নিজের টাকায় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করছে। এই উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে।

এফবিসিসিআই এর পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা বলেন, আমাদের ব্যবসায়ী নেতা সেলিম ভাই প্রথম জেলা ভিত্তিক করদাতাদের পুরস্কৃত করতে তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর কাছে জোরালে দাবী রেখে ছিলেন এবং নারায়ণগঞ্জে কর ও ভ্যাটের কার্যালয় এনে ছিলেন। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মত আমি জেলা থেকে শ্রেষ্ঠ করদাতার সম্মাননা অর্জন করে ছিলাম। সেদিন একটি টকশোতে আমার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ায় আমি বলেছিলাম আমি সেই দিন আনন্দিত হবো যেদিন এই সম্মাননা পুরস্কারটি অন্য কেউ নিয়ে যাবে। ওই সময় আমি যে পরিমান কর দিয়ে ছিলাম বর্তমানে তাঁর থেকে ৫ গুন কর দিয়েও আমি এখন আর পুরস্কার পাই না। তাহলে বুঝতে হবে দেশের কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে। এই অগ্রগতি অবহ্যাত রাখতে আমি কর কমিশনের কাছে অনুরোধ রাখবো আমাদের ব্যবসায়ীদের মাঝে অনেকেরই কর দেওয়ার সামর্থ রয়েছে। কিন্তু উনারা কর দিতে চান না। এক্ষেত্রে প্রদানের প্রক্রিয়াটিও একটি কারন। তাই কর প্রদানের প্রক্রিয়াটি আরো সহজ করে কর দেওয়ার সামর্থ্য থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে উনাদের করের আওতায় নিয়ে আসতে পারলে রাষ্ট্রীয় কোষগারে আরো অনেক বেশি রাজস্ব জমা হবে এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সহধর্মিনী ও টানা তিনবার জেলার শ্রেষ্ঠ নারী করদাতা সম্মননা পাওয়া মিসেস নাসরিন ওসমান, বিকেএমইএ এর দ্বিতীয় সহ সভাপতি ফজলে এহসান শামীম, বাংলাদেশ ইয়ার্ণ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়মান, মোল্লা সল্ট ইন্ডাস্ট্রির স্বত্তাধিকারী মোল্লা মোহাম্মদ মোসলে উদ্দিন, সহরকারী কর কমিশনার আব্দুর সবুর খান সহ অন্যান্যরা।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম