Mon, 22 Oct, 2018
 
logo
 

১২ দফা দাবিতে শ্রমিকদের না.গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচী

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: আদমজী ইপিজেড এ অবস্থিত বেকা গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল লিঃ এর শ্রমিকরা বেআইনিভাবে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল, শ্রমিক নির্যাতনকারী বেপজা কর্মকর্তা নাসরিন, মুজাম্মেল, মনিরের অপসারণ, মাতৃত্বকালীন ছুটির টাকাসহ ১২ দফা দাবিতে আজ বেলা ১১ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচী পালন করে।

কারখানার শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনশন কর্মসূচীতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোট নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক ও কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়নগঞ্জ জেলার নেতা হিমাংসু সাহা, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আব্দুল হাই শরীফ, সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এইচ রবিউল, বাসদ ফতুল্লা থানার সমন্বয়ক এম এ মিল্টন, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক এস, এম, কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট গাবতলী-পুলিশ লাইন শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, বিসিক শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সাইদুর, গাবতলী-পুলিশ লাইন শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, ফতুল্লা থানার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহসিন,কারখানার শ্রমিক দুলালী, কামাল, নাজমা, রাহিমা, দেলোয়ার, সুমনা, ফাতেমা, বিউটি, জলিল, উজ্জল, আবু বকর, জসিম।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আদমজী ইপিজেড সংরক্ষিত এলাকার নামে কারাগারে পরিনত হয়েছে। কোন রকম গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা শ্রমিকরা করতে পারে না। নাম মাত্র ইপিজেড আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন নাই। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ বেকা গার্মেন্টস এ- টেক্সটাইল লিঃ । ইপিজেড আইনে ৭ তারিখের মধ্যে বেতন দেয়ার আইন থাকলেও বেকা গামেন্টসে ১৫/২০ তারিখে বেতন দেয়া হয়। গত এক বছরেরও বেশী সময় ধরে ১০ ঘন্টা সময়ের পরের অতিরিক্ত ওভারটাইমের টাকা দেয়া হয় না। মাতৃত্বকালীন ছুটির টাকা দেয়া হয় না, জোর করে স্বাক্ষর রেখে দেয়। অর্জিত ছুটির টাকা, পিএফ এর টাকা দেয়া হয় না। এগুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে শ্রমিকরা কথা বলতে চাইলে তাদের গালিগালাজ করা হয়, ভয়-ভীতি দেখানো হয়। ১২ সেপ্টেম্বর শ্রমিকরা তাদের সংকট নিরসনে মালিকের কাছে ১২ দফা দাবি দেয়। ঐদিনই মালিক বেআইনিভাবে কারখানা বন্ধ করে। ১৭ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের চাপে কারখানা খুলে দিলেও মালিক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ৩৯ জন শ্রমিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক বরখাস্তের নোটিশ দেয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ১২ দফা দাবিতে আন্দোলনরত বেকা গার্মেন্টস এর শ্রমিকরা ১৯ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করে লিখিতভাবে তাদের সংকটের কথা জানায়। নোটিশপ্রাপ্ত ছাড়া বাকি শ্রমিকদের জেলা প্রশাসক কাজে যোগ দিতে বলেন। কাজ করার পাশাপাশি তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে মালিক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার জন্য বলেন। তিনি এ বিষয়ে আদমজী ইপিজেড এর জিএম-কে ফোন করে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার দায়িত্ব অর্পন করেন। কিন্তু নোটিশপ্রাপ্ত ছাড়া অন্য শ্রমিকরা কাজে গেলে বেপজার ডেপুটি ম্যানেজার নাসরিন আক্তার, কাউন্সিলর মনির হোসেন, মোজাম্মেল শ্রমিকদের সাদা কাগজে সই দিয়ে কাজে যোগ দিতে বলেন। শ্রমিকরা বেআইনি সাদা কাগজে সই দিতে অস্বীকৃতি জানালে বেপজা কর্মকর্তারা ও কারখানার কমপ্লায়েন্স জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করে শ্রমিকদের অকথ্য গালিগালাজ করে কারখানা থেকে বের করে দেয়। শ্রমিকরা শিল্প পুলিশ এর নিকট অভিযোগ দিলে ২৩ সেপ্টেম্বর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার ১০ জন শ্রমিককে আলোচনার জন্য ডাকলে বেপজার ঐ কর্মকর্তারা শ্রমিকদের পুলিশ সুপারে নিকট দেখা করতে দেয়নি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বেপজা নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হলেও আদমজী ইপিজেড-এ বেপজা উলঙ্গভাবে মালিকের পক্ষাবলম্বন করছে। বেকার মালিক আইন লঙ্ঘন করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। একশত শ্রমিকের প্রায় এককোটি টাকা বেকার মালিক মেড়ে দেয়ার পায়তারা করছে, অথচ সেখানে বেপজা হতদরিদ্র শ্রমিকের টাকা আদায় না কওে দিয়ে মালিককে সহায়তা করছে। নেতৃবৃন্দ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বরখাস্ত ও ছাঁটাইকৃতদের চাকরিতে পুনর্বহাল, শ্রমিক নির্যাতনকারী নাসরিন আক্তার, কাউন্সিলর মনির ও মোজাম্মেলকে বেপজা থেকে অপসারণ, মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ শ্রমিকদের ১২ দফা মেনে নেয়ার দাবি জানান।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম