Tue, 14 Aug, 2018
 
logo
 

প্রায় ৫ হাজার কোটি থেকে ৪৭ বছরে ৪ লাখ কোটির বাজেট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ৪৬ বছর আগে প্রায় রিক্তহস্তে যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশের যুদ্ধবিধ্বস্থ অবকাঠামো, অভাব-অনটনে জর্জরিত সাড়ে ৭ কোটি মানুষের দেশে ছিল পঙ্গু অর্থনীতি। ছিলনা কোন সচল শিল্পকারখানা।

রাজকোষ ছিল প্রায় শূন্য। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ছিল শূন্যের ঘরে। সেই শূন্য থেকে মানুষের হাড়ভাঙা শ্রম আজ মহীরূহে রূপ পেয়েছে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র দেশটির অর্থনীতি। তিলে তিলে গড়ে ওঠা অর্থনীতির বলেই এখন অনেকটা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বিশাল অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ চলতে পারছে।

মাত্র ৪ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার অর্থনীতি নিয়ে ১৯৭১ সালে যাত্রা শুরু করলেও ৪৭ বছরে দেশ এগিয়েছে অনেক দূর। অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উজ্জ্বলতর সক্ষমতা দেখাতে পেরেছে বাংলাদেশ। এখন সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগেও বড় হয়েছে দেশের সব খাতই।

স্বাধীনতার পর প্রতিবছর দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বাজেটের আকারও। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা ধরনের বাধা-বিপত্তির মধ্যেও দেশকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। স্বাধীনতার পর গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশ এসব বাধা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর থেকে আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের বাজেটের আকার বেড়েছে ৪৩ হাজার ১৫৭ শতাংশ, রাজস্ব আয় ১ লাখ ২৫ হাজার ২০১ শতাংশ ও এডিপির আকার বেড়েছে ৯৬ হাজার ৪৫১ শতাংশ।

সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ওই সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ঘোষণা করা হয় ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬৬ কোটি টাকা। আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। হিসাব অনুসারে ১৯৭২-৭৩ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু বাজেটের পরিমাণ ছিল ১১২ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২৫০ টাকা।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করেন তাৎকালীন সরকারের অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। ওই সময়েও উদ্বৃত্ত বাজেট প্রণয়ন করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মূল বাজেটের পাশাপাশি রেল বাজেটকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে আলাদা একটি উপ-বাজেট হিসেবে দেখানো হতো। তবে তা মূল বাজেটেই অন্তর্ভুক্ত থাকত। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের পর বিভিন্ন সময়ে মোট আয় ও মোট ব্যয় বেড়েছে। তবে মাঝেমধ্যে এডিপির আকার কমানো হয়। তবে এখন বাড়ছে।

এবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৪ লাখ ৬৮ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মহিত।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম