Fri, 14 Dec, 2018
 
logo
 

দলীয় মূল্যায়নের বিষয়ে ড. কামাল হোসেন কোন বিবেচনায় নিবেন : তৈমুর

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ৬ই ডিসেম্বর রাজনৈতিক দলের অজান্তেই স্বৈরাচার পতন দিবস চলে গেলো। “গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক” এ শ্লোগানটি বুকে ধারন করে এরশাদের গুলিতে নুর হোসেনের প্রাণ গেলেও গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে কি?

নির্বাচন কমিশনের ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও দেশের ভাগ্য নির্ধারণ, সরকার গঠন, দেশ বাসীকে নিরাপত্তা সহ লালন পালন, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে রাষ্ট্রের অবস্থান সঠিক রাখা সহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা হেলা ফেলা হিসাবে দেখলে হবে না। পূর্বাপর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, রাজনীতির মাঠে বিচরন করা মানুষগুলিই রাজনেতিক নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতো। কারণ তারা জনগণের দাবী দাওয়া নিয়েই মাঠে থাকে, বৃষ্টিতে ভিজে, রৌদ্রে শুকায় এবং তাদেরকেই নির্বাচন নামক ভোটের মাঠে লড়াই করতে দেখা যেতো। কিন্তু সম্প্রতিকালে বাস্তব দৃশ্য হচ্ছে ভিন্নতর। সরকারী দলে মধু বেশী, অন্যদিকে পুলিশী নির্যাতন নাই, মামলা হামলার তো প্রশ্নই আসে না। ফলে হালুয়া রুটির ভাগ বাটোয়ারার জন্য সরকারী দলে নমিনেশন বিক্রির হিরিক পড়েছে। কিন্তু বিরোধী দলেও নমিনেশন ফর্ম কম বিক্রি হয় নাই। এর কারণ শেখ হাসিনা সরকারের দু:শাসনে ভুক্তভোগী নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের ঢল নেমেছে নমিনেশন ক্রয়ের জন্য, এ বিষয়টি সাধারণ মানুষ একটি উৎসব বলেই মনে করছিল। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ে হেভি ওয়েট প্রার্থীরা এম.পি হওয়ার জন্য নির্বাচনী মাঠকে যে ভাবে কোরবানীর হাঠে পরিনত করেছে তা নিতান্তই রঙ্গমঞ্চের তামাশার মতই মনে হচ্ছে যেমনটি সার্কাসের “সং” নামক নটরাজদেরও হার মানায়। ১/১১ সরকারের একজন খল নায়ক লে: জে: (অব:) মাসুদউদ্দিন বলেছেন যে, “শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না আসলে পিঠের চামড়া থাকবে না।” অথচ তিনি দাড়িয়েছেন লাঙ্গল মার্কায়। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, যা করছি শেখ হাসিনার নির্দেশেই করছি (সূত্র: জাতীয় দৈনিক তাং-০৩/১২/২০১৮)। জাতীয় নির্বাচন আসলে উপর তালার নটরাজদের রাজনৈতিক চরিত্র কত প্রকার ও কি কি তা সহজেই অনুমান করা যায়। তাদের এ চরিত্রকে কোরবানীর গরুর হাটের সাথে তুলনা করে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে নিজেকে ছোট করতে না চাইলেও এর চেয়ে ভালো উপমা দেয়া এপ্রোপ্রিয়েট বলে মনে হচেছ না।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন পাওয়া দলের কর্মীর ন্যায্য অধিকার, দলের দায়িত্ব কর্মীকে নেতায় পরিনত করা ও কর্মীর পিছনে জনভিত্তি দাড়করানোর দায়িত্ব দলের। কিন্তু রাজনৈতিক দল সে কাজটি না করে দলীয় নেতৃত্ব পকেট ভারী করার খবর বিভিন্ন ভাবে চাওর হচ্ছে। নমিনেশন একটি স্বীকৃতি। এক স্বীকৃতি কাদের পাওয়া উচিৎ?

শর্ষে যদি ভুত থাকে তবে রাজনীতির গুনগতমান বৃদ্ধি হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। জাতি যাদের দিকে তাকিয়ে থাকে তাদের চরিত্র যদি হয় কুলষিত অর্থাৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বা প্রার্থী বাছাই এ গুনগত বিষয় পর্যালোচনা বা বিবেচনা না করে “বিত্তমান” হওয়াটাই বিবেচনার কেন্দ্র বিন্দু হয়ে পড়ে তবে গুনগতমান উন্নতির পরিবর্তে নিম্মদিকেই ধাবিত হবে এবং হচ্ছে। স্বৈরাচার ও দু:শাসন ঠেকাতে হলে জনগণ লাগবে, জনগণ তখনই নামবে যখন নেতৃত্বের স্বচ্ছতা থাকবে। নেতার বক্তব্য ও ব্যক্তিগত চরিত্রের গুনগত ডিফারেন্স বুঝার বা উপলব্দি করার ক্ষমতা নিশ্চয় জনগণের রয়েছে। জনগণ এখন ভাবাবেগে চলে না, বরং বাস্তবতায় বিশ্বাসী।  

সরকারের দু:শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ কেন মাঠে নামলো না বা গণবিপ্লব বা গণ বিস্ফোরন কেন ঘটলো না এ নিয়ে জাতীয় নেতৃত্বের নিকট কোন গবেষণামূলক তথ্য নাই। যদি থাকতো তবে নিশ্চয় তা প্রকাশ পেতো। মূলত: এটাই প্রতিয়মান হচ্ছে যে, একদিকে জাতীয় নেতাদের সারশুন্য বক্তব্য অন্যদিকে সরকারের মিথ্যাচার, এ দুটাই জাতিকে ভাবিয়ে তুলেছে। একটি জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের মধ্যে যে আশা আখ্যাংকার প্রতিফলন হওয়ার কথা গ্রামে গঞ্জে তা প্রতিফলিত হচ্ছে না। ইতোপূর্বে নিকট সম্প্রতিকালে জনগণ নির্বাচন দেখেছে যেখানে কেবল আদর্শিক ব্যক্তির চেয়ে দলগুলি ধনবানদেরই বেশী প্রাধান্য দিয়েছে, যার ফলে জনগণ শোষিত হয়েছে বার বার। পুজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় আদর্শের যেমন কোন বালাই নাই, ঠিক তেমনি নির্বাচনের উদ্দেশ্য (রাষ্ট্রীয়) শাসন ব্যবস্থায় নিজ, নিজের পরিবারের ও অনুগতদের ভাগ্য পরিবর্তনে নিজেকে অংশীদার করা। সোরোয়ার্দী উদ্যানে প্রধান অতিথির ভাষনে ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত মহাসমাবেশে ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন যে, টাকা ওয়ালাদের পিছনে ঘুরবেন না, আদর্শিক ব্যক্তি চাই। আদর্শবান ব্যক্তি তারাই যারা জনগণের সাথে সম্পৃক্ত, জনগণের প্রতি যার ত্যাগ ও সার্ভিস রয়েছে। কিন্তু দলীয় মূল্যায়নের বিষয়ে আদর্শবান ব্যক্তিরাই এখন আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। দল ছুটেরাই প্রাধান্য পাচ্ছে। এখন ও বিষয়টি ড. কামাল হোসেন কোন বিবেচনায় নিবেন? 

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম