Fri, 14 Dec, 2018
 
logo
 

আতঙ্ক নিয়ে প্রচারণা অসম্ভব : এটিএম কামাল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নির্বাচনী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে আমাদেরকে নানা ভাবে হয়রানি করা হবে। এই আতঙ্ক আমাদের মধ্যে সবসময় কাঁজ করে।
আতঙ্ক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়া যায় না। তাছাড়া আচরণ বিধি শুধু আমাদের জন্য, সরকারি দলের জন্য কোন আচরন বিধি নাই।
 
বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় লাইভ নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এটিএম কামাল এমন কথা বলেন। আসন্ন জাতিয় সংসদ নির্বাচনে সোনারগাঁও-৩ আসনে ঐক্যফ্রন্ট হতে বৈধ হওয়া মনোনীত প্রার্থী রয়েছে দুই জন। এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং ঐক্যফ্রন্টের জেএসডির প্রার্থী এএনএস ফখর উদ্দিন ইব্রাহিমের মনোনয়ন নারায়ণগঞ্জের ইসি বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন।
 
ঐক্যফ্রন্ট হতে দুইজন প্রার্থীর মধ্যে কাকে পছন্দ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে এটিএম কামাল বলেন, আমি যেহেতু বিএনপি করি তাই প্রথমেই আমি আশা রাখবো প্রার্থীটা আমার বিএনপির হোক। এইটা দলের প্রতি ভালোবাসা, ¯্রদ্ধা-বিশ্বাস এবং আস্থা হতে আসা আমার প্রত্যাসা। তার পরেও যদি আমাদের দল ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে জোটের অন্য কোন প্রার্থীকে দেয় সেই সিদ্ধান্তকে আমরা কোন মতেই অমান্য করতে পারবো না। ধানের শিষ যার হাতে থাকবে আমরা তার জন্য ভোট চাইবো। মূলত আমরা মনে করি কোন ব্যাক্তি নয়, আমাদের প্রার্থী হল ধানের শিষ।
 
বিএনপি হতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া সোনারগাঁও-৩ আসনের আরেকজন প্রার্থী আবু জাফর। যিনি সরকারি ভাবে মনোনয়ন ক্রয় করেন নাই এবং জমাও দেয় নাই। কিন্তু তিনি গত ৫ ডিসেম্বর বুধবার লাইভ নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে তার একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন মান্নান সাহেবের রাজনীতি, শিক্ষা-দিক্ষা সব দিক হতে তার হতে পিছিয়ে। তাই তার সঙ্গে লজ্জায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়নি। অপরদিকে ডামি প্রার্থী হওয়ারও কোন ইচ্ছা তার নেই। তাই তিনি সরকারি মনোনয়ন ক্রয় করেন নাই।
 
এই সম্পর্কে এটি এম কামাল বলেন, আমি গণতন্ত্রের বিশ্বাস করি। মতামত দেওয়ার স্বাধীনতা তার আছে। আমি যেমন আমার দৃষ্টিকোন হতে মতামত দিয়েছি। উনি তার মতো করে দিয়েছেন। গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র স্বাধীন মতামত হওয়ায় আমি তার সম্পর্কে মন্তব্য করবো না। 
 
আসলে বিএনপি একটি বড় দল। তাই এই দলের মধ্যে মত ও মতের পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। আবার দেশ বাঁচানোর জন্য এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সকলেই একটা ঐক্যমতে এসেই কাজ করবে। তাই যার যার মতামত বা প্রতিক্রিয়া তাদের ব্যাক্তিগত হওয়ায় আমি বিষয়টাকে ভাঙ্গনের কোন সম্ভাবনায় দেখছি না।
 
 
ঐক্যফ্রন্টের হতে সিদ্ধান্তে যিনি প্রার্থী হবেন তাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই আসনের জনগণ সুন্দর সমাজ ব্যাবস্থা চায়। সন্ত্রাস মুক্ত, জঙ্গি মুক্ত, যেখানে মানুষ নিজেকে অনিরাপদ ভাববে না, মানুষের যানমালের নিরাপত্তা থাকবে, মাদকের বিস্তার থাকবে না, গায়েবি মামলা এবং মিথ্যা মামলা কারো বিরুদ্ধে থাকবে না, মামলার জন্য হয়রানি থাকবে না, মানুষের বাক-স্বাধীনতা থাকবে, মানুষ তার ভোটের অধীকার ফিরে পাবে ইত্যাদি বিষয়গুলো তারা চায়। তাই তাদের এই বিষয়গুলোর উপর আপনাদের সোচ্চার হতে হবে। শুধু ৩ আসন নয় এইগুলো আমার এবং ৫টি আসনের সকল জনগণেরও প্রত্যাসা আপনাদের কাছে। ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় আসলে আপনারা এই বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠা করবেন।
 
আওয়ামীলীগ সহ অন্যান্য দলগুলো যেখানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি গঠন এবং আলোচনা সভা করছে। অপরদিকে বিএনপির পক্ষ হতে এমন কোন ব্যাবস্থা কি নেওয়া হচ্ছে?
 
এটিএম কামাল বলেন, যেখানে বিএনপিকে মাঠেই নামতে দিচ্ছে না, যেখানে আওয়ামীলীগ নির্বাচনী আচরন বিধিকে উপেক্ষা করে প্রচারনা এবং প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নির্বাচনী কার্যক্রম করার সুজোগ পাচ্ছেন। আর আমরা বাড়িঘরে থাকতে পারি না। গায়েবী মামলায় জর্জরিত হয়ে আছি। আমরা থাকছি আদালতে ও কারাগারে। নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড এখনো কমিশন সৃষ্টি করতে পারে নি। আমাদের প্রার্থীরাও এখনো মাঠে নামতে পারছে না প্রচার প্রচারণা করার জন্য। স্বাভাবিক কার্যক্রম হতেই যেহেতু আমাদেরকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে তাই কমিটি গঠনের ব্যাপারে আমরা কি করে এগোতে পারি।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম