Sat, 15 Dec, 2018
 
logo
 

না.গঞ্জ-৫ আসন: কার ঘরে যাবে ধানের শীষ?

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতিকের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছে জোটের দুই র্শীর্ষ নেতা। এতে মনোনয়ন হারানোর শঙ্কায় রয়েছে বিএনপির পুরোনো প্রার্থীরা। তবে কার ঘরে যাবে ধানের শীষ? এ প্রশ্নের উত্তর এখনো বলতে পারছে না কেউ।

রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, ১৯৯১ সালে সদর-বন্দর আসন পায় বিএনপি। ১৯৯৬ সালে যদিও ওই আসনটি চলে যায় আওয়ামীলীগের ঘরে। তবে ২০০১ সালে পুনরায় বিএনপি নির্বাচিত হয় আসনটিতে। এরপর ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আসনটি চলে যায় জাতীয় পার্টির দখলে। তাই এবার বিএনপির ঘরে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিলো নেতাকর্মীরা। তবে জোটের দুই প্রভাবশালী প্রার্থী আসনটি থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাওয়ায় স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। কার ঘরে যাবে ধানের শীষ? এ প্রশ্নের উত্তর এখনো বলতে পারছে না কেউ।

একদিকে ২০ দলিয় জোটের অন্যতম নেতা ও সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক কমরেড কমরেড সাইদ, অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম।

স্থানীয়দের মতে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে কমরেড সাইদ আহাম্মেদের পাল্লা ভাড়ি। কারণ ২০ দলের এক মাত্র চীনপন্থী কমিউনিষ্ট পার্টি সাম্যবাদি দল। যার অংশগ্রহণে মৌলবাদী জোটটি এখন আর মৌলবাদী হিসেবে গণ্য হয় না বহির বিশ্বে।

কমরেড সাইদ বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জের বড় বাড়ির সন্তান হওয়ায় এলাকাটিতে রয়েছে তার ব্যপক জনপ্রিয়তা। তার বাবা অ্যাড. মৃত মাইনুদ্দিন আহম্মেদ ছিলেন ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। ১৯৭০ ও ৭৩ সালে নৌকার বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ ৪-৫ আসনে নির্বাচন করেন। তাই আওয়ামী বিরোধী ভোটের রাজনীতিতে তাদের ঐতিহ্য রয়েছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যানও ছিলেন।

এছাড়া বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তারের পূর্বে সর্বশেষ ২০ দলিয় জোটের মিটিং জোটের প্রতিটি শীর্ষ নেতার মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত করে গিয়েছেন। এক্ষেত্রে বেগম জিয়া বলেছিলেন, আমাদের কাছে দল, ছোট বড় বলতে কোন কথা নেই। প্রতিটি দলকে সমান মর্যাদা দেওয়া হবে।

পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজকে সরকারি করণের জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গাড়ির সামনে শুয়ে দাবি আদায় করায় বিভিন্ন মহলে তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে।

অন্যদিকে, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরামের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা আছে নারায়ণগঞ্জ শহরে। আওয়ামী লীগের হয়ে’ ৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১–এ হেরেছেন বিএনপির আবুল কালামের কাছে। ২০০৮এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ।

এরপর নারায়ণগঞ্জ সিটির প্রথম মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভক্তি দেখা দেয় আওয়ামী লীগে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থন দেন আকরাম। আইভীর জয় নিশ্চিত করে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন এস এম আকরাম। পরে যোগ দেন নাগরিক ঐক্যে। ঐক্যফ্রন্টের হয়ে এ আসনে এবার প্রার্থী হতে চান তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম