Fri, 16 Nov, 2018
 
logo
 

বিশ্বাস-অবিশ্বাসে বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা!


লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এগিয়ে আসছে জাতীয় নির্বাচনের দিন। নির্বাচন কমিশন ঘোষনা দিয়েছে নভেম্বর মাস জুড়েই চলবে নির্বাচনী কার্যক্রম। এদিকে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মাঝে নানা প্রশ্নের সঞ্চার হচ্ছে।

বিশেষকরে বিরোধী দল বিএনপির হয়েও বিগত দিনে যেসব স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সরকারী দলের বা জোটের এমপিদের সঙ্গে মিশে গেছে। হামলা-মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার দোহাই দিয়ে এমপিদের সভা সমাবেশে যোগদান করেছে, বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে পাশে থেকেছে, আসন্ন নির্বাচনে তাদের অবস্থান কি হবে? এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে।

জানা গেছে, ‘দল যার যার, সেলিম ওসমান সবার’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার ৪ বছর উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির আয়োজনে গত ২৬ জুন নগরীর খানপুরের হাসপাতালের সামনের সড়কে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপি পন্থী নেতাদের উপস্থিতি ও তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে বিএনপি নির্বাচনে আসলেও এসব নেতারা সেলিম ওসমানের পক্ষেই কাজ করবেন।

যে অনুষ্ঠানে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, বিএনপিপন্থী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ( এনসিসি) ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমশের আলী ঝন্টু, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সুলতান আহমেদ ভুইয়াও বক্তব্য দেন।

বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল বলেন, সেলিম ওসমানের গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। অনেক আওয়ামীলীগের ভাইয়েরা বলেন, আপনে ডর ভয় নিয়া চলেন। আমি আগেই সেলিম ভাইরে বইলা দিছি, আমার জেল, মৃত্যু, চেয়ারম্যানি খাইয়া ফেলাইলে খাইয়া ফালান। কিন্তু আমার যেটা করণীয় আমি সেটা করবো। সেলিম ওসমানের স্মরণশক্তি ও মেধা দেখে আমার অনেক শ্রদ্ধা জাগে। নাসিম ভাই আমাকে খুবই আদর করতেন, শামীম ভাইয়ের সাথে আমার গভীর সম্পর্ক আছে। রাজনীতি এক জিনিস, সম্পর্ক আরেক জিনিস। সেলিম ভাইরে দিয়ে আমি কোটি কোটি টাকার কাজ করেছি। এটা কি আমার অন্যায় হয়েছে। দল ক্ষমতায় নেই দেখে কি আমি আসতে পারবো না। এটা হলো! সাংবাদিক ভাইয়েরা উল্টাপাল্টা লেখেন। জনগণের জন্য আমি যে কোন কাজ করতে আমি রাজী আছি। সেলিম ভাই একজন ভালো মনের মানুষ। তাকে সহযোগিতা করে আমি কাজ করতে পারলে এটা কি আমার অন্যায় হবে?

এনসিসি’র ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার বলেন, সেলিম ওসমান হাজীগঞ্জ ফেরী, বন্দরে ৭টি স্কুলভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করেছেন। তিনি আমাদের ছোট ভাইয়ের মতো সকল অনুষ্ঠানে আমাদের ডাকেন। উনার ডাকে আমরা সাড়া দেই। আগামী নির্বাচনে উনি নির্বাচন করবেন। আমরাও উনাকে আগামী নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত করবো এই প্রত্যাশা রাখি।

২২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, আমি দু’বার সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হয়েছি। আমি কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় সেলিম ভাই এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ৪ বছরের মধ্যে সেলিম ওসমানের কর্মকান্ড লক্ষ্য করেছি। মানুষের প্রতি তাঁর মহব্বত লক্ষ্য করেছি। আগামী দিনে তার কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি সুলতান আহমেদ ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ১ লাখ ভোটারের এলাকা থেকে এসে সেলিম ওসমানের মঞ্চে এসে কথা বলতে পেরে তাঁকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। এলাকাবাসীকে জানাতে চাই, চারটি আবাসিক এলাকাতে সেলিম ভাইয়ের সমর্থকরা আছে। তাদের (সমর্থকদের) ইচ্ছা, তাদের কাউন্সিলর সেলিম ভাইয়ের কাছে যায় না কেনো? সবাই আমাকে বলে আমি কেন যাই না। তাই আগামী দিনে তাকে সর্বভাবে সহযোগিতা করার জন্য আমি আজ মঞ্চে দাঁড়িয়েছি। আমি তার কাছে আমার ওয়ার্ডে পানির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করছি।

এদিকে সিটি করপোরেশরেন ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাসেম শকু এবং ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমশের আলী ঝন্টু, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, কুতুবপুরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, মহিলা কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার দিনা প্রমুখ বিএনপির জনপ্রতিনিধিরাও প্রভাবশালী এমপিদ্বয়ের সঙ্গে আঁতাত রেখে এতোদিন কাজ করেছেন।

এদিকে সরকার দলীয় এমপিদ্বয়ের সঙ্গে আঁতাতকারী বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা নিজ দলেও নানা সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এদের এখন বিশ্বাস করতে চাইছেনা দলের কেউ। অপরদিকে সরকারীদল বা মহাজোটের নেতারাও বিশ্বাস রাখতে পারছেন না তাদের প্রতি। এ আবস্থায় বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলে বিএনপির জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম