Fri, 16 Nov, 2018
 
logo
 

কালাম না আকরাম: কে পাবেন ধানের শীষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে দলীয় প্রার্থী নিয়ে টানপোড়েন শুরু হয়েছে বিএনপিতে। জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠনের পর তৃনমুল নেতা-কর্মীদের মাঝে নানা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরী হয়েছে।

এ আসনে কে পাবে ধানের শীষ? সাবেক এমপি ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম নাকি নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম আকরাম। এনিয়ে শহর বন্দরে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

জানা গেছে, বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পেছনে মুখ্য ভূমিকা রয়েছে ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্নার। যিনি নাগরিক ঐক্যের প্রধাণ। আর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত হওয়া সাবেক এমপি এস এম আকরাম সেই নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো নিয়ে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠনের পেছনে এস এম আকরামের ভূমিকাও কম না। তাই জোট হওয়ার পর ধারনা করা হচ্ছে ৫ আসনে এস এম আকরামের মনোনয়ন এক প্রকার নিশ্চিত। এক্ষেত্রে নেয়ামক হতে পারে বিগত ২০১৪ সালের উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও বিপুল ভোট পাওয়ার বিষয়টি।

অপরদিকে গণমাধ্যমে বিএনপির প্রার্থী একটি তালিকা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, তাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সবকটি আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও ৫ আসনে একমাত্র এড. আবুল কালাম এর নাম উঠে আসে। তালিকা প্রকাশের পর কালাম সমর্থকরা নিশ্চিন্ত থাকলেও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠনের পর চিন্তায় ফেলেছে তাদের।

এব্যাপারে এস এম আকরাম সমর্থকরা জানান, নারায়ণগঞ্জ -৫ আসনে ক্লীন ইমেজের অধিকারী একমাত্র প্রার্থী এস এম আকরাম, যার আলাদা ভোট ব্যাংক রয়েছে। ক্ষমতা ও বিপুল অংকের টাকার বিপরিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও প্রতিপক্ষের ঘাম ঝড়িয়েছেন এস এম আকরাম। তাছাড়া ওসমান পরিবার বিরোধী আওয়ামীলীগের একটি বিরাট অংশ তার সাথে রয়েছে। বিএনপির একটি অংশও উপনির্বাচনে এস এম আকরামকে ভোট দিয়েছেন। নিজস্ব ভোট ব্যাংক এবং আওয়ামীলীগ ও বিএনপির ভোট মিলিয়ে এস এম আকরাম সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হলে নিশ্চিত জয় পাবেন তিনি।

অপরদিকে এড. আবুল কালাম পন্থী বিএনপি নেতা-কর্মীরা বলেন, ৫ আসনে এড. আবুল কালামের কোন বিকল্প নেই। এটা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ভালো করেই জানেন। তিন তিনবার এমপি হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। ক্লীন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে তারও সর্বমহলে গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে মামলায় জর্জরিত হয়ে নির্যাতিত হয়েছেন অনেকবার। কেউ উড়ে এসে জুড়ে বসবে সেটি হবে না।

এদিকে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠনের পর ৫ আসনের রাজনীতিতে মেরুকরণ শুরু হয়ে গেছে। এস এম আকরাম ত্রা সমর্থক আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। কয়েকমাস আগে ঢাকায় এক বৈঠকে এস এম আকরাম তার সমর্থকদের সরাসরিই বলেছেন, ৫ আসনে আমিই নির্বাচন করবো। যে দল থেকেই হোক। তোমরা আমার সাথে আছো। তখন সকলেই সমস্বরে বলেছেন আছি। তবে শহর ও বন্দরে বিএনপি এখনো এড. আবুল কালামের সাথেই আছেন। কিছু অংশ সাখাওয়াত খান ও কাউন্সিলর মাকসুদ খন্দকারের সঙ্গে থাকলেও ধানের শীষ প্রশ্নে দলীয় সিদ্ধান্তই তারা চুড়ান্ত বলে মেনে নেবেন বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম