Fri, 16 Nov, 2018
 
logo
 

‘জাতীয় ঐক্য’ আশা জাগাচ্ছে না.গঞ্জ বিএনপিতে

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘জাতীয় ঐক্য’ এখন রাজনীতির মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের তীব্র সমালোচনার মধ্যেই এগিয়ে চলেছে জাতীয় ঐক্যের কার্যক্রম।

এরইমধ্যে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া হাইকোর্টের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসার পর জাতীয় ঐক্যকে নির্বাচনী ঐক্যে পরিণত করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশের পর জোরালোভাবে জাতীয় ঐক্য নিয়ে কাজ করছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি, মামলা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে জাতীয় ঐক্য। ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো নিয়ে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। শনিবার তারা তাদের লক্ষ উদ্দেশ্য জাতির সামনে প্রস্তাব আকারে তুলে ধরেছেন। এই জাতীয় ঐক্য নিয়ে কি ভাবছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতারা। লাইভ নারায়ণগঞ্জের সাথে এব্যাপারে নিজেদের ভাবনার কথা বলেছেন স্থানীয বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আমার ব্যাক্তিগত মতামত হলো বিএনপির প্রথম প্রধান শর্ত থাকতে হবে, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সাজা মওকুফ। তারেক জিয়ার কথিত সাজা মওকুফ। গায়েবী মামলাসহ বিএনপি এবং বিরধী দলের উপর যে মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে সে সকল মামলা প্রত্যাহার।
তৈমুর বলেন, সুপ্রিম কোর্টে যে বক্তব্য হয়েছে তাতেও আমি এইসব পেস করেছি। জামিন মুক্তই নয়, আমরা সাজামুক্ত খালেদা জিয়া চাই এবং সকল নেতা কর্মীদের মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। যারা এই সকল গায়েবী মামলা দিলো তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হতে হবে। আর আমরা মুক্ত খালেদা জিয়া ছাড়া কোনো শর্ত বা কোনো ঐক্য মানবো না।
বি চৌধুরী বা ড.কামালকে যদি এই ঐক্যর সিদ্ধান্তে প্রধান দেওয়া হয় তা বিএনপি কোন চোখে দেখবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন। এইটা অন্যান্যদের সাথে মিটিং এ গিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তাছাড়া বিএনপি‘র নীতি নির্ধারক পর্যায় হতে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনে আলোচনার প্রয়োজন আছে।
মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “জাতীয় ঐক্য এখন বাংলাদেশের মানুষের জাতীয় চাহিদা হয়ে দাড়িয়েছে। এই দেশের বেশির ভাগ মানুষ বর্তমান সরকারের সকল স্বৈরতান্ত্রীক আচরনের কারনে এক মতে আসতে চাইছে। তাই আমরা এই ঐক্যকে স্বাগত জানাই।
সাখাওয়াত বলেন, এই ঐক্য হলে দেশের জনগণ সকলে এক মঞ্চে অধিষ্ঠিত হবে। একটি সুষ্ঠ নির্বাচন এই ঐক্যর মাধ্যমেই সম্ভব। যেহেতু দল মত নির্বিশেষে সকল মানুষকে নিয়ে এই ঐক্য হবে তাই এই ঐক্যর মাধ্যমেই সরকারের পতন ঘটবে বলে আমি মনে করি।
যদি অন্য দলের কেউ এই ঐক্যর মধ্যে হতে প্রধান হয়ে আসে তখন বিএনপি‘র পক্ষ হতে আপনারা বিষয়টা কিভাবে দেখবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এইটা অবশ্য আমাদের জাতীয় নেতা ও নীতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আমরা মনে করি এই ঐক্যটা একটা আন্দলনের ঐক্য। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার ঐক্য। এই ঐক্য সকল নেতাদের মতের মাধ্যমেই হবে, এখানে সবাই সবার প্রতি ¯্রদ্ধাশীল হয়ে ঐক্য প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন করবে।

উল্লেখ্য, ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্ট পাঁচ দফা দাবি এবং দেশ পরিচালনায় নয় দফা লক্ষ্য উপস্থাপন করে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন এটি উপস্থাপন করেন। ২২ সেপ্টেম্বর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে যা অনেকটা চূড়ান্ত রূপ নেয়। শনিবার ড. কামাল হোসেনকে প্রধাণ করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো নিয়ে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট তাদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম