Sat, 20 Oct, 2018
 
logo
 

আসলেই কি নৌকা প্রশ্নে না.গঞ্জের সবাই এক?

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘নৌকায় ভোট দিন‘ সবার মুখে একটাই কথা। একই শ্লোগান দলীয় নেতাদের মুখে। প্রচার-প্রচারণা, বক্তৃতা-বিবৃতি সর্বত্র একই অবস্থান নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ নেতাদের। তবুও প্রশ্ন রয়ে যায় ‘আসলেই কি নৌকা প্রশ্নে সবাই এক?‘

ইতিহাস থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের জন্ম। কোথায়? বায়তুল আমান না মিউচুয়্যাল ক্লাব। এনিয়ে এখনো বিতর্ক করেন কেউ কেউ। যদিও জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন ‘আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছে নারায়ণগঞ্জের বায়তুল আমানে‘। পরবর্তিতে তৎকালীন সরকারী বাহিনীর অভিযানের খবরে প্রতিষ্ঠাতারা চলে যান পাইকপাড়া মিউচুয়েল ক্লাবে। এতো গেলো জন্ম ইতিহাস। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে উত্তর মেরু-দক্ষিন মেরু বিভেদ সম্পর্কে দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে সারাদেশ অবগত। এই বিভেদ এখন আবার দল উপদলে বিস্তার লাভ করে শেকড় গজিয়েছে অনেক দূর পর্যন্ত। যা কিনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অসমর্থ করে তুলতে পারে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে।
দীর্ঘদিনের বিরোধ আর গ্রুপিং এ ভেতরে ভেতরে ক্ষত বিক্ষত করেছে দলকে। যদিও ‘নৌকা প্রশ্নে সবাই এক‘ এমন কথা বলছেন শীর্ষ নেতারা। কিন্তু ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় দলের প্রশ্নে সবাই এক হতে পারেনি। ফলে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট অংশ নিলে আওয়ামীলীগ বা মহাজোট প্রার্থীদের অবস্থান নিয়ে সংশয় রয়েছে তৃনমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে। নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা এমপি শামীম ওসমানের একটি মন্তব্য দেশজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে আলোচিত ও সমাদৃত। আর তা হচ্ছে ‘ আওয়ামীলীগে নেতারা বেঈমানী করে, কর্মীরা নয়‘।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে দলের প্রশ্নে বারবার বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। দলীয় সিদ্ধান্ত, হাইকমান্ডের নির্দেশ অমান্য করেছে অনেকেই। এরমধ্যে পুরস্কৃত হয়েছেন অনেকে। আবার সুবিধাবাদী হাইব্রীডদের ভীড়ে প্রকৃত ত্যাগী নেতা-কর্মীরা কোনঠাসা হয়ে দূরে সরে গেছে। বিগত কয়েকটি নির্বাচন পরিস্থিতি বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, আওয়ামীলীগের কারণেই নৌকা পরাজিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। এক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত মানেনি অনেক বাঘা বাঘা নেতা-নেত্রীরাও।
২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই উপজেলা নির্বাচনে চেইন অব কমান্ড না মানায় এবং পরস্পর বিরোধীতার কারনে সদর ও বন্দর উপজেলা পরিষদ হাতছাড়া হয় সরকারী দলের। ঐ নির্বাচনে সদরে এবং বন্দরে আওয়ামীলীগের ৩ জন করে প্রার্থী থাকায় কম ভোট পেয়েও অনায়াসে জয়ী হয় বিএনপি-জামায়াত। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে শেষমুহুর্তে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ঘোষনা করা হয় শামীম ওসমানকে। ঐ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন সেলিনা হায়াত আইভী। নির্বাচনের ৬ ঘন্টা পুর্বে বিএনপি তাদের প্রার্থী এড. তৈমূরকে বসিয়ে দিলে সহজেই জয় পান আইভী। নির্বাচনে আওয়ামীলীগের জেলা কমিটির তৎকালীন আহ্বায়ক এস এম আকরাম, শহর কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ একটি অংশ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে কাজ করেন। নির্বাচনের পর এস এম আকরাম দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেও আনোয়ার হোসেনকে পরবর্তিতে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি করা হয়। এরপর সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে মেয়র আইভীর বিপক্ষে মেয়র পদে মণোনয়ন চান আনোয়ার। শেষমেষ দল আইভীকে মনোনয়ন দিলে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন আনোয়ার। হাসপাতালের বেডেই জানানো হয় দল তাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই সুস্থ্য হয়ে বিশাল শোডাউন করে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসেন আনোয়ার হোসেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম