Sun, 23 Sep, 2018
 
logo
 

নির্বাচনী ট্রেনে আ’লীগ মামলার দৌড়ে বিএনপি


লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে ঢাকঢোল পিটিয়ে আওয়ামী লীগ যখন নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছে তখন বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেয়া হচ্ছে একের পর এক মামলা। পুরনো মামলার পাশাপাশি নতুন মামলায় হয়রান বিএনপি নেতাকর্মীরা। মামলাকে কেন্দ্র করে শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে, দৌড়াতে হচ্ছে আদালতের বারান্দায়।

গত ৯ দিনে নারায়ণগঞ্জের ৭ থানায় সর্বমোট ১৩টি মামলা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে প্রায় দেড় ডজন বিএনপি নেতা-কর্মী। এসব মামলাকে বিএনপি নেতারা ‘ভৌতিক‘ উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন, আগামীতে আবারো ৫ জানুয়ারি মার্কা একতরফা নির্বাচন করতেই এসব করছে সরকার। বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে পরিকল্পিতভাবে নির্বিচারে গ্রেফতার করছে পুলিশ। এমনকি বিদেশে অবস্থারতরাও বাদ যায়নি পুলিশের মামলা থেকে। অপরদিকে একের পর এক আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালিকা প্রকাশসহ জোরেশোরে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। নৌকার পক্ষে সরকারী দলের মন্ত্রী-এমপিসহ সম্ভাব্য প্রার্থীরা সদলবলে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একাদশ জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে রাজনৈতিক মাঠে ততই উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচন সন্নিকটে হলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা সরকারের বাইরে থাকা অন্য দলগুলোর তৃণমূলকেন্দ্রিক নির্বাচনী তৎপরতা দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি।

এলাকায় যেতে হয়রানি : কোরবানির ঈদের আগে গ্রামের বাড়িতে (নারায়ণগঞ্জ-১) প্রতিবারের মতো বিশাল মেজবানীর আয়োজন করেছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং অন্যতম মনোণয়ন প্রত্যাশী মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দীপু। অনুষ্ঠানের দিন সকালে রুপগঞ্জ থানা পুলিশ এসে সব ভন্ডুল করে দেয়। পর পর দেয়া হয় কয়েকটি মামলা। বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার নির্বাচনী মতবিনিময় সভা করতে গেলে পুলিশ সেখানে থেকে বয়োবৃদ্ধ ওলামালীগের কেন্দ্রীয় নেতা সামছুর রহমান বেনুসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। সরকার পতনের ষড়যন্ত্র ও নাশকতার চেষ্টা উল্লেখ করে পর পর মামলা দেয়া হয় ৪টি। ঐ মামলায় এড. তৈমূর, দীপু ভুইয়াসহ আসামী করা হয় দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে। একইভাবে কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে আরও ৯টি বিস্ফোরক মামলা দেয়া হয়েছে জেলার অন্যান্য থানায়। এসব মামলার আসামীরা সবাই বিএনপির নেতা-কর্মী। এব্যাপারে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, সরকার যতই মুখে বলুক না কেন সুষ্ঠু নির্বাচন করবে, কাজে কর্মে মনে হচ্ছে বিএনপি নির্বাচনে আসুক সেটা তারা চায়না। একারণেই একের পর এক ভৌতিক মামলা করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের এলাকাছাড়া করা হচ্ছে। সরকারের ভেতরে ভয় ঢুকে গেছে। বিএনপি জোট নির্বাচনে এলে জনগন বিপুলভাবে সমর্থন দেবে। ক্ষমতা পরিবর্তন হবে, এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা আওয়ামীলীগ সরকার।

এরআগে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি ও বিগত সিটি নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী এড. শাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, গত কয়েকদিনে যে অভিযোগে ১৩-১৪টি মামলা হয়েছে তার কোন ঘটনা ঘটেনি। বিএনপির নেতাকর্মীদের ভীত সন্ত্রস্ত করার জন্য সরকার তার পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে মামলা দিচ্ছে। কিন্তু মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের দাবিয়ে রাখা যাবে না। কারণ এই সরকার নারায়ণগঞ্জের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মামলা দিয়েছে। মাসের পর মাস জেল খাটিয়েছে অনেক নেতাকর্মীকে। কিন্তু এসব করেও নেতাকর্মীদের মনোবল দুর্বল করতে পারেনি। এখন এই শেষ মুহুর্তে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে মামলা করা হচ্ছে। আমরা নাকি সরকারের পতন ঘটনানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছি। কিন্তু আমরা তো বিরোধী দল, সরকারের পতন ঘটাতে চাইবোই।

এদিকে ৯ সেপ্টেম্বর ফতুল্লায় এক সমাবেশে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছেন, আওয়ামীলীগের ১০০ প্রার্থী ইতিমধ্যে চুড়ান্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে এমপি শামীম ওসমানের নাম রয়েছে। নৌমন্ত্রী শামীম ওসমানকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করার আহ্বান জানান। অবশ্য নৌমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার নওফেল। তারা বলেছেন, নৌমন্ত্রীর বক্তব্য সঠিক নয়, কেননা মনোনয়ন দেয়ার মালিক একমাত্র শেখ হাসিনা। তিনিই যথাসময়ে প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করবেন। এখন যেসব তালিকা প্রকাশ হচ্ছে সব ভূয়া। তারপরও নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই আওয়ামীলীগ ও শরীক দল জাতীয পার্টির নির্বাচনী প্রচার চলছে প্রতিদিনই। অপরদিকে বিএনপি মাঠেই নামতে পারছেনা মামলা-হামলার কারনে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম