Tue, 20 Nov, 2018
 
logo
 

‘ভৌতিক মামলায় মনোবল ভাঙ্গবে না’

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ভৌতিক মামলায় মনোবল ভাঙ্গেনি বরং আরও সূদৃঢ় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা। তাদের ভাষায় একের পর এক ভৌতিক মামলা বিএনপি নেতা-কর্মীদের শুধু ঐক্যবদ্ধই করবে না খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচনের আন্দোলনকে চুড়ান্ত রুপ দেবে।

জানা গেছে, গত কয়েকদিনে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৭ থানায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এসব মামলায় আসামী সংখ্যা ৮৪৭ জন। এই ১৪ মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয়, জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামী করা হয়েছে। প্রত্যোকটি মামলার বাদী পুলিশ। অস্ত্র-শস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যে সজ্জিত হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে সমবেত হয়ে হামলার অভিযোগ আনা হয় মামলাগুলোতে। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন এগুলো পুলিশের গায়েবী ভৌতিক মামলা। শুধু তাই নয়, ঘটনা ঘটেনি অথচ পুলিশ নাটকীয় গল্প বানিয়ে মামলাগুলো দায়ের করেছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে নির্বাচনী মাঠ থেকে দুরে রাখতে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একের পর এক মিথ্যা সাজানো মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতারা।

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মামুন মাহমুদ বলেন, ১০ বছর ধরেই একের পর এক মামলা দিয়েছে। কিছুদিন মিথ্যা মামলা দেয়া বন্ধ থাকলেও গত ২৪ আগস্ট রাত থেকে আবারো নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৩ থেকে ১৪টি মামলা দেয়া হয়েছে। হয়তো আরো মামলা হবে। এই মামলা দিয়ে সরকার বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে দিতে চায়। কিন্তু রাজনীতি যারা করে তারা দৃঢ় মনোবল নিয়েই করে। আর এই স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে হলে মনোবল দৃঢ় না হয়ে উপায় নেই।

মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত কয়েকদিনে যে অভিযোগে ১৩-১৪টি মামলা হয়েছে তার কোন ঘটনা ঘটেনি। বিএনপির নেতাকর্মীদের ভীত সন্ত্রস্ত করার জন্য সরকার তার পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে মামলা দিচ্ছে। কিন্তু মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের দাবিয়ে রাখা যাবে না। কারণ এই সরকার নারায়ণগঞ্জের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মামলা দিয়েছে। মাসের পর মাস জেল খাটিয়েছে অনেক নেতাকর্মীকে। কিন্তু এসব করেও নেতাকর্মীদের মনোবল দুর্বল করতে পারেনি। এখন এই শেষ মুহুর্তে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে মামলা করা হচ্ছে। আমরা নাকি সরকারের পতন ঘটনানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছি। কিন্তু আমরা তো বিরোধী দল, সরকারের পতন ঘটাতে চাইবোই।

সূত্রমতে, গত ২৪ আগস্ট রাত থেকে ৯ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত ১৩টি মামলা হয়েছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এরমধ্যে আড়াইহাজার থানায় ২টি, রূপগঞ্জ থানায় ৪টি, সোনারগাঁও থানা ২টি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১টি, নারায়ণগঞ্জ থানায় ১টি ও বন্দর থানায় একটি মামলা।

২৪ আগস্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের বাড়িতে হানা দিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আড়াইহাজার থানা পুলিশ। বিশৃংখলা ও নাশতা সৃষ্টির পায়তারার অভিযোগে আড়াইহাজারে থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমনসহ থানা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ৬৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এরপর ২৫ আগস্ট আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কাশেম বাদী হয়ে নজরুল ইসলাম আজাদকে প্রধান আসামী করে ১৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৩৫ জনকে আসামী করে আরেকটি মামলা করে। আড়াইহাজার থানার আরেকটি মামলায় ১৮ বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। ওই মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

২৯ আগস্ট দুপুরে সোনারগাঁ থানার পিএসআই সেন্টু সিংহ বাদী হয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩২ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন।

একই দিন রাতে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়াসহ ৫৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে মামলা দায়ের করে রূপগঞ্জ পুলিশ। রুপগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক আল আমিন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

১ সেপ্টেম্বর রাতে বন্দর থাননার পিএসআই আব্দুল আলীম বাদী হয়ে বিএনপির ২০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ৩০-৪০ জনকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন।

৩ সেপ্টেম্বর সকালে নাশকতার অভিযোগ এনে রূপগঞ্জের ভুলতা ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মোস্তফা কামাল খান বাদী হয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৩৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ২২ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

৫ সেপ্টম্বর সকালে নাশকতার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাড.তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৪৪ নেতাকর্মীকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ভুলতা ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাদিরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

৭ সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ২০-২৫ জনকে আসামী করে থানার এস আই এনামুল হক বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন।

৮ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণণগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের ২০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ২০ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়। সদর মডেল থানার পিএসআই প্রবীর কুমার রায় বাদী হয়ে সরকার উৎখাত ও দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

একইদিন রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় বিএনপির ৭০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৪৭ জনকে আসামী করে থানার এস আই মো: শফিউল আলম বাদী হয়ে নাশকতার অভিাযাগে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফেরক আইনে মামলা দায়ের করেন।

৯ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ বিএনপির ১৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরে ২১ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয়েছে। সিদ্বিরগঞ্জ থানার এস আই আমিননুল ইসলাম-২ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

একইদিন রাতে বিএনপির ৮৩ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ২২ জনকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করে ভোলাব উপ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই রুহুল আমীন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

সবশেষ ৯ সেপ্টেম্বর রাতে সোনারগাঁও থানার এস আই মনিরুজ্জামান বাদী হযে বিএনপির ৪৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ২০-৩০ জনকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম