Mon, 17 Dec, 2018
 
logo
 

আওয়ামী লীগের ঘাড়ে ‘কোন্দলের’ বোঝা


লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘বিগত ৯ বছর আমগো উপর যে নির্যাতন হইছে, একের পর এক মামলা দিয়া হয়রানি করছে। ঘরে থাকতে দেয় নাই, বউ পোলাপান লইয়া ঈদ পর্যন্ত করতে পারি নাই। এখনো মামলা দিতাছে। দল ক্ষমতায় তারপরও দেড়শ মামলা খাইছি আমরা আওয়ামীলীগ নেতারা। এখন সময় আইছে। অত্যাচারী বহিরাগতগো জবাব দেয়ার।

কেন্দ্রে বলছি, গাজীর কোন ভোট নাই রূপগঞ্জে। চাটুকার ছাড়া তারে কেউ ভোট দিবোনা। তদন্ত কইরা দেখেন তৃনমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ কি বলে? নেত্রী (শেখ হাসিনা) আশ্বাস দিছে প্রার্থী পরিবর্তন হবে। রুপগঞ্জের এক আওয়ামীলীগ নেতার ভাষ্য এটি। এমন অনেক নেতার ভাষ্যই এখন ঝাঁঝালো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগের একটি বড় অংশই বর্তমান এমপি গাজী গোলাম দস্তগীরের ঘোর বিরোধী। কেন্দ্রেও এব্যাপারে সব তথ্য রয়েছে। দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে এখানে পরিবর্তনের সম্ভাবনাই বেশী।
রূপগঞ্জের মতো দীর্ঘদিনের না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে আড়াইহাজারে আওয়ামীলীগের কোন্দল তীব্র আকার ধারন করেছে। এখানে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবু বিরোধী মোর্চা দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা এড. ইকবাল পারভেজের নেতৃত্বে। সম্প্রতি ইকবাল পারভেজের কয়েকটি অনুষ্ঠানে এমপি বাবুর লোকজনের উপর হামলার পর এ কোন্দল আরও তীব্র হয়েছে। এদিকে অনেকদিনের ক্ষোভ ও না পাওয়ার বেদনায় এমপি বলয় ছেড়ে ইকবাল পারভেজের দলভারী করছেন আড়াইহাজারের সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তৃনমূলরাও। অন্যদিকে এমপি বাবু ও ইকবাল পারভেজের বিরোধের মাঝখানে মনোনয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মমতাজ হোসেন। যদিও ভদ্র ইমেজের এই সাবেক আমলার তৃনমুলে কোন ইমেজ তৈরী হয়নি। তবে তিনি আশায় আছেন দুজনের চরম বিরোধে ৩য় পক্ষ হিসেবে তাকেই বেছে নেবে দলীয় হাইকমান্ড।
এদিকে সোনারগাঁয়ে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামীলীগেই ৩টি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এরমধ্যে সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সারকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে পাল্লা ভারী করেছেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই। এরআগে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র আইভী কায়সারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে বলেছেন সোনারগাঁয়ে আর জাতীয় পার্টি চাই না। এ আসনে নৌকার মনোনয়ন দিতে হবে। এদিকে কায়সারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মনোনয়ন লড়াইয়ে মাঠে রয়েছেন থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম এবং স্বাচীপের কেন্দ্রীয় নেতা বীরু। জেলা সভাপতি কায়সারকে সমর্থন দিলেও বীরুর পক্ষে মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক ভিপি বাদল। এদিকে সবাইকে ছাড়িয়ে মনোনয়ন ছিনিয়ে আনার মতো একজন এ এইচ এম মাসুদ দুলাল। যিনি ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনটি প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমানের। এখানে শক্ত প্রতিদ্ধন্দ্বি হয়ে দাড়াতে চাচ্ছেন শ্রমিকলীগ নেতা কাউছার আহমেদ পলাশ। সম্প্রতি তার বাড়ীতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যাত্রা বিরতি করার পর এলাকায় পলাশের ইমেজ বেড়ে গেছে কয়েকগুন। আওয়ামীলীগের একটি পক্ষও শামীম ওসমানকে ঠেকাতে পলাশকে আগে বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অবশ্য শামীম ওসমান এসবকে তোয়াক্কা না করে লাগাতার কর্মীসভা এবং উন্নয়ণ কর্মকান্ড সম্পন্ন করার জন্য তৎপর রয়েছেন। তিনি এও বলেছেন, আমি অন্য আসনে নমিনেশন এনে দেয়ার লোক, আর আমার সাথে যাদের প্রতিদ্ধন্দ্বি হিসেবে দাড় করানো হয় এতে আমি বিব্রত হই।
ওদিকে না পাওয়ার যন্ত্রনায় ফুলে ফেপে তীব্র ক্ষোভের মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের আওয়ামীলীগ। শীতলক্ষার এপার ওপার দুপাড়েই একই আওয়াজ লাঙ্গল হটাও। এখানকার আওয়ামীলীগ নেতাদের ভাষ্য হলো, জাতীয় পার্টিকে এ আসনে ছাড় দিয়ে আওয়ামীলীগের পায়ে কুড়াল মারা হয়েছে। আন্দোলনের সুতিকাগার নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে ৫ আসন। এ আসনে নৌকা ছাড়া আর কিছু চাই না। অনেক বঞ্চনা, অবমুল্যায়ন সহ্য করে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে কোন ভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। শহর-বন্দর এলাকার সমগ্র আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের এক কথা। ৫ আসনে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি ও নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাসহ আরও প্রায় অর্ধডজন প্রার্থী। ৫ আসনেও মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওসমান বলয়ের কোন্দল প্রকট। দুজনের সমর্থনের আশায়ই সম্ভাব্য প্রার্থীরা এ আসনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম