Thu, 20 Sep, 2018
 
logo
 

জাকির খানের কাঁধে চড়ে শাখাওয়াতের এমপি হওয়ার খায়েশ!


লাইভ নারায়ণগঞ্জ: একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকির খানের কাঁধে ভর করে এমপি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর বিগত সিটি নির্বাচনে বিএনপির হয়ে প্রতিদ্ধন্দ্বিতাকারী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এড. শাখাওয়াত হোসেন খাঁন। সাম্প্রতিক সময়ে দেওভোগের জাকির খান পন্থীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে এমনটাই প্রতিয়মান হচ্ছে নগরবাসীর মাঝে।

এসব অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, সরকার জাকির খাঁনকে ভয় পায় বলে একাধিক মামলা দিয়ে তাকে দেশান্তরী করে রেখেছে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে শক্তিশালী করতে আমরা অচিরেই জাকির খানকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতে আত্মসমর্পন করিয়ে আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করব। তিনি আরও বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে জাকির খানকে এখন বড়ই প্রয়োজন। সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের জনসমুদ্রই প্রমান করছে বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে জাকির খান এখনও কতটা জনপ্রিয়। অতএব নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে শক্তিশালী করতে হলে জাকির খানের কোন বিকল্প নেই। জাকির খান তা অতিতেও প্রমান দিয়েছেন এবং বর্তমানেও দিয়ে যাচ্ছেন। সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকির খানের পক্ষে শাখাওয়াত হোসেন খানের এমন বক্তব্যে শহরজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। অনেকে মন্তব্য করে বলেছেন, আদালত ভিত্তিক রাজনীতি এবং চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের মামলার কারনে এড. শাখাওয়াত হোসেন খানের যে ইমেজ তৈরী হয়েছিলো, শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকির খানের পক্ষে এমন বক্তব্য দেয়ার পর সেই ইমেজ ধুলিস্যাৎ হতে চলেছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের এক সময়ের মূর্তিমান আতংকের নাম জাকির খান। ১৯৯৫ সালে স্থানীয় সন্ত্রাসী দয়াল মাসুদকে শহরের সোনার বাংলা মার্কেটের কাছে শত শত মানুষের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে সেখানে দাড়িয়েই কোমল পানীয় পান করে আলোচনায় উঠে আসেন।

উচ্ছেদের আগ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের এক সময়ের কলংক টানবাজার পতিতাপল্লীর একচ্ছত্র অধিপতি এই জাকির খানের কাছে মন্ত্রী-এমপিরাও ছিলেন অনেকটা নস্যি। কলেজের গন্ডিতে পা না দিয়েও যিনি হয়েছিলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি। জেলা পুলিশের তালিকায় এখনও তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী। সেই জাকির খান এখন বাংলাদেশে, এমনকি পুলিশ-গোয়েন্দাদের নাকের ডগায় তার নারায়ণগঞ্জের বাড়িতেও থেকে গেছেন কছুদিন আগে। আইন-শৃংখলা বাহিনী বিষয়টি জানে না বললেও জাকির খানকে দেখেছেন তার নিজ এলাকা দেওভোগসহ শহরের অনেকেই। জাকির খান খুব শিগগিরই আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন এমন গুঞ্জন উঠার পর তার ফিরে আসার বিষয়টি আরও বেশি পাকা-পোক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাকির খানের বাবা মরহুম দৌলত খান ছিলেন তৎকালীন টানবাজার পতিতালয়ের গডফাদার। ১৯৮৯ সালে জাতীয় ছাত্র সমাজে যোগ দিয়ে উত্থান ঘটে জাকির খানের। পরে ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ফতুল্লার বিশাল বিসিকপল্লী তথা ঝুট সেক্টরের একক আধিপত্য কায়েম করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে দেওভোগ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী দয়াল মাসুদকে শহরের সোনার বাংলা মার্কেটের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে আলোচনায় উঠে আসেন এই শীর্ষ সন্ত্রাসী। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে জাকির খান শহরের খাজা সুপার মার্কেটে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্ত হয়ে জেলে যান। সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মতিন চৌধুরীর নাতি হিসেবে শহরে পরিচিত হয়ে ওঠেন জাকির খান। রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় সে মুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে কাশীপুর এলাকায় এক ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে দ্বিতীয় দফায় জাকির খানের ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয়। আওয়ামী লীগের চার বছর জাকির খান থাকেন জেলে। ১৯৯৯ সালে স্বল্প সময়ের জন্য জেল থেকে বের হয়ে জাকির খান জেলা ছাত্রদলের সভাপতির পদটি পেয়ে যান।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর মুন্সীগঞ্জে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় পাঁচ মাস জেলে থাকেন জাকির খান। সর্বশেষ ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিআরটিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় জাকির খানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন তৈমুর আলম খন্দকার। এর পরই তিনি নারায়ণগঞ্জ ছাড়েন। জাকির খান প্রথমে সিঙ্গাপুর ও পরে থাইল্যান্ডে গিয়ে ফেরার জীবন কাটাতে থাকেন। সেখানে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে একটি থ্রি-স্টার হোটেলও কেনেন জাকির খান। পরে সেখান থেকে জাকির খান চলে যান দুবাইয়ে। বর্তমানে জাকির খান দেশেই আত্মগোপনে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
সেই শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকির খানের সহযোগীদের নিয়ে সিটি নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থী শাখাওয়াত হোসেন খান সার্বক্ষনিক কর্মসূচী পালনন করছেন। জাকির খানকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এনিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম