Sat, 23 Jun, 2018
 
logo
 

মেয়র আইভীর সমর্থন সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ামক, পিছিয়ে নেই বর্তমান এমপিরাও

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: মেয়র আইভীর ইমেজকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেরই ক্ষমতাসীন দলের অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী। এনিয়ে রীতিমতো চলছে প্রতিযোগীতা। কে কীভাবে মেয়র আইভীর নজরে থাকতে পারেন, সমর্থন পেতে পারেন, তা নিয়েও চলছে ঠান্ডা লড়াই। সম্ভাব্য প্রার্থী অনেকের মনে বদ্ধমূল ধারণা তৈরী হয়েছে যে, মেয়র আইভীর সমর্থন পেলেই আওয়ামীলীগের নমিনেশন এবং নির্বাচনী বৈতরণী পাড় হওয়া সহজ হবে। এমন ধারণা থেকেই প্রার্থীদের লাইন এখন আইভীমূখী।


জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারীর শুরুতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। দেশের প্রধাণ নিবর্কাচন কমিশনার একথা নিশ্চিত করে বলেছেন, এখন থেকেই তারা জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন যেমন কাজ শুরু করেছেন তেমনি বসে নেই, রাজনীতির ২য় রাজধানীখ্যাত নারায়ণগঞ্জও। জেলার ৫টি আসনেই আওয়ামীলীগের প্রার্থী সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। সেইসাথে দলীয় মনোনয়ন ও মাঠ দখলে রাখতে বর্তমান এমপিরা যেমন তৎপর তেমনি দলের হেভিওয়েটখ্যাত নেতারাও দলীয় মনোনয়ন ছিনিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে অনেকের কাছে নেয়ামক হয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী। দেশজুড়ে আলোচিত এ নেত্রী টানা তিনবার মেয়র পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর কেন্দ্রে গ্রহনযোগ্যতা যেমন আকাশচুম্বী তেমনি পুরো জেলায় জনপ্রিয়তার প্রতিক হয়ে উঠেছেন আইভী। আর তাই একাদশ সংসদ নির্বাচনে মেয়র আইভীর গ্রহনযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন অনেকেই।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে মেয়র আইভী সমর্থকরা অধিকাংশ পদ পাওয়ায় এবং তার সিদ্ধান্তের প্রতি কেন্দ্র সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ায় প্রমাণ হয়েছে কেন্দ্রে তার যথেষ্ট গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি হলেও কমিটির নিয়ন্ত্রণ তারই হাতে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভীর গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয়তা দুটোকেই কাজে লাগিয়ে এমপি হতে চান অনেকেই। সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী এলাকায় গণসংযোগ, কেন্দ্রে লবিং এর পাশাপাশি মেয়র আইভীর সমর্থন পেতেও সচেষ্ট রয়েছেন। এরমধ্যে বর্তমান এমপিও রয়েছেন।
মেয়র আইভীর সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে আগ্রহী সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা সবচে বেশী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে। এ আসনের বর্তমান এমপি সেলিম ওসমানও আইভীকে সাথে নিয়ে কাজ করতে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন শুরু থেকে। নির্বাচনের আগেও তিনি আইভীর সমর্থন চেয়েছিলেন। সাবেক এমপি ও নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম আইভীর সমর্থন নিয়ে আবারও ৫ আসনের এমপি হতে তৎপর রয়েছেন। এছাড়া ৫ আসনে নির্বাচনে ইচ্ছুক আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দীপু, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও মেয়র আইভীর বোন জামাতা আবদুল কাদির, আরেক সহ সভাপতি আরজু ভুইয়া, মেয়র আইভীর ছোটভাই শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা উজ্জল এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত মেয়র আইভীর সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বর্তমান এমপি শামীম ওসমানের বিপরীতে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন শ্রমিকনেতা কাউছার আহমেদ পলাশ ও সদ্য কেন্দ্রীয় উপ কমিটিতে পদ পাওয়া কামাল মৃধা। এরা দুজনেই মেয়র আইভীর সমর্থনেই মনোনয়ন এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার প্রত্যাশা করেন।
নারায়ণগঞ্জ ৩ (সোনারগাঁ) আসনে আইভী সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার। ইতিমধ্যে তিনি মেয়র আইভীকে নিয়ে এলাকায় সমাবেশ করে নৌকার পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী থাকলেও জাতীয় পার্টিকে মনোনয়ন না দেওয়ার প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাব বাবুর বিপরীতে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন দুজন। এরা হলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মমতাজ হোসেন এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল পারভেজ। দুজনেই মেয়র আইভীর সমর্থন পেতে চান। নিয়মিত যোগাযোগও রক্ষা করে চলেছেন।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ) আসনের বর্তমান এমপি গাজী গোলাম দস্তগীর এলাকায় তীব্র প্রতিদ্ধন্ধিতার সম্মুখিন। তিনিও মেয়র আইভীর সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার লক্ষ্যে। মেয়র আইভীর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয়ায় অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই’র সঙ্গে দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে বলেও কথিত আছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম