Sat, 23 Jun, 2018
 
logo
 

রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এ রায়, জামিনে আনন্দ


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বতীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় কারাবন্দী খালেদার জামিন হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার জেল, শেখ হাসিনার পতনের কারণ হয়ে দাড়াবে বলে মনে করছে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতারা।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন আদেশের পর জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা এক প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন।

এবিষয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, মায়ের মুক্তিতে একজন সন্তানের যে প্রতিক্রিয়া হয়, একজন নেতার মুক্তিতে কর্মীদের যে প্রতিক্রিয়া হয়, আমরাও সেই একই প্রতিক্রিয়া। তবে আমি মনে করি, খালেদা জিয়ার জেল, শেখ হাসিনার পতনের কারণ হয়ে দাড়াবে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রাজনৈতিক ভাবে ফায়দা লুটার জন্য এই রায় দেওয়া হয়েছে। তাকে দীর্ঘ দিন জেলে থাকাতে হয়েছে বলে আমরা মর্মাহত হয়েছি। এখন তার মুক্তিতে আমরা সবাই আনন্দিত।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কালাম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর কাছে আমরা যা ফরিয়াদ করেছি আল্লাহ তা পূরণ করেছেন। তবে ষড়যন্ত্র কারীরা তো থেমে নেই, এটা ছিলো গণতন্ত্র পূনঃরুদ্ধারে প্রাথমিক ধাপ। দোয়া করবেন আগামীতে ষড়যন্ত্র কারীদের সকল জাল ছিন্ন করে আমরা যেন গণতন্ত্র পূনঃরুদ্ধার করতে পারি। এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারি।

মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, বেগম খালেদা জিয়াকে বর্তমান সরকার ভয় পায়। তাই মিথ্যা মামলা সাজিয়ে একটি ফরমায়েসী রায় দিয়েছে। দেশের মানুষ এগুলো বুঝে, বেগম জিয়াকে কারাগারে আটকে আওয়ামীলীগ জয়ী হতে পারবে না। এখনো কুটকৌশল করেই চলছে, তবে আমি আশা করবো সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। দেশে সুষ্ঠ রাজনীতি ফিরে আসবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বেগম খালেদা জিয়াই নয়, তার মতো অসংখ্য নেতাকর্মী এখন জেল হাজতে আছে। খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আমরা আনন্দিত। পাশাপশি সকলের মুক্তি চাই।

এবিষয়ে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসকুল ইসলাম রাজিব বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করছি তাকে এই মিথ্যা মামলার বন্দী দশা থেকে মুক্তি দেয়ায় জন্য। সাথে সাথে বিএনপির কর্মী হিসেবে আনন্দিত ও সতর্ক অবস্থানেও রয়েছি। আদালতকে কুক্ষিগত করে ৩ বারের প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা মামলার এ রায় অবৈধ সরকারের আমলে উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ জজ আদালত-৫ এই মামলার রায় দেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির জন্য পাঁচ বছরের সাজা ও জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছরের জেল ও জরিমানা করা হয়। রায়ের পর থেকে একমাসেরও বেশি সময় যাবত নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম