Mon, 18 Jun, 2018
 
logo
 

লাঙ্গল হটানোই প্রধান টার্গেট: ৫ আসনে মনোনয়ন যুদ্ধে নেই আওয়ামীলীগ


নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে মনোনয়ন যুদ্ধের চেয়ে জাতীয় পার্টি হটাও আন্দোলনে বেশী তৎপর আওয়ামীলীগ। এ আসনটিতে নৌকার প্রার্থী দিতে বেশ কিছুদিন ধরেই সরব ভূমিকা দেখা যাচ্ছে আওয়ামীলীগ নেতাদের। এক্ষেত্রে জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা নিজেদের প্রার্থীতা নিয়ে যতোটা না তৎপর তারচেয়ে বেশী তৎপর লাঙ্গল হটাও কর্মকান্ডে।

এতদিন অভিযোগ ছিলো ৫ আসনে আওয়ামীলীগ দিনের আলোয় নৌকা আর রাতের আঁধারে লাঙ্গলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে থাকেন। সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের সঙ্গে দেখা যায়না তাদের। তবে নৌকার দাবিতে সরব আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা। একারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসন নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের মাঝে তেমন কোন বিরোধ পরিলক্ষিত হয়না। যেটা অন্য আসনে তীব্র থেকে তীব্রতর। লাঙ্গল হটানোই এখন প্রধাণ টার্গেট।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের চারবার (১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে) নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর ২০১৪ সালের ২৬ জুন উপনির্বাচনে তারই ছোটভাই ব্যবসায়ী নেতা সেলিম ওসমান উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে এমপি নির্বাচিত হন। সেসময় প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের সম্মানে আওয়ামীলীগ দলীয় কোন প্রার্থী না দিলেও সাবেক এমপি এস এম আকরাম নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় এস এম আকরামের সঙ্গে মূল প্রতিদ্ধন্ধিতা হয় সেলিম ওসমানের। ঐ নির্বাচনে সেলিম ওসমান জয়ী হলেও অনেক ঘাম ঝড়াতে হয়েছিলো। সম্প্রতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ বন্দরে এক জনসভায় সেলিম ওসমানকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দিয়েছেন। ঐ সমাবেশে জাতীয় পার্টির চেয়ে বেশী লোক ছিলো আওয়ামীলীগের। একারনে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি নেই। আছে ওসমান লীগ। এরশাদ জন¯্রােত দেখে আবেগে কথাগুলো বললেও কিছুদিন পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। আওয়ামীলীগ নেতারা ধীরে ধীরে এমপি সেলিম ওসমানের সঙ্গ ত্যাগ করে ৫ আসনে নৌকার দাবি তুলতে শুরু করে। বর্তমানে সেই জোরালো হয়েছে অনেক। কেন্দ্রের সুদৃষ্টিতে থাকা সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাসহ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকা ছাড়া অন্য কিছু মানবে না বলে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেও জোরালোভাবে এই দাবি উপস্থাপন করেছেন নেতারা। ৫ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন নাগরিক ঐক্যের বর্তমান উপদেষ্টা ও আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি এস এম আকরাম, জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ শুক্কুর মাহমুদ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আলহাজ¦ আরজু রহমান ভূইয়া, জেলা যুবলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, শহর যুবলীগ সাধারন সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর ছোট ভাই আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল। এছাড়া সম্প্রতি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই ৫ আসন থেকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মহানগর সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন আগামী নির্বাচনে মেয়র আইভী ৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে পারেন বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন।
যদিও মঙ্গলবার (৬ মার্চ) এক অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমান বলেছেন নির্বাচন নিয়ে এখন ভাবছি না, ভাবছি উন্নয়ন নিয়ে। এদিকে জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমানকে হঠিয়ে ৫ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী চান স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। এরমধ্যে কয়েকজন নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দিয়ে দলীয় কর্মকান্ডও চালিয়ে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম