Wed, 13 Dec, 2017
 
logo
 

বিএনপি জাপা সরকারে মন্ত্রী পেলেও আ.লীগে নারায়ণগঞ্জ শূন্য


লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন,‘৫৪’র যুক্তফ্রন্ট,‘৬৬’র ছয় দফায় যেমন নারায়ণগঞ্জের অবদান আছে। তেমনি ‘৬৯’র গণ অভ্যূত্থান, ‘৭০’র নির্বাচনেও কম নেই।

১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ এখানেই হয়েছে। মোদ্দা কথায় দেশ গঠনে এ জেলার অবদান ভুলার নয়। তেমনি পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ গঠনেও নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা স্মরণীয়। এতোসব কিছুর পরেও আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে, নারায়ণগঞ্জ মন্ত্রীত্ব পায়না।
 থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে গৌরবজনক ভূমিকা রয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসীর। দেশ স্বাধীনের পর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও এ জেলার অবদান কম নয়। এমনিতে নানা কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য এখানকার অনেক কৃতী সন্তান স্মরনীয় আছেন মানুষের মনের মণি কোঠায়। প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মতে, আন্দোলন সংগ্রামের সুতিকাগার রাজধানীর পাশের এ জেলা। স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জন্ম ইতিহাসেও নাম আসে প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জের। তবে রুঢ় হলেও সত্য আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে এখানকার কেউ মন্ত্রীত্ব পায় না।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ১৯৯৬ সালে ফের ক্ষমতায় আসে। ২০০৮ সালে তৃতীয়বারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয় এ দল। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারো সরকার গঠন করে আওয়ামীলীগ। এ পর্যন্ত ৪ বার ক্ষমতায় এলেও এই দলের মন্ত্রী সভায় আজো পর্যন্ত নারায়নগঞ্জের কেউ সুযোগ পায়নি।
১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট এর বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এক পর্যায়ে তৎকালীন সেনা প্রধান জিয়াউর রহমান সামরিক আইন জারী করেন। পরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয়ে প্রথমে জাগদল গঠন করলেও পরে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল ( বিএনপি )। ওই সময়ে তার শ্রম উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান নারায়ণগঞ্জের  শ্রমিক নেতা আবুল কাশেম চৌধুরী। ১৯৮১ সালে সেনা অভ্যুত্থানে তার মৃত্যুর পর কিছু দিন ক্ষমতায় ছিলেন বিচারপতি এমএ সাত্তার। ১৯৮২ সালের ২৪ শে মার্চ নির্বাচিত সরকার সাত্তারকে হটিয়ে সামরিক আইন জারী করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন এরশাদ। পরে প্রথমে জনদল এরও পরে জাতীয় পার্টি গঠন করে ৯ বছর ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। তার আমলে নারায়ণগঞ্জ -৪ ( ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন ) আসনের সংসদ সদস্য সদস্য এমএ ছাত্তার প্রথম শ্রম ও জনশক্তি পরে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী হন। জাতীয় সংসদের চীপ হুইপ হন।

এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সরকার গঠন করেন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি। ওই সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ- ১ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মতিন চৌধুরীকে স্বরাস্ত্র মন্ত্রী করা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারে এ জেলা পায় দুইজন মন্ত্রী। আব্দুল মতিন চৌধুরী প্রথমে বস্ত্র মন্ত্রী পরে দফতর বিহীন মন্ত্রী হন। ওই সরকারের আমলেই নারায়ণগঞ্জ- ৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক রেজাউল করিমকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতি মন্ত্রী দেয়া হয়।

সচেতন মহলের মতে, সব সরকারের আমলে এ জেলায় মন্ত্রী দেয়া হলেও শুধু মাত্র আওয়ামীলীগ আমলেই বঞ্চিত করা হয়। যদিও  এবার উপমন্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারে মন্ত্রী সভায় সুযোগ পাননি এ জেলার কেউ।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম