Tue, 12 Dec, 2017
 
logo
 

তৈমূর, কাজী মনিরের রূপগঞ্জ টার্গেট


লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও বর্তমান সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের টার্গেট রূপগঞ্জ। এখান থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে ইচ্ছুক এ দুই নেতা। এ নিয়ে দু’জনের রাজনীতিও জমেছে বেশ। উভয়ে এখন রূপগঞ্জবাসীকে কাছে টানতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।

নারায়ণগঞ্জ-১ ( রূপগঞ্জ) আসনের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এ্যাড তৈমূরের আগ্রহ দু’টি কারনে। এক. ওই অঞ্চলের পিতা, পিতামহের শিকড় রয়েছে। বেশ ক’বছর ধরে তিনিও সেখানে নিয়মিত যান। এছাড়া  নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে প্রস্থানের তিক্ত অভিজ্ঞতা তাকে শহর বিমূখ করেছে। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে  পরিচিত মুখ তৈমূর আলম খন্দকার। বিভিন্ন পেশাজীবি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্বে দেখা যেতো তাঁকে। তবে বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর এক পর্যায়ে সারা দেশেই তার নাম উচ্চারিত হয়। বিশেষ করে ২০০১ এ দল ক্ষমতায় এলে প্রথমে ডেপুটি এটর্নী জেনারেল করা হলেও পরে বিআরটিসির চেয়ারম্যান পদে আসীন হন তৈমূর। সেই থেকে তিনি সারা দেশে পরিচিতি পান। এরপর ওয়ান ইলেভেনের সময়ে বাঘা বাঘা নেতারা চুপসে গেলেও তারেক রহমানের মামলায় লড়েন তিনি। এ কারনে কারাবরণ করতে হয় তৈমূরকে।
এদিকে যুবদলের রাজনীতি দিয়ে শুরু করলেও এক সময়ে পুরোদস্তর ব্যবসায়ী বনে যান কাজী মনিরুজ্জামান। পরে আবার দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন আর এখন রয়েছেন সভাপতি পদে। তবে জেলা কমিটির শীর্ষ পদ দখলে রাখলেও নেতাকর্মীদের মাঝে তিনি রূপগঞ্জ কেন্দ্রীক নেতা হিসেবেই পরিচিত । অন্য শিল্পপতি নেতাদের মতো তিনিও খুব বেশী দলীয় কর্মসূচীতে থাকেন না বলে অভিযোগ খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের। রাজনীতি সচেতন মহলের মতে, তৈমূর এক সময়ে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন করার কথা ভাবতেন। ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন প্রথম নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন তিনি। ভোট শুরুর কয়েক ঘন্টা পূর্বে দলের হাই কমান্ডের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য হন তৈমূর। তবে আগামীতে রূপগঞ্জ থেকে নির্বাচন করার চিন্তা করছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
এদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজী গোলাম দস্তগীরের ( বীর প্রতীক) কাছে পরাজিত হলেও রূপগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করার জন্য পুরোদস্তর প্রস্তুত কাজী মনির। তার সমর্থকরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারেও শতভাগ আশাবাদী। তবে তিনি চাইলেও এবার তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি এড. তৈমূর। এ ছাড়া নতুন মুখের আনাগোণাও রয়েছে। আর এরই মধ্যে তৈমূর ও মনিরের মধ্যে ঠান্ডা লড়াইও শুরু হয়েছে। দু’জনেই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী করেন। সেই সাথে এলাকাকেন্দ্রীক দেখাদেখি কর্মকান্ডও করেন।

বিভিন্ন কমিটিতে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা তৈমূরের পেছনে সময় দিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।  এখন তিনিও রূপগঞ্জে বেশী সময় দিচ্ছেন। বিভিন্ন মসজিদে নামাজ আদায়, মাহফিলে যোগদান, নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলা, দাওয়াতে যাওয়াসহ বিভিন্ন ভাবে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছে তৈমুর। তবে একেবারে বসে নেই কাজী মনিরও। তিনিও নানাভাবে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে সখ্যতা রাখছেন। দু’জনের লক্ষ্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের হাই কমান্ড নানা চিন্তা ভাবনা করে মনোনয়ন দেবেন। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তা যাচাই, দলের দু:সময়ে কে বেশী দলীয় কর্মসূচীতে রয়েছেন সেসব বিবেচনায় আনবেন তাঁরা।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম