Sat, 16 Dec, 2017
 
logo
 

না.গঞ্জে আ.লীগের ভুঁইফোড় সংগঠনের শত শত নেতা

গোলাম রাব্বি, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ’ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে স্বীকৃত সহযোগী কিংবা ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন নয়। তাই এই সংগঠন ভুঁইফোড় দাবি করায় ২০১৬ সালে ‘বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ’র সমর্থীত নেতাদের তোপের মুখে পরে সামসুল আরফিন শান্ত নামের এক তরুণ।

ফতুল্লার তক্কারমাঠ এলাকায় বসবাসরত মায়া বেগম নামের বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগের নেত্রী ওই তরুণকে বাসায় ডেকে ফতুল্লা থানার সভাপতি শহর আলী ও তার ভাতিজা মুরাদকে দিয়ে মারধর করান। তখন এই ভুঁইফোড় সংগঠনটির নেতাকর্মীর ভয়ে থানায়ও যেতে পারেনি ওই তরুণ।

একই বছরের শেষ দিকে জাকির হোসেন নামের আরো এক ব্যক্তির সাথে এই ধরণের ঘটনা ঘটান ওই এলাকায় বাস্তুহারা লীগের নেতাকর্মীরা। তবে জাকির হোসেন পরবর্তীতে ক্ষমা চাওয়ায় তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা হয়নি।

এধরণের ঘটনা শুধু সামসুল আরফিন শান্ত ও জাকির হোসেনের সাথেই নয়। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগের মতো অসংখ্য ভুঁইফোড় সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত অঘটন ঘটাচ্ছে। এছাড়া সংগঠনের নামে তদ্বির, ধান্ধাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত। তারপেরও ভুঁইফোড় সংগঠনের লাগাম টেনে ধরছেন না আওয়ামী লীগ। বরং ক্রমন্বয়ে বাড়ছে নামসর্বস্ব এসব সংগঠনের সংখ্যা। প্রকাশ্য প্রায় প্রতিদিনই ভুঁইফোড় সংগঠনের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেলেও যেন দেখার কেউ নেই আওয়ামী লীগে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে স্বীকৃত সাতটি সহযোগী ও দুটি ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন রয়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলো হচ্ছে- যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও তাঁতী লীগ। ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন হলো ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ।

কিন্তু এর বাহিরে অনেক নামসর্বস্ব সংগঠনের পেছনে ‘লীগ’ শব্দ ব্যবহার ছাড়াও আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ রাসেল, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ বিভিন্ন নামে অর্ধশতাধিক ভুঁইফোড় সংগঠন গড়ে উঠেছে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, এসব ভুঁইফোড় সংগঠনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। এরা আওয়ামী লীগের কেউ নয়।

অনুসন্ধানে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের বাইরে থাকা নারায়ণগঞ্জে অসংখ্য ভুঁইফোড় সংগঠনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে- বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, আওয়ামী প্রচার লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, আওয়ামী মোটরচালক লীগ, আওয়ামী তরুণ লীগ, আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ, আওয়ামী যুব সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গমাতা পরিষদ, তৃণমূল লীগ, মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ, নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী ও ওলামা লীগ প্রভৃতি।

নারায়ণগঞ্জে এসকল ভুঁইফোড় সংগঠনের ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে স্বীকৃত সংগঠনের বাহিরে যে সকল ‘লীগ’ শব্দ ব্যবহার ছাড়াও বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ রাসেল, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম ব্যবহার করে সংগঠন গড়ে তুলেছে, তাদের সাথে আমাদের কোন সর্ম্পক নেই। তাদের দ্বায়িত্ব আমরা নিবো না।

অপর দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এ সংগঠন গুলো কেন্দ্র থেকে দেয়া হয়েছে। এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি না। তাছাড়া এসকল সংগঠন গুলো দিয়ে যদি ভালো কাজ হয় তাহলে কেন থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু পাঠাগারে একবার একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল সেখানে প্রাধনমন্ত্রী ও বর্তমান সেতুমন্ত্রী এসে পাঠকদের পুরস্কৃত করেছে। এছাড়া বর্তমানে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু সহযোগী সংগঠন নতুন করে গঠন করা হয়েছে। তাই বিষয়টি কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হবে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন,  কেন্দ্রও এই সংগঠন গুলোর বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আমরা এই সংগঠন গুলোর বিরুদ্ধে কিভাবে ব্যবস্থা নিবো। তবে এই সংগঠনকে আমরা কোন ভাবেই পাত্তা দেই না। আর তাদের সাথে আমার কোন সর্ম্পকও নেই।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম