Mon, 23 Oct, 2017
 
logo
 

জটিল হচ্ছে পাঁচের প্যাঁচ : ছাড় দিবে না কেউ কাউকে

লাইভ নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ (সদর-বন্দর)-৫ আসনকে ঘিরে বাড়ছে জটিলতা। এখানে তিনটি দলের শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠছে।

এছাড়াও এ আসনে জাতীয় পার্টি ছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে রয়েছে অধিক সংখ্যক মনোনয়ন প্রত্যাশী। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সংখ্যা ৭ এবং বিএনপিতে রয়েছে ৪ জন। সামনে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বিগত নির্বাচনে এই আসনটি জাতীয় পার্টির জন্য আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিলেও এবার স্থানীয় আওয়ামী লীগ জাপাকে ছাড় দিতে নারাজ। ইতোমধ্যে তারা তাদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েও দিয়েছেন।

যদিও আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ চাচ্ছে এই আসনটি জাপার এমপি সেলিম ওসমানকে ছেড়ে দিতে। কিন্তু এতে বাধ সেধেছে দলটির অপর পক্ষ। আর এ নিয়েই স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে নতুন করে আরও একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠেছে।

সূত্র বলছে, এর আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ধারায় বিভক্ত ছিলো। এক অংশের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নারায়ণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং অপর অংশের নেতৃত্বে আছেন নারায়ণগঞ্জ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ)-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। সম্প্রতি সৃষ্টি হওয়া নতুন গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ও সাধারাণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা।

তবে এই তিন গ্রুপের মধ্য শামীম গ্রুপ বাদে অপর দুই গ্রুপেই এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চাচ্ছে। তারা সেলিম ওসমান তথা জাপা প্রশ্নে ছাড়া দিতে নারাজ।

তাদের মতে, এখানে জাতীয় পার্টির  এমপি গত ৮ বছর ধরে। প্রথম ছিলেন নাসিম ওসমান। তার মৃত্যুর পর এই অসন শূন্য হলে তারই ভাই সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির পক্ষে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হোন। কিন্তু তারা কখনোই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক রাখেনি বরং তাদের রোষানলের শিকার হয়েছেন অনেকে। তাই এবার আর তাদের ছাড় দেয়া হবে না, এমন সিদ্ধান্তে তারা অনড় রয়েছে।

তবে শামীম ওসমান শিবির সেলিম ওসমানকেই পুনরায় এমপি নির্বাচিত করতে মরিয়া। তারা চাচ্ছে এখান থেকে আবারও মহাজোটের পক্ষে জাপার প্রার্থী সেলিম ওসমানকে। এ নিয়ে তারাও জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, জেলা যুবলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জিএম আরাফাত, আরজু ভূঁইয়া, মেয়র আইভীর ছোট ভাই আলী রেজা উজ্জ্বল মনোনয়ন পেতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

তারা সকলেই একজোট আগামী নির্বাচনে সেলিম ওসমানকে ছাড় না দেয়ার পক্ষে। তাদের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ একটি অংশও অনড় এই সিদ্ধান্তে। এরফলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে। সামনের দিনগুলোতে জাপাকে কেন্দ্র করেই আওয়ামী লীগের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আরো প্রকট হয়ে ওঠতে পারে বলেই অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অপরদিকে বিএনপিতে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে নিজ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেন্দ্র করে। এখান থেকে সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. আবুল কালাম বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। তার পাশাপাশি কেন্দ্র একই আসনে অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেনকেও মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রেখেছে। কেন্দ্রের নির্দেশে তারা দুজনই মাঠে কাজ করছে। তবে সাখাওয়াত এক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ায় তাকে সহজে মেনে নিতে পারছেন না কালাম। ফলে নানা সময় সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে নানা বিষোদগারে সোচ্চার হয়ে ওঠছেন তিনি।

এদিকে নতুন করে এই আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার ও মজিদ খনবদকার। আর এনিয়ে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছেন কালাম। সাখাওয়াত এ নিয়ে তেমন কোনো মন্তব্য না করলে ইতোমধ্যে কালাম মন্তব্য করেছেন এবং তার পক্ষে আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে মাঠে নামিয়েছেন খোরশেদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে।

স্থানীয় বিএনপির মতে, মনোনয়ন নিয়ে যে পরিস্থিতি এখনই শুরু হয়েছে তা আগামীতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। যদিও এরই মধ্য কালাম পন্থীরা সাখাওয়াতের ওপরে একবার হামলাও চালিয়েছিলো। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামীতে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠবে।

বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, নারায়ণগঞ্জ পাঁচ নিয়ে যে প্যাঁচ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা খুবই ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। মনোনয়কে কেন্দ্র করে রত্তপাতও ঘটতে পারে। সর্বোপরি কথা হচ্ছে পাঁচের প্যাঁচ ছুটাতে কেন্দ্র যদি এখনই উদ্যোগ গ্রহণ না করে, তাহলে নিজেরাই নিজেদের দমনে মাঠে নামবে আর সেটি সর্বোচ্চ নোংরামির পর্যায়ই পৌঁছাবে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম