Sat, 18 Nov, 2017
 
logo
 

না.গঞ্জে সক্রিয় ৩১ : কেন্দ্রীয় দৃষ্টি আকর্ষণই মূল টার্গেট

লাইভ নারায়ণগঞ্জ : ঘনিয়ে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসন থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে তোড়জোর শুরু করেছে ৩১ জন। এরা প্রত্যেকেই নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে এবং কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  


সূত্র বলছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রায় ১৭ জন আওয়ামী লীগে ও সহযোগি সংগঠনের নেতা। এদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্যও রয়েছেন চারজন। এসব আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। এদের মধ্যে চারজন সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন, আড়াইহাজারে বর্তমান সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু, এফএম ইকবাল। রূপগঞ্জে বর্তমান সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজি, সাবেক সেনা প্রধান কে এম সফিউল্লা ও রফিকুল ইসলাম রফিক। সোনারগাঁয়ে সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, আবু জাফর চৌধুরী বিরু, মাহফুজুর রহমান কালাম। সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লায় বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমান, সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা মতিন মাস্টার, হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরি, কাউসার আহম্মেদ পলাশ। সদর-বন্দরে কেন্দ্রী শ্রমিকলীগ সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, আরজু ভূঁইয়া, আব্দুল কাদির, জিএম আরাফাত, আলী রেজা উজ্জ্বল।

অপরদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন, আড়াইহাজারে সাবেক সাংসদ আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, বদিউজ্জামান খান খসরু, নজরুল ইসলাম আজাদ। রূপগঞ্জে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজি মনিরুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। সোনারগাঁয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করীম, অলিউর রহমান আপেল, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, উপজেলা চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান। সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লায় সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ আলম। সদর-বন্দরে সাবেক সাংসদ আবুল কালাম, অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান।

তবে উভয় দলের ওই ৩১ জন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও এখন পর্যন্ত সবাই সেভাবে মাঠে নামেন নি। এর মধ্যে কেউ কেউ রাতদিন এক করে মাঠ ঘাট চষে বেড়াচ্ছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে স্থানীয় ভোটারদের সাথেও কুশল বিনিময় করে চলেছেন। সেই সাথে নির্বাচন করার ঘোষণাও দিচ্ছেন তারা।

এরা হলেন আওয়ামী লীগের কায়সার হাসনাত, বিরু, গোলাম দস্তগীর গাজি, নজরুল ইসলাম বাবু, এফএম ইকবাল, আরজু ভূঁইয়া, খোকন সাহা প্রমূখ। বিপরীতে বিএনপির মধ্য থেকে যারা মাঠে সক্রিয় তারা হলেন, আতাউর রহমান আঙ্গুর, মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, নজরুল ইসলাম আজাদ, তৈমূর আলম খন্দকার, কাজি মনির, আবুল কালাম, সাখাওয়াত, শাহ আলম প্রমূখ।

এদিকে মাঠে এদের সক্রিয়তার মূল কারণ এখন কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ। ফলে তারা নিজেদের মতো করে মাঠ দাবড়ে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথেও লবিং করে চলেছেন। অপরদিকে মনোনয়নকে কেন্দ্র এরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রশ্নে নিজ দলীয় ব্যক্তিদেরকেও প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করেছেন তারা। এতে করে দল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এরা নিজেরা নিজেদের অবস্থানে থেকে কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে বর্তমানে এতসংখ্যক মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা এবং মনোনয়ন প্রশ্নে নিজেদের মধ্যে বাদানুবাদ সৃষ্টিতে তৃণমূলে কিছুটা হতাশা জন্মেছে। আবার রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করছেন, ৫টি আসনে দুই দল থেকে ১০ জন মনোনয়ন পাবে। অন্যরা বঞ্চিত হবে। কিন্তু মনোনয়ন পাওয়াকে কেন্দ্র করে তারা প্রত্যেকেই শক্ত অবস্থানে। ফলে ধারণা করা যাচ্ছে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিতরা নিজেরাই নিজ দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন জয়ের অন্তরা হয়ে উঠবেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম