Sun, 26 Feb, 2017
 
logo
 

নামে ২০ দল মাঠে ঠুটোজগ্নাথ, না.গঞ্জ বিএনপিও চেনে না শরিক দল!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : নামে ২০ দলীয় ঐক্যজোট হলে কার্যক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জে নেই তাদের দৃশ্যমান কোন কর্মকা-। এই জোটের শরীক জামায়াত ইসলামী ছাড়া অন্য কোন শরিক দলের কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

এমনকি দু’ চারটে দল নামে থাকলেও স্থানীয় পর্যায় তাদের কোন কার্যাললে কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি।

এদিকে জোটভূক্ত কর্মসূচিগুলোর একটিতেও বিএনপির সাথে শরিক দলের কোন নেতাকর্মীদের দেখা যায় না। শরিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সমন্বয়হীনতা, আর অবহেলার কারণে জোটভূক্ত আন্দোলনে তারা আসেন না। এক্ষেত্রে বিএনপি ‘একলা’ চলো নীতি অনুসরণ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপির তৃণমূল বলছে, ২০ দলীয় ঐক্যজোটের শরিক বলতে জামায়াত ইসলামী ছাড়া অন্য কোন কোন দল তাদের সাথে রয়েছে সে কথা তারাও জানে না! কেউ কেউ জানলেও নারায়ণগঞ্জে তাদের কোন অস্তিত্ব আছে কি নাই, তা-ও তাদের জানা নেই।

সূত্র বলছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় ঐক্য জোট শুধু জেলা নয়, কেন্দ্রীয় পর্যায়ও নিস্ক্রিয়। জোটবদ্ধভাবে শরিকদলগুলোর হাঁকডাক থাকলেও কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে তাদের দৃশ্যমান কোন কর্মকা- নেই। কেন্দ্রিয় পর্যায়ে মিছিল-সমাবেশসহ কর্মসূচি পালন থেকে বিরত আছে এ জোটের অন্তত ১৬টি দল।

সূত্র মতে, এ জোটের মাত্র নয়টি দলের নিবন্ধন আছে নির্বাচন কমিশনে। তবে ক্রমশ তারাও দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), লেবার পার্টির তৎপরতা কেন্দ্রিয় পর্যায় কিছুটা দৃশ্যমান থাকলেও জেলা পর্যায় এরা অস্তিত্বহীন।

এর মধ্যে ওই বিএনপি সহ ওই চারটি দলের কার্যক্রম চার দেয়ালে গ-িবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবে মাঝে মাঝে বিএনপি প্রকাশ্যে এসে সভা-সমাবেশ করার চেষ্টা করে। আর জামায়াত ইসলামী মাঝে মাঝে কর্মসূচির নামে ঝটিকা মিছিল করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের অস্তিত্বও দৃশ্যমান নয়। এছাড়াও অন্য কোন দল আছে কি নেই, নারায়ণগঞ্জে তার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি। তবে, নাম সর্বস্ব অবস্থায় এলডিপি ও কল্যাণ পার্টি থাকলেও তাদের তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। নেই তাদের কোন দপ্তরও।

সূত্র বরছে, ২০ দলীয় জোটের শরিক অধিকাংশ দলেরই জেলা পর্যায় পূর্ণাঙ্গ কার্যালয় নেই। কারো কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকলেও, মাসের পর মাস খোলা হয় না তা। কেউ রাজনৈতিক কাজ চালান নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেই। নিজের বাসাতেই কেউ কেউ সাইনবোর্ড টানিয়ে নিয়েছেন।

জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের অফিস বন্ধ ২০১১ সাল থেকেই। সবচেয়ে দুঃসময় পার করতে হচ্ছে এই দলটিকে। তাদের প্রায় সব নেতা কারাগারে, না হয় আত্মগোপনে। দলটির সাংগঠনিক কর্মকা- পরিচালিত হচ্ছে মূলত আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে।

পল্টন কালভার্ট রোডের একটি ভবনের তিনটি আলাদা কক্ষ বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জমিয়াতে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি’র (এনডিপি) কার্যালয়। এর মধ্যে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ জমিয়াতে উলামায়ে ইসলামের কার্যক্রম। এরপাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে এদের কোন অস্তিত্ব আদৌ আছে কি না, সে-ও জানে না বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও।

অন্যদিকে ৩৭/২ কালভার্ট রোডের ফাইনাজ অ্যাপার্টমেন্ট নামের একটি ভবন থেকে পরিচালিত হচ্ছে জোটের বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির দাপ্তরিক কর্মকা-। তবে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় তাদের কোন তৎপরতা নেই। এরমধ্যে এলডিপির নামমাত্রা এক দু’জন নেতা থাকলেও তাদের কোন কর্মী নেই। দৃশ্যমান নয় তাদের কর্মকা-ও।

অপরদিকে নিজ বাসা থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন খেলাফত মজলিশের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ ইসহাক। ১৬ বিজয় নগরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড থাকলেও সেখানে কোনো কার্যালয় নেই। নারায়ণগঞ্জে এ দলটির কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয় যায় নি। এছাড়া জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এবং গরীবে নেওয়াজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ পিপলস লীগের আলাদা অফিস নেই। এরমধ্যে কাজী জাফরের মৃত্যুর পর এ দলটি এখন ছন্নছাড়া।

অন্যদিকে তোপখানা রোডের বাণিজ্যিক ভবন মেহরাব প্লাজার নিচতলার একটি কক্ষে ন্যাপ ভাসানীর অফিস। ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান মো. আজহারুল ইসলাম তার এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকেই দলের অফিস করেছেন। তবে, নারায়ণগঞ্জে এ দলের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।

এছাড়া রাজধানীর আসাদ গেটে সাইনবোর্ডবিহীন পারিবারিক ভবনে করা হয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার কার্যালয়। ৮৫ নয়াপল্টনের একটি ভবনের ৬ তলায় দুটি কক্ষে কল্যাণ পার্টি আর বাংলাদেশ ন্যাপের কার্যালয়। কল্যাণ পার্টির অফিস শেষ কবে খোলা হয়েছে তা ভুলে গেছেন দলের নেতারাও। আর নারায়ণগঞ্জে এ তিনটি দলই নামসর্বস্ব, নেই কার্যালয়, নেতা কিংবা কোন কর্মী। বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি চেয়ারম্যানের ইন্তেকালের পর অস্তিত্বহীনতায় ভুগছে দলটি। পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড আছে ১২৪/১, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজায়। সাম্যবাদী দলের (একাংশ) ওয়ারীতে কেন্দ্রীয় অফিসে সাইনবোর্ড থাকলেও দেশের কোথাও তাদের অস্তিত্ব নেই। তেজগাঁওয়ের এফডিসির পাশে একটি বহুতল ভবনে লিবারের ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির অফিস থাকলেও কার্যক্রম নেই দীর্ঘ দিন ধরে। তবে, এ পার্টির এক দু’জন নেতারা নাম কালে ভদ্রে নারায়ণগঞ্জে শোনা গেলেও কোন কর্মসূচিতে তাদের দেখা যায় না।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বেড়ে ১৮ দলীয় জোট হয়। পরে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ও সাম্যবাদী দলের একাংশ এই জোটে যোগ দিলে তা ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়। গত পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে জোটে থাকা ইসলামী ঐক্যজোট ২০ দল ছেড়ে চলে যায়। এর পরই একই দলের সাবেক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রাকিব ও অধ্যাপক আব্দুর করিমে নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোটের অপর অংশ বিএনপির সঙ্গে থাকার ঘোষণা দেন। ইসলামী ঐক্যজোটের (মুফতি আমিনী) নিবন্ধন এবং লালবাগে অফিস থাকলেও আবদুর রাকিবের তা-ও নেই।

জোটের একটি শরিক দলের নেতা বলেন, বড় অফিস নিয়ে ‘মেনটেইন’ করার মতো অবস্থা বিএনপি এবং জামায়াত ছাড়া কোনো দলের নেই। যারা কোনো অফিসের কক্ষ ভাড়া নিয়ে চেয়ারটেবিল সাজিয়ে রেখেছেন তাদের আয় আসে ‘অন্যজায়গা’ থেকে। পকেটের পয়সায় কেউ ভাড়া দেয় না।

তিনি বলেন, ছোট দলগুলোর নেতারা বিরোধীদলে থাকার কারণে সুবিধা পাচ্ছেন না। রাজনৈতিক কর্মকা- না থাকায় বিভিন্ন মাধ্যমে যে আয় রোজগার হতো তা কমে গেছে। আর অফিসের কোনো প্রয়োজনও নেই এখন।

এ ব্যপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও ২০ দলীয় জোটের আহবায়ক অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার লাইভ নারায়ণগঞ্জকে এর আগে জানিয়েছিলেন, দেশের অন্যান্য জায়গায় শরীক দল থাকলেও নারায়ণগঞ্জে চোখে পড়ার মত তেমন কোন দল নেই। বিএনপি-জামায়াত ছাড়া অন্য কোন দলকে মাঠে কাজ করতে দেখা যায়নি। নারায়ণগঞ্জ ২০ দলীয় জোটের শরীক দলের মধ্যে হেফাজত ইসলাম একটি দল, যার বিরুদ্ধে অবরোধ হরতালে মোট ১৬টি মামলা দায়ের করায় শুরুতে তাদের দেখা মিললেও পরবর্তীতে দেখা যায়নি। এছাড়া সাম্যবাদী দল ও ন্যাপ সহ কয়েকটি দলের নেতাকর্মীরা অন্যান্য কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করলেও অবরোধ হরতালে করেনি। কারন সেখানে সকল সিনিয়র নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪