Tue, 12 Dec, 2017
 
logo
 

না.গঞ্জে নামে আছে ১৪ দল মাঠে অস্তিত্বহীন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: প্রথমে ছিল ১১ দলীয় জোট। পরে আওয়ামী লীগ সহ ৩টি দলের অন্তর্ভূক্তি হলে গঠন হয় ১৪ দলীয় জোট। এরপর একে সম্প্রসারিত করে করা হয় মহাজোট।

সম্প্রতি এরশাদ একটি জনসভা থেকে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আর মহাজোটে নেই’। যার ফলে এখন আর মহাজোট নেই, তারা সেই আগের অবস্থান তথা ১৪ দলীয় জোট।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল নামে থাকলেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তাদের অস্তিত্ব নেই। খুঁজেও পাওয়া যায় না তাদের কার্যালয়। কিছু থাকলেও অনেকেই জানে না তাদের নেতা কারা? তবে, এ নামেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ১৪ দলীয় জোট চলছে ল্যাংড়া ঘোড়ার মত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ক্ষমতায় থেকেও তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে জোড়াতালি দিয়ে।

এ ছাড়া বেশ কয়েকটি দল শুধু সাইনবোর্ড-সর্বস্ব। জোটে তো দূরের কথা, রাজনৈতিক মাঠেও তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। কোনো কোনো দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ও খুঁজে পাওয়া দায়। দু’ একটির কার্যলয় নারায়ণগঞ্জে থাকলেও তাদের পাওয়া যায় না কোনো কর্মসূচিতে। আবার কোনটির নেতা থাকলেও নেই কোনো কার্যলয়।

শুধু তাই নয়, নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও জানে না তাদের শরীক দলগুলোর নাম কী কী, কিংবা তাদের নেতা করা এবং কার্যালয় কোথায় কোথায়?

সূত্র বলছে, নির্বাচন ও কর্মসূচিভিত্তিক ঐক্যের ভিত্তিতে গঠন করা হয়েছিল ১৪ দলীয় জোট। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এ জোটের কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জে একদমই নেই। যদিও জোটভুক্ত তিনটি দলের শীর্ষ নেতার ঠাঁই হয়েছে মন্ত্রিসভায়। তারপরও তারা এ জেলায় সাংগঠনিকভাবে নামসর্বস্ব হয়েই আছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বাকি দলগুলোর কার্যক্রম দিবসভিত্তিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও জেলার রাজনীতিতে তারা অস্তিত্বহীন।

তবে স্থানীয় পর্যায়ের ১৪ দলীয় জোটের কিছু নেতারা মনে করেন, যে লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দল গঠন করা হয়েছিল, তা আদৌ অর্জন হয়েছে কি না তা বিচার-বিশ্লেষণের সময় এসেছে। সরকার পরিচালনার নীতিনির্ধারণে সুযোগ না থাকায় এ জোটের ছোট শরিক দলগুলোকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে বলেও মনে করেন কেউ কেউ।

এদিকে অনিয়মিত বৈঠক ও প্রেসব্রিফিং ছাড়া আর কোনো কাজ নেই ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের। কেন্দ্রীয় পর্যায় ১৪ দলের কার্যক্রম কিছুটা দৃশ্যমান হলেও নারায়ণগঞ্জে এ জোটের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠন করার পর প্রথম মেয়াদে ৫ বছর, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় আড়াই বছরসহ মোট সাড়ে সাত বছর পেরিয়ে গেলেও গতিশীল হয়নি ১৪ দলীয় জোট।

সূত্র বলছে, ২৩ দফার ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল ১৪ দলীয় জোট। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সংবিধান ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা, অসাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দলীয় জোট গঠন করা হয়েছিল, তা অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। যার ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও জোটের শরিকদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে।

সূত্রমতে, ১৯৯৮ সালের শেষদিকে বিকল্প রাজনৈতিক জোট হিসেবে বাম ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সাতটি দলের সঙ্গে আরো চারটি দল মিলে ১১ দলীয় জোট গঠন করা হয়েছিল। পরে ১১ দল দীর্ঘদিন জাতীয় ইস্যুতে রাজনীতির মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যায়। ২০০৪ সালে ৯ দফা দাবিতে ১১ দল ও আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ/মোজাফফর), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মিলে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গঠিত হয় ১৪ দলীয় জোট। যদিও এ সময়ে বেশকিছু দল যেমন জোট থেকে বেরিয়ে গেছে, তেমনি ছোট ছোট নতুন কিছু দলও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জে ১৪ দলের অস্তিত্ব অনেকটাই দুরাশা।

শরিক দলগুলোর সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়নগঞ্জের আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের সাথে তাদের সমন্বয়হীনতার কারনেই মহাজোটের সদস্য হয়েও একত্রে কোন কর্মসূচী পালন করতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে জেলা ওর্য়াকাস পার্টির সাধারন সম্পাদক হিমাংশু সাহা এর আগে লাইভ নারায়নগঞ্জকে জানিয়েছিলেন, বিগত ১ বছর যাবত আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে আমাদের কোন সমন্বয় নেই। তারা কোন কর্মসূচী বা অনুষ্ঠানে আমাদের জানান না। তবে কেন জানায় না এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগের নেতাদের জিজ্ঞেস করলে তখন তারা এড়িয়ে যান। চাষাড়া বালুরমাঠে কার্যালয় আছে। তবে মূলনেতাদের মহাজোটের শরিক নেতাদের সাথে নিয়ে কাজ করা উচিত।

ন্যাপ শহর সাধারন সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন লাইভ নারায়নগঞ্জকে জানান, নারায়নগঞ্জে ১৪ দলের শরিকদলের সব সংগঠনের কার্যালয় নেই। ৭টির আছে কিনা জানা নেই। তাদের কেন কোন কার্যালয় নেই বা কার্যক্রম পরিচালিত হয়না এটা তাদের ব্যাপার। তবে আওয়ামীগের সাথে শরিক দলের নেতাদের কোন সমন্বয়ের অভাব নেই। মহাজোটের কোন কর্মসূচী থাকলে অবশ্যই তাদের জানানো হয়ে থাকে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম