Sun, 26 Feb, 2017
 
logo
 

গুজব নয় : ‘মাইনাস’ ফর্মূলায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে না.গঞ্জ বিএনপিতে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে ঢেলে সাজানো হবে। খবর রটেছিল, জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হবে। নতুনদের প্রাধান্য দিয়ে গঠন করা হবে কমিটি। এতদিন এসব কথা গুঞ্জন মনে হলেও এবার সত্যি হতে চলেছে তা।


দলীয় একাধীক সূত্র নিশ্চিত করে বলেছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। এ কাজ এখন অনেকটাই এগিয়ে গেছে। সামনে আসাটা এখন সময়ের অপেক্ষামাত্র।

সূত্র বলছে, মাঠের রাজনীতি চাঙ্গা রাখতে পিছনে থাকা কিন্তু দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ, এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়েই জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নিয়ে দলটির চেয়ারপারসন বেগম জিয়া। ইতিমধ্যে তেমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করাও হয়েছে। এরমধ্যে ক‘জনকে মাঠে থাকার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজিত সাখাওয়াত হোসেন খানকে জেলা ও অথবা মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হবে। তবে, তাকে মহানগর বিএনপির সভাপতি করা হতে পারে বলেই ঐক্যমতে পৌঁছেছে দলীয় নীতি নির্ধারণী ফোরাম। এক্ষেত্রে এটিএমন কামালকেও সভাপতি করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে। তবে কে সভাপতি হবেন? সেটা এখনও চুড়ান্তভাবে কিছু জানা যায় নি।

অন্যদিকে জেলা কিংবা মহানগর কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কেন্দ্রীয় জাসাস নেতা আনিসুল ইসলাম সানিকে আনা হতে পারে বলেই মত দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি কাজী মনির ও শাহ আলমকে জেলা কমিটিতে রাখা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ন পদে।

এছাড়াও মহানগর বিএনপি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসা হবে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে। তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হবে কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুকে।

অপরদিকে গঠন হতে যাওয়া জেলা ও মহানগর কমিটি থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে তৈমূর আলম খন্দকার, গিয়াসউদ্দিন ও অ্যাড. আবুল কালাম। এছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, আতাউর রহমান মুকুল।

তবে, সিদ্ধিরগঞ্জের অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে গঠন হতে যাওয়া কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার কথা ভাবা হলেও তা এখনও নিশ্চিত নয়। কেন না, তৃমণমূলের রাজনীতিতে তিনি বরাবরই পিছনে পরে থাকেন। মাঠের সাথে তার যোগাযোগটা সেভাবে নেই। তবে, জেলা যুবদলের সভাপতি হিসেবে কর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক থাকলেও নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি থেকে শীর্ষ তিন নেতাকে বাদ দিয়ে কমিটি করা হবে এমন আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপির মধ্যে চলছে নানা ধরণের আলোচনা সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, তাদের বাদ দিয়ে কমিটি করাটা মোটও ঠিক হবে না।

কারো কারো মতে, দলীয় কোন্দলের কারণে ‘মাইনাস’ ফর্মূলা হচ্ছে। এজন্য দলীয় একাধীক নেতাই দায়ী। এরা মূলত মাঠের নয়, টেবিল রাজনীতিতে বিশ্বাসী। নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য তারা এমন ‘মাইনাস‘ ফর্মূলা নিয়ে এগোচ্ছেন। যা আত্মঘাতি বলেই মনে করেন অনেকে।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির প্রস্তাবিত সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, তিন নেতাকে ‘মাইনাস’ করে কমিটি গঠন করাটা ঠিক হবে না। এতে দল ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তবে নতুনদেরও নেতৃত্বে আনা দরকার। এক্ষেত্রে নতুন পুরনো মিলিয়ে কমিটি গঠন করা হলে কমিটি মাঠের রাজনীতিতে চাঙ্গা থাকবে।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেছেন, আমাদের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই। আছে নেতৃত্বে প্রতিযোগতিা। আপতত দৃষ্টিতে যা দ্বন্দ্ব মনে হচ্ছে তা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হলে আর থাকবে না।

 

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪