Wed, 28 Jun, 2017
 
logo
 

ভয়-শঙ্কায় স্বস্তির নি:শ্বাস নগরবাসীর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বিএনপিকে মাঠে নামতে না দেয়াওয়া ঘোষণা দিয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। আর বিএনপি বলেছিল তারা মাঠে নামবেই। শেষতক বিএনপি তাদের কথা রাখলেও আওয়ামী ছিল লাপাত্তা।


এদিকে ৫ জানুয়ারি ঘিরে ক্ষমতাসীন ও বিএনপি মুখোমুখি হলে ঘটতে পারে সংঘাত। দিনভর এমন আশঙ্কাই ছিল নগরবাসীর মধ্যে। তবে, শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় দিন শেষে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছে নগরবাসী।

অপরদিকে প্রশ্ন উঠেছে, ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র বিজয়’ দিবস এমন ঘোষণা দিয়ে গত ৩ বছর ধরে এদিনটি পালন করে আসছিল। একই দিনকে বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস অখ্যায়িত করে কালো পতাকা মিছিল করে আসছে। আর একই দিনে দুই দলের ভিন্ন দুই কর্মসূচি ঘিরে দেশব্যাপীই একটা চাপা আতঙ্ক বিরাজ করে। যা এবছরও ছিল লক্ষনীয়।

এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে দুই দল মুখোমুখি অবস্থান নেয়। কোথাও কোথাও সংঘর্ষও সৃষ্টি হয়। আবার কোথাও পুলিশী বাধায় নামতে পারেনি বিএনপি। সব মিলিয়েই এদিন ছিল টানটান উত্তেজনার একটি দিন। তবে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এদিন ঘিরে মুখোমুখি অবস্থান নেয় নি। এদিনে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিল ‘তালাবদ্ধ’।

তবে, বিএনপি পৃথকভাবে কালো পতাকা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। করা হয় মৃদ লাঠিচার্জ। এতে বিএনপির ১০ কর্মী আহত হয়। পন্ড হয়ে যায় তাদের কালো পতাকা মিছিল। একই সময় বিএনপি ৪ নেতাকেও আটক করে সদর থানা পুলিশ। যদিও আটকের ৪ ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে দু’দলের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কা সারাদিনই তাড়া করে ফিরেছিল নগরবাসীকে। যার ফলে এদিন খুব সতর্কতার সাথেই ছিলেন নগরীর সাধারণ মানুষজন। তবে, দিন শেষে তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেন নগরীর আপমর জনতা।

নগরবাসী মনে করেন, এমন সহাবস্থান কিংবা সহনশীলতা যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক ভাবে বিরাজ করে, তবে দেশ থেকে বিশৃঙ্খলা একসময় নাই হয়ে যাবে। আর এমনটাই প্রত্যাশা করেন সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, আমরা রূপগঞ্জ উপজেলাতে বিশাল র‌্যালি ও আলোচনা সভা করে ‘গণতন্ত্র বিজয়’ দিবস উৎযাপন করেছি। তবে শহরে দিবসটি পালনের দায়িত্ব ছিলো মহানগর আওয়ামী লীগের।

শহরে গণতন্ত্র রক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজন না করার বিষয়ে জানতে চায়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি তা রিসিব করেননি।

এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার জানান, গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেরই প্রমান হয়েছে আওয়ামীলীগের চাইতে বিএনপি বেশি শক্তি শালী। কারণ আওয়ামীলীগের মাঝে বিভাজন ছিলো প্রকাশ্য আর বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিলো। ফলে আওয়ামীলীগ শহরে দিবসটি পালন করতে সাহস পায়নি।

তিনি আরো বলেন, সংবিধানের ৭ ধারা মতে রাষ্ট্রর মালিক জনগণ আর ২১এর ২ ধারা মতে সরকারি সকল কর্মচারী জনগনের চাকর। কিন্তু আজ সেই চাকর, মালিকের গায়ে হাত দিয়ে প্রমান করেছেন গণতন্ত্রের হত্যা হয়ে গেছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪