Thu, 13 Dec, 2018
 
logo
 

৪ আসনে এবার উন্নয়ণ লড়াইয়ে গিয়াস-শামীম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নির্বাচনের বাকী মাত্র দুমাস। এ মাসের শেষেই ঘোষনা হতে পারে নির্বাচনী তফসিল। এরই মধ্যে নির্বাচনী লড়াই জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে। এ আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমান এবং সাবেক এমপি বিএনপি নেতা মুহম্মদ গিয়াসউদ্দিন নির্বাচনেই আগেই নির্বাচনী যুদ্ধে নেমে গেছেন। দুজন দুজনকে পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জর পর এবার শুরু হয়েছে উন্নয়নের ফিরিস্তি প্রচার প্রচারণার।

এক্ষেত্রে প্রথম আক্রমনটি এমপি শামীম ওসমানের পক্ষ থেকেই করা হয়। দলীয় এক কর্মী সভায় তিনি বলেছেন, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের সময় কোন উন্নয়ণ হয়নি, শুধু খাই খাই করেছেন। এর জবাবে মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে এমপি শামীম ওসমানকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ দেন সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন। তিনি ৭০০০ কোটি টাকার উন্নয়ণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পরদিন সিদ্ধিরগঞ্জের এক কর্মী সভায় শামীম ওসমান ফের চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, গিয়াসউদ্দিন তার ২০ ভাগের ১ ভাগ উন্নয়ণ করেছে প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। এরপর আবার এক বিবৃতিতে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন তার ৩৯টি উন্নয়ণের ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

এদিকে এমপি শামীম ওসমানেরও উন্নয়ণমুলক পোষ্টার, ব্যানার, ফেষ্টুনে ছেয়ে গেছে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ। এসব প্রচারণায় বিগত ১৯৯৬ সাল থেকে দুবার এমপি হিসেবে কি কি কাজ করেছেন তার ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়েছে।

তবে, অনেকের প্রশ্ন ‘এ আমলের দাবিকৃত ৭হাজার কোটি টাকার উন্নয়ণ চিত্র কই’।

এব্যাপারে জানতে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

অপর দিকে, এ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুহম্মদ গিয়াসউদ্দিন লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, উন্নয়ণ দু ধরণের। অবকাঠামোগত উন্নয়ণ, যেমন- রাস্তা, ঘাট, ব্রীজ, কালর্ভাট, ভবন ইত্যাদি। আরেকটি হলো- শিক্ষা, সাংস্কৃতি, নৈতিকতা, সামজিক সচেতনতা, সন্ত্রাস-মাদক মুক্ত সমাজ গঠন। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জীবনেই সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ণের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। দু বারের চেয়ারম্যান ছিলাম। এর পর ফতুল্লা থানা ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম, যেখানে ১০টি ইউনিয়ণ নিয়ে কাজ করেছি। সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ছিল। নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার উন্নয়ন করেছি। সংসদ সদস্য ছিলাম ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ব্যপক উন্নয়ন করেছি। যদি উন্নয়নের তালিকা করি, সেই তালিকায় অনেকের ফিরিস্তি ডুবে যাবে।

তুখোড় এই রাজনীতিবিদ আরো বলেন, আমি শুধু এলাকার উন্নয়নই করিনি, রাষ্ট্রীয় উন্নয়নেও অবদান রেখেছি। যে আদমজী পাটকল বছর বছর লোকসান গুনে, রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছিল। সেখানে ইপিজেড করে আজ ৭২ হাজার লোকের শুধু কর্মসংস্থানই হয়নি, বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হচ্ছে। আর এই ইপিজেড ঘিরে আমাদের এই সিদ্ধিরগঞ্জের অমূল পরিবর্তন।

তিনি বলেন, জনগণ এখন অনেক সচেতন। তাদেরকে গোজামিল দেখিয়ে লাভ নেই। সুযোগ এর অপেক্ষায় জনতা। সঠিক সময়ে তারা চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবে না।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম