Wed, 19 Sep, 2018
 
logo
 

চাঁদাবাজি বন্ধে নৌযান শ্রমিকদের ৫ দিনের আলটিমেটাম

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নদীপথে সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ও শ্রমিকদের উপর নির্যাতন বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দিয়েছে নৌযান শ্রমিকরা। নৌশ্রমিকদের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের আগামী ৫ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে নদীপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ করার আলটিমটাম দেয়া হয়।

রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে নদীপথে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি বন্ধসহ রূপগঞ্জে বালু নদীতে সন্ত্রাসীদের হামলায় ৪ জন আহতের প্রতিবাদে ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারেরর দাবিতে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এই হুশিয়ারী ও আলটিমেটাম দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার মাষ্টার।

এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে যতগুলো শ্রমিক সেক্টর রয়েছে তার মধ্যে নৌ শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করে থাকে। তারা পরিবার পরিজন ফেলে রেখে মাসের পর মাস বাড়ির বাইরে থাকে। ঈদ উৎসবেও পরিবারকে সময় দিতে পারেনা। সাধারণ মানুষকে গন্তব্যে পৌছানো এবং খাদ্যদ্রব্য সহ আনুষাঙ্গিক পণ্য পৌছানোর কাজ করে থাকে। অথচ তারা ন্যায্য মজুরী পাচ্ছে না। একজন মালিক একটি জাহাজ থেকে অসংখ্য জাহাজের মালিক বনে গেলেও শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়না। অনেক মালিক তার জাহাজের কাগজপত্র ঠিক করেন না। আর ওইসকল জাহাজ নিয়ে নৌপথে চলাচল করতে গিয়ে শ্রমিকদের দুর্ভোগ হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

গত ৬ আগষ্ট মেঘনায় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ মতিন কাজী বাহিনীর হামলায় কয়েকজন নৌ শ্রমিক আহত হয়।

১০ আগষ্ট রূপগঞ্জের বালু নদীতে ফকিরখালী নামক স্থানে চাঁদাবাজ চক্রের মূলহোতা মাসুদের (৩০) নেতৃত্বে একদল চাঁদাবাজ চক্র দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হানা দিয়ে এমবি দুরন্ত নামের একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সুকানী তৈয়ব আলীসহ ৪ জনকে পিটিয়ে আহত করে নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পদ্মা নদীর বাঘাবাড়ি বন্দর, শীতলক্ষ্যা মেঘনাসহ বিভিন্ন নদীতে চাঁদাবাজদের দাবিকৃত অর্থ না দেয়া হলে শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চালানো হয়। কিছুদিন পূর্বে নৌ পুলিশ গঠন হওয়ার পরে আমরা মনে করেছিলাম নদীপথ সুরক্ষিত হবে। কিন্তু নৌ পুলিশের সামনেই যদি নৌ শ্রমিকের রক্ত ঝরে আর তারা কিছুই করতে না পারে তখন আমাদের নিজেদেরকে অভিভাবকহীন মনে হয়। যেখানে নৌ পুলিশ ফাড়ি দেয়া দরকার সেখানে না দিয়ে অন্য জায়গায় কেন নৌ পুলিশ ফাড়ি স্থাপন করা হয়েছে সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। বালুমহালের কতিপয় দুস্কৃতিকারীর শেল্টারদাতা কারা আমরা জানি। শ্রমিকদের রক্ত নিয়ে হোলিখেলার পয়সা কাদের পকেটে যাচ্ছে সেটাও আমরা জানি। তাই আমাদেরকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করবেন না। আমরা রাস্তায় নামলে কিন্তু সকল নদীবন্দর অচল হয়ে পড়বে। সারাদেশে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। যদি আর একজন নৌ শ্রমিকের উপর হামলার ঘটনা ঘটে তাহলে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য পুলিশ প্রশাসনকেই দায় নিতে হবে।

তিনি নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও রূপগঞ্জ থানার ওসির উদ্দেশ্যে বলেন, রূপগঞ্জের ফকিরখালীতে নৌযান শ্রমিকদের উপর হামলাকারী জলদস্যু মাসুদ বাহিনীকে আগামী ৫ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবো।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন জেলা শাখার সভাপতি সরদার আলমগীর মাষ্টারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন চুন্নু মাষ্টার, লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাষ্টার, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা কবির হোসেন, দশআনি মোহনপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, হামলায় আহত তৈয়ব হোসেন, ডেমরা শাখার সভাপতি জাকির হোসেন, কাওতাইল শাখার সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন, সারুলিয়া শাখার উপদেষ্টা মোঃ মুরাদ হোসেন, সহ সম্পাদক আজাদুর রহমান, খাদ্যপন্য শ্রমজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস খান, ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আজকে নদীপথে চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকলেও নৌ পুলিশ কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। ফকিরখালী, গাবতলী আমিনবাজার, সারুলিয়া, মেঘনায় বৈদ্যেরবাজার, কালিপুরা, শীতলক্ষ্যার বসুন্ধরা সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে নৌ পুলিশের সামনেই নদীপথে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম