Tue, 16 Oct, 2018
 
logo
 

শীতলক্ষ্যা থেকে ৫ চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার, ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ


সিদ্ধিরগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে চাঁদাবাজীর সময় হাতে নাতে ৫ চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) র‌্যাব-১১। এসময় তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের নগদ ৯৮ হাজার ৬’শ টাকা এবং ৮টি চাঁদা আদায়ের রশিদ বই উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, জেলার রূপগঞ্জ থানার তারাব পৌরসভার হাটিপাড়া এলাকার মো: নূর আলম ভূঁইয়া (৪৯), টাটকি এলাকার মন মোহন বিশ্বাস (৩৫), পূর্ব হাটিপাড়া এলাকার মো: ইলিয়াস ফকির (৪৩) তারাব উত্তর পাড়া এলাকার মো: সোহানুর রহমান ওরফে সুমন (২৫) ও মো: ওমর ফারুক (৩৪)।
বুধবার (৮ আগষ্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী নগরে অবস্থিত র‌্যাব-১১’র সদর দপ্তর থেকে অধিনায়কের পক্ষে ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশাল কোম্পানী (সিপিএসসি)’র ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো: জসিম উদ্দনী চৌধুরী পিপিএম স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, গত মঙ্গলবার (৭ আগষ্ট) বিকালে সাড়ে ৫টায় র‌্যাব-১১’র একটি আভিযানিদ দল নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন তারাব পৌর এলাকায় সুলতানা কামাল ব্রীজের নীচে শীতলক্ষ্যা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে নৌপথে চাঁদাবাজিকালে ৫ জনকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাবের পক্ষ থেকে আরো জানায়, একটি অভিযোগের সূত্রে জানা যায় দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধুচক্র রূপগঞ্জের তারাব এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে চলাচলরত নৌযানগুলোকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক থামিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছে। র‌্যাব-১১’র অনুসন্ধানে নৌপথে চাঁদাবাজি সংক্রান্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে তারাব সুলতানা কামাল ব্রীজ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদীতে চলাচলরত নৌযান হতে বিশেষ করে কয়লা, পাথর ও বালুবাহী বাল্কহেড হতে জোরপূর্বক থামিয়ে চাঁদা আদায়কালে ওই ৫ জনকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করা হয় । এসময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন নৌযান হতে চাঁদা আদায়ের নগদ ৯৮ হাজার ৬’শ টাকা ও চাঁদা আদায়ের ৮ টি রশিদ বই উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নুর আলম ভূইয়া নিজেকে বিআইডব্লিউটিএ’র ইজারাদার দাবী করে একটি শুল্ক আদায়ের অনুমতি পত্র ও ১টি চুক্তিপত্র প্রদর্শন করে। অনুমতি পত্রে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে “নদী পথে চলাচলরত নৌযান হতে কোন প্রকার শুল্ক আদায় করা যাবে না”। এছাড়াও চুক্তিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, “বিআইডব্লিউটিআই’র ঘাট বা পল্টুন ব্যবহার করে ৫শত টন পর্যন্ত মালামাল লোড-আনলোড করলে সবোর্চ্চ ২শত টাকা র্চাজ নিতে পারবে”। কিন্তু এই অসাধু চক্র সব নীতিমালা লঙ্ঘন করে দীঘদিন ধরে নৌপথে চাঁদাবাজি করে আসছে। সিলেট থেকে পাথর কয়লা ও বালুবাহী বাল্কহেড গুলো শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে নরসিংদী, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে থাকে। এই নৌ-যান গুলো অত্র এলাকায় পৌছলে তারা নৌ-শ্রমিকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছে।
গ্রেফতারকৃত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম