Wed, 15 Aug, 2018
 
logo
 

চাওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের দাবী পূরণ করলো সেলিম ওসমান


উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মত সিটি কর্পোরেশনের ২০নং ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত সোনাকান্দা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার ৭ আগস্ট প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন এমপি সেলিম ওসমান।

প্রথমবারের মত সংসদ সদস্যকে কাছে আয়োজক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং উক্ত এলাকার বাসিন্দারা তাদের সমস্যার কথা অনুষ্ঠানের অতিথিদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তুলে ধরার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বভাব সুলভ অনুষ্ঠানের শুরুতেই নিজের সংক্ষিপ্ত প্রদান করে মঞ্চে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ডেকে তুলে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান সমস্যা এবং তাদের দাবী দাওয়ার কথা জানতে চান।

মঞ্চে একে একে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় তারা বলেন, স্কুলে তাদের শ্রেনী সংকুলন সহ বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট, টয়লেটের দুর্রবস্থা, সহ কম্পিউটার ল্যাব, সাইন্সল্যাব, সিসি টিভি ক্যামেরা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমে দাবী উত্থাপন করেন।
চাওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের দাবী পূরণ করলো সেলিম ওসমান
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এলাকার বিদ্যমান সমস্যার কথা তুলে ধরতে মুরুব্বিদের মঞ্চে তুলে নেন। এ সময় তাঁরা সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই এলাকা প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ করে ওয়াসার পাম্প বসানো হয়েছে। কিন্তু এলাকার মানুষ দুই দিনও শান্তি পানি পান করতে পারেনি। বর্তমান ওয়াসার পানি টয়লেটে ব্যবহার করা ছাড়া অন্য কোন কাজে ব্যবহার যোগ্য নয়। এছাড়া সোনাকান্দা এলাকার একটি মসজিদের উন্নয়নের ব্যাপারে সংসদ সদস্যের সহযোগীতা কামনা করেন।

শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে এমপি সেলিম ওসমান যা বললেন তাতে রীতিমত বিস্মিত শিক্ষার্থী সহ উপস্থিত এলাকার সাধারণ মানুষ।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের যে দাবী এটা আমারো দাবী। আমি প্রথম তোমাদের মাঝে এসেছি তাই তোমাদের জন্য একটা উপহার সাথে করে নিয়ে এসেছি। তোমাদের স্কুলে শ্রেণী সংকট আর থাকবে না। ছয় তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ৪ তলা একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সরকারের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছি। এ সময় উপস্থিত সকল শিক্ষার্থী একসাথে চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করেন।

তবে সেলিম ওসমান বলেন, তোমাদের দাবী তো পূরণ হয়েছে। তবে সরকারের কাছে আমার দাবী থাকবে এখানে ৬ তলা ফাউন্ডেশনে ৪ তলা নয় ৬ তলা ভবনই নির্মাণ করে দিতে হবে। আর ৩ কোটি টাকা নয় ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে এবং আমি সেটা নিয়ে আসবো। আর বিশুদ্ধ খাবার ও স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট অচীরেই তোমরা পেয়ে যাবে। এ ব্যাপারে আমি স্থানীয় কাউন্সিলর, ও জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক সহ সবাইকে দায়িত্ব দিয়ে গেলাম দ্রুত আমার কাছে পদক্ষেপ গ্রহন করে ব্যবস্থা নেন বাকিটা আমি নিজে করে দিবো।

এলাকাবাসীর দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে সেলিম ওসমান সকলের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন এই দাবী গুলো কি এলাকার সকলের? কারো কোন দ্বিমত নেই তো? তখন উপস্থিত সকলে দু হাত তুলে সায় দিলে তিনি বলেন, আসলে যখন সমস্যা গুলো শুরু হয় তখন আমার কাছে যায় না। যখন প্রোকট আকার ধারন করে তখন আমার কাছে যায়। শুরুতেই আমার কাছে সমস্যা গুলো যদি যেত তাহলে মানুষকে এতো কষ্ট করতে হতো না। ওয়াসার সমস্যার সমাধান হতে হতে হয়তো আমি আর এমপি থাকবো না। তাই ওয়াসার জন্য অপেক্ষা না করে আপাতত বিশুদ্ধ খাবার পানির সমস্যা সমাধানে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১০ লাখ টাকা যা দিয়ে ডিপটিউবওয়েল স্থাপন এবং মসজিদের উন্নয়নের ১৫ লাখ টাকা প্রদান করবো। আপনারা সবাই যদি একত্রিত থাকেন তাহলে যেকোন ধরনের সমস্যা সমাধান করা অসম্ভব কিছু হবে না। যে শিক্ষাটা আমাদের দিয়েছে আমাদের সামনে বসা স্কুল শিক্ষার্থীরা। ওরা সারাদেশে এক হতে পেরে ছিলো বলেই ওদের ৯ দফা এতো দ্রুত বাস্তবায়ন হয়েছে। ওদের এই আন্দোলন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে আমাদেরকে একত্রিত থাকতে হবে এলাকার উন্নয়নে।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মন্ডল, ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, ১৮,১৯,২০নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর শিউলী নওশেদ সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম