Mon, 17 Dec, 2018
 
logo
 

এদের কে দেখবে?

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: কোকাকলা হাতে বসে আছে সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম)। ইতোমধ্যেই অর্ধেকটা খালি করে ফেলেছে এ তরুণ। এসময় হঠাৎ অনুভব হলো বতলটিতে জটকা ধরে টান! পিছনে তাকাতেই শিশুটি দৌরি পালাচ্ছিল।


সোমবার (১৬ জুলাই) দুপুরে নগরীর চাষাঢ়া শহীদ মিনারের চিত্র ছিলো এটি। শুধু ওই শিশুই নয়, এমন আরো অনেক শিশুই এক টাকা-দুই টাকার জন্য পথচারীদের অনুরোধ করছিলো নানাভাবে। কেউ কেউ আবার ঝড়িয়ে ধরছে পা, হাত ও চুল। এতে কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছেল বিভ্রান্তীতে।

এদের কে দেখবে?
শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাস শেষে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দেই এ মিনারে। এসময় প্রায়ই শিশু গুলো এসে বিভ্রান্তী মূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। পকেটে টাকা থাকলে দিয়ে দেই, তবে না থাকলেই বাধেঁ বিপত্তী। তবে শিশুগুলো ছাড়ার পাত্র নয়!

জানা গেছে, কি পরিমান অসহায় ও ছিন্নমূল শিশু নারায়ণগঞ্জে আছে, সে পরিসংখ্যান নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে ২ হাজারের কম হবে না এ জেলার পথশিশুদের সংখ্যা।


এদিকে মানব অধিকারের একজন কর্মী জানান, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা-এই মৌলিক চাহিদাগুলো যথোপযুক্তভাবে পাওয়ার অধিকার তাদেরও আছে। যে বয়সে তাদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা, সেই বয়সে ধারে ধারে ঘুরবে কেন? কথায় আছে, ‘অভাবে স্বভাব নষ্ট’। নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই পথশিশুদের ভবিষ্যৎ যদি এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিনিয়ত চলতে থাকে, তবে বৈষম্যের কারণে অপরাধপ্রবণতা বাড়তে পারে।

এদের কে দেখবে?
সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সিটিজেন চার্টারে দেখা গেছে, শিশুদের যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার দরিদ্র অসহায় ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে হাত দিয়েছে সরকার। এছাড়া ৬ থেকে ৯ বছর বয়সী এতিম শিশুদের জন্য ভর্তি করার পর ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সেবা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে সরকারি শিশু পরিবার কেন্দ্রকে।


এবিষয়ে জেলা সমাজসেবার নারায়ণগঞ্জ জেলা উপ-পরিচালকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম