Wed, 20 Jun, 2018
 
logo
 

না.গঞ্জে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ সদস্যরা

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গত ৮ মার্চ রাতে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা এবং ইয়াবা বিক্রির ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকাসহ গ্রেপ্তার হয় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই আলম সরোয়ার্দী রুবেল। এঘটনায় এএসআই এর সাথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাবিনা আক্তার রুনু নামের এক নারীকেও। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন তদন্ত করছে সিআইডি। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে মাদক ব্যবসায় বিল্লাল, আসাদসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নাম বেরিয়ে এসেছে।

একই মামলায় গত বুধবার রাতে গ্রেফতার হয়েছে রাজবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক বিল্লাল হোসেন ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল আসাদ। ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিল্লালকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া কনস্টেবল আসাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ৮ মার্চ রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রূপালী আবাসিক এলাকার প্রবাসী কামরুল ইসলামের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা এবং ইয়াবা বিক্রির ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই আলম সরোয়ার্দী রুবেল ও সাবিনা আক্তার রুনুকে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন তদন্ত করছে সিআইডি। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে মাদক ব্যবসায় বিল্লাল, আসাদসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নাম বেরিয়ে এসেছে।
সূত্র জানায়, সাবিনা আক্তার রুনুর স্বামী সাইফুল ইসলাম আরিফ ওরফে বাবা আরিফ চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। আরিফ সেখানকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিল। পুলিশের এসআই বিল্লাল, এএসআই রুবেল মুন্সীগঞ্জে কমর্রত থাকা অবস্থায় আরিফ ও তার স্ত্রী রুনুর সঙ্গে সখ্য তৈরি হয়। সেখানে তারা প্রথমে ইয়াবা সেবন করত, পরে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।
২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয় আরিফ। এরপর কারা হেফাজতে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলো। ওই সময় প্রায়ই হাসপাতালে দেখতে যেত বিল্লাল। সর্বশেষ গত ৭ মার্চ বিল্লাল রুনুকে জানায়, ইয়াবার বড় পার্টি আছে। ৫ লাখ টাকা জোগাড় করলেই কাজ নেওয়া সম্ভব। রুনুকে সে আরও জানায়, ওই দিন মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে একটি পার্টি ইয়াবা নিয়ে আসবে। সাইনবোর্ড এলাকায় রুনুর জন্য অপেক্ষা করবে সে। ওই দিন বিকেলে রুনুকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে সেখানে যোগাযোগ করে ইয়াবা সংগ্রহ করতে বলে এসআই বিল্লাল।
এ মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ী শফি ইসলাম ওরফে শফিকের সঙ্গে বিল্লালের যোগাযোগ রয়েছে। তারা ঢাকা, নারায়ণঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৮-১০ জন চালকের মাধ্যমে নিয়মিত ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এসব চালকের মধ্যে রয়েছে, লোকমান, রহিম, মান্নান, সিদ্দিক, রাজ্জাক, হুমায়ূন ও সোহাগ। এই গ্রুপের প্রধানের নাম ইলিয়াছ। ৬ মার্চ ইলিয়াস তার বিশ্বস্ত সহযোগী ছোটনকে ৫০ হাজার ইয়াবা নেওয়ার জন্য চকরিয়ায় নিউমার্কেটের সামনে আসতে বলে। ওই দিন রাত ৯টার দিকে ইলিয়াছসহ চারজন মাইক্রোবাসে নিউমার্কেটে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজন মুখোশ পরা ছিল। এরপর ছোটনের কাছে ইয়াবার একটি ব্যাগ দেয় ইলিয়াছ। ওই সময় তাকে জানানো হয়, রুনু নামে একজন তার সঙ্গে ইয়াবার জন্য যোগাযোগ করবে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ চক্রের সঙ্গে এসআই বিল্লাল ও কনস্টেবল আসাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
এবিষয়ে সিআইডির বিশেষ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, মাদক বেচাকেনায় জড়িত ব্যক্তিদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এখানে কে পুলিশ, কে পাবলিক তা বিবেচ্য বিষয় নয়।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম