Tue, 23 Oct, 2018
 
logo
 

৪ নারীকে ফেরত দিলেন এনায়েতনগর ইউপি সচিব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: রাস্তায় পানি মাড়িয়ে, ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সরকারের দেয়া ৩০ কেজি চাউল আনতে দুপুর ২টার দিকে এনায়েতনগর ইউনিয়নে পৌছে ৪ দুস্থ নারী। তাদের দেখে তেলে বেগুনে জ¦লে উঠে সচিব আব্দুল মালেক মজুমদার।

দেরীতে আসার অজুহাত দেখিয়ে ওই নারীদের তাড়িয়ে দেন তিনি। অথচ এর মাত্র ৫ মিনিট আগে তিনি নিজেই অফিসে এসেছেন। এই ইউনিয়ন সচিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারনে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুরে ওই ৪ দু:স্থ নারী আসেন সরকারি সাহায্যের ভিজিডি কার্ডের মাসিক চাউল নিতে। তার কিছুক্ষন আগে অফিসে আসে মালেক। নিজে দেরী করে অফিসে এলেও বিলম্বের অজুহাত দেখিয়ে ওই নারীদের ধমক দিয়ে চলে যেতে বলেন তিনি। ভুক্তভোগী এক নারী জানান, রাস্তায় হাটু সমান পানি। বেশী রিকশা ভাড়া দিয়ে এসেও ফেরত গেলাম। আরেক নারী বলেন, সচিব মালেক যেভাবে ধমক দিলেন তাতে মনে হলো মাসে ৩০ কেজি চাউল তার বাপের গোলা থেকে দেয়। সরকারি সাহায্যের চাউল নিয়ে তার এত বাহাদুরি কিসের ?

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মালেক সব সময়ই বিলম্বে অফিসে আসেন। দেরীতে এসে যখন খুশী তখনই অফিস থেকে বেরিয়ে যায় সে। তার অনুপস্থিতির কারনে অনেকে নির্দিষ্ট সময়ে সেবা পায়না।

মুসলিমনগরের এক ব্যবসায়ী জানান, ট্রেডলাইসেন্স আনতে আমাকে ৩ দিন যেতে হয়েছে। সচিব না থাকায় এই দেরী বলে জানান তিনি। লৌহ মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী জানান, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেডলাইসেন্স নিয়ে চেয়ারম্যান কোন আপত্তি না করলেও সচিব মালেক দেয়া যাবেনা বলে ১ সপ্তাহ বিলম্ব করেন। পরে তাকে বেশী টাকা দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অসংখ্য। ইউনিয়নের অন্য স্টাফদের সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগে গ্রামপুলিশরা তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগও দিয়েছিলো। ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য স্টাফরা জানান, নিয়মিত মাদক সেবন করে মালেক। ফেনসিডিল, গাঁজা অনেকদিন ধরে খায় সে। যখন নেশার ভেড়া উঠে তখনই অফিস থেকে বেরিয়ে যায়। এসময় কেউ কোন কাজের কথা বললে ক্ষেপে যায় মালেক। তারা আরও জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান অপরিপক্ক বলে তার উপর ছড়ি ঘুড়ায় মালেক।

এবিষয়ে জানতে ইউপি সচিব আব্দুল মালেক মজুমদারের সাথে যোগাযোগের জন্য জেলা তথ্য বাতায়নে দেওয়া ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করলে রাগান্বিত হয়ে বলেন, ‘আপনার কি খাইয়া দাইয়া কোন কাম নাই, কারে ফোন দিয়েছেন, রং নাম্বার।’

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম