Wed, 23 May, 2018
 
logo
 

ফুটপাতের নিয়ন্ত্রক এনসিসি কাউন্সিলর ফারুক!


লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জের ফুটপাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক। চাঁদাবাজী নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশাল বাহিনী গঠন করে চিটাগাং রোডের রেন্ট এ কার মাঠ থেকে ডাচ বাংলার মোড় পর্যন্ত। প্রায় ৪শ দোকানে একক কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে এ জনপ্রতিনিধি।

অভিযোগ উঠেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সাথে মাসোহারা চুক্তির মাধ্যমে এই বিশাল চাঁদাবাজী এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন ওই কাউন্সিলর। সম্প্রতি চাঁদাবাজীর সময় দুলাল নামে এক চাঁদাবাজকে হকার ও এলাকাবাসী ধরে পুলিশে দিলেও কয়েক ঘন্টা পর কাউন্সিলর ওমর ফাররুকের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
জানা গেছে, সড়ক ও জনপথের এই বিশাল জায়গায় ৪ শতাধিক হকার ভাসমান দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। আর এই হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ৪/৫ শ টাকা চাঁদা নিচ্ছে কাউন্সিলর ওমর ফারুকের নিয়োজিত লোকজন। এতেকরে দৈনিক লাখ টাকা চাঁদাবাজী হচ্ছে কাউন্সিলর ফারুকের নিয়ন্ত্রণে। শুধু তাই নয়, অসুখ বিসুখ বা কোন কারনে এক দুদিন হকার না আসলে তার দোকান অনজনের কাছে ২০/৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় ফারুকের লোকজন। প্রতিবাদ করলে চালানো হয় নির্যাতন। মালামাল ফেলে দিয়ে করা হয় উৎখাত।
সম্প্রতি হকাররা চাঁদাবাজীর সময় হাতে নাতে ধরে চাঁদাবাজ দুলালকে ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সোপর্দ করলেও কাউন্সিলর ফারুকের নির্দেশে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ছাড়া পেয়ে ফের ফুটপাতে চাঁবাজীতে মেতে উঠেছে দুলাল। শুধু দুলাল নয়, ফুটপাতের নিয়ন্ত্রক কাউন্সিলর ওমর ফারুকের ডানহাতখ্যাত ইয়াসিন, শামীম, করিম, সোহেলসহ ২০/২৫ জনের বিশাল বাহিনী ফুটপাতে চাঁদা আদায়সহ শত শত হকারদের শোষন করছে।
এলাকাবাসী জানায়, অবৈধ টাকার জোরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (এনসিসি) সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হয়ে জনসেবার পরিবর্তে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে জনগণের অতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বহু বিতর্কিত পদহীন যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক। দীর্ঘ দিন ধরেই তার বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও টাউট মাদবরি করার অভিযোগ। একাধিকবার আটক হলেও রহস্য জনক কারণে ছাড়া পেয়ে যায়। সম্প্রতি ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে মনিরুল ইসলাম খোকন নামে একব্যক্তির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর, লাটপাট ও হত্যার হুমকি প্রদানের অভিযোগে কাউন্সিলর ফারুককে প্রধান আসামী করে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও পুলিশ আসামি গ্রেফতার করতে পারছেনা। অপকর্ম ছেড়ে ভাল মানুষ হয়ে জনসেবা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাউন্সিলর হয়েও ফারুক চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।
চাঁদাবাজ দুলালকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার পর সে ও কাউন্সিলর ফারুকের নিয়োজিত বাহিনী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এব্যাপারে এনসিসি ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর ফারুক লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শোচ্চার। তাই আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার হচ্ছে। চাঁদাবাজীতে জড়িত যাদের নাম এখানে বলা হচ্ছে তাদের আমি চিনি না। এরআগে এক চাঁদাবাজকে ধরে পুলিশে দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে লেগেছে প্রকৃত চাঁদাবাজরা। তারা আমার নামে মিথ্যা মামলা পর্যন্ত করেছে। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করবো যদি কেউ আমার নাম বলে চাঁদাবাজী বা অন্য কোন অপকর্ম করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম