Wed, 12 Dec, 2018
 
logo
 

ইঞ্জিঃ ফারুকের আত্মহুতি: কী ছিল লাশের সঙ্গে চিরকুটে

লাইভ নারায়ণগঞ্জ:‘আমার লাশ যেনো বন্দরে না নেয়া হয়’ ট্রেনের নীচে পড়ে আত্মহুতি দেয়া বন্দরের আলোচিত ৩৬০ ডিগ্রী এঙ্গেলের মালিক ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের লাশের পাশে পাওয়া চিরকুটে লেখা ছিলো কথাটি। এর দুদিন আগে শুক্রবার বন্দরের পাওনাদার মিয়া সোহেলের মোবাইল ফোনে ম্যাসেজে লিখেছিলেন ‘টাকার জন্য বেশী চাপ দিলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবে’।

এর দুদিন পরই ঢাকার মগবাজার রেল ক্রসিং এ ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে জীবনের ইতি টানেন আলোচিত ফারুক। এনিয়ে বন্দরে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ফেইজবুকেও পক্ষে বিপক্ষে চলছে নানা আলোচনা। তবে সার্বিক আলোচনায় এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মিয়া সোহেল নামে এক ব্যক্তির অব্যাহত চাপের কারণেই আত্মহুতি দিতে বাধ্য হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ফারুক।
মিয়া সোহেল, তার ভাই আক্তারসহ বেশ কয়েকজনের নামে কিছুদিন আগে বন্দর থানায় জিডি করেন নিহত ফারুকের স্ত্রী পলি বেগম। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাবসায়ীক হিসাব ও লেনদেন নিয়ে পাওনা টাকার জন্য বন্দর উইলসন রোড এলাকার মৃত আসাদ মিয়ার ছেলে মিয়া সোহেল ব্যাপক লোকজন নিয়ে তার বাড়ী ইঞ্জিনিয়ার ভিলায় চড়াও হয়। ফলে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের আত্মহুতির জন্য মিয়া সোহেলকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিএনপির সাবেক এমপি কালামের ভাই মিয়া সোহেলের কারণেই আত্মহত্যা করেছেন ইঞ্জিনিয়ার ফারুক। আবদুল আওয়াল সোহেল নামে একজন কমেন্টে লিখেছেন, মিয়া সোহেল নিহত ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের মেয়ের শ্বশুর। তিনি লিখেছেন, আমিও চাই ফারুকের আত্মহত্যার পিছনের রহস্য উন্মোচিত হউক কারন এই ফারুক কে অনেকে চুষেছে, ফারুকের বাসায় বড় বড় পার্টি হয়েছে, ফারুক আমাদের সিরাজদোল্লাহ ক্লাব মসজিদ, দিঘিরপার মসজিদ সহ অনেক বিষয় এ অনেক দান খয়রাত যখন করতো তখন ফারুকের শুভাকাঙ্ক্ষীর আর পদলেহন করার মানুষ এর অভাব ছিলো না, আবার শুনেছি যারা ফারুকের চাকুরি করতো তারাও নাকি ফারুকের কাছে কোটি টাকা পাইতো। তাই নির্ভুল তদন্ত করে প্রকাশ করা হউক, এ ঘটনার মুল কারন যাহাতে ফারুকের বউ বাচ্চা ভবিষ্যৎ এ ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়া সোহেল ইতিপূর্বে সূদের টাকার জন্য কয়েকজনের বসতবাড়ী পর্যন্ত জোর করে লিখে নিয়েছে। প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মিয়া সোহেল এলাকায় নিজস্ব বাহিনী দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সূদের ব্যাবসাসহ নানা অপকর্ম করে আসছিলো। সে এতই লোভী যে, ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের বিপুল টাকা ও বিত্ত বৈভব দেখে তার নাবালক ছেলের সঙ্গে ফারুকের নাবালক মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত দেয়। এলাকায় দুজন বেয়াই হিসেবেই পরিচতি ছিলো। বন্দর খানবাড়ী সংলগ্ন এলাকায় বাড়ী (ইঞ্জিনিয়ার ভিলা) তৈরী করা হঠাৎ বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক ইঞ্জিনিয়ার ফারুককে সূদের জালে ফেলে নিঃস্ব করে ছেড়েছে মিয়া সোহেল। যে ১ কোটি টাকা মিয়া সোহেল পাওনা বলে দাবি করা হচ্ছে সেটিও সূদের টাকা। এই টাকার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্যাডার বাহিনী এনে উইলসন রোডের ইঞ্জিনিয়ার ভিলা কয়েকবার ঘেরাও করে মিয়া সোহেল। নানাভাবে বাড়ী লিখে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় ফারুকের স্ত্রী পলি বেগম বন্দর থানায় ডাইরী করেও কোন প্রতিকার পায়নি।
নিহত ইঞ্জিনিয়ার ফারুক বন্দরের এনসিসি ২২নং ওয়ার্ডের ৫১২/৩উইলসন রোড এলাকার মৃত রকিব হোসেনের পুত্র। সে ২ কন্যা সন্তানের জনক। এর আগে তিনি পাওনাদারদের ভয়ে বেশ কয়েকদিন যাবত অন্যত্র আত্মগোপনে ছিলেন। তার পরিবার থেকে আরো জানানো হয়, স্থানীয় পাওনাদাররা তাকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করছিল। এতে সে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। এমনকি পাওনাদারদের মধ্য থেকে মিয়া সোহেল নামে জনৈক ব্যবসায়ীর মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠানো হয় যে যদি তাকে অতিরিক্ত চাপ দেয়া হয় তাহলে সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হবে। এরপর পরই সে রোববার বিকেলে মগবাজারে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে রেলওয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। খবর পেয়ে স্বজনরা তার দ্বি-খন্ডিত দেহ মর্গ থেকে নিয়ে আসে। লাশের পাশে পাওয়া চীরকুটে ইংরেজীতে লেখা ছিলো ‘আমার লাশ যেনো বন্দরে না নেয়া হয়, টাঙ্গাইলে দাফন করা হয়’।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম